NotunBlog
নতুনBlog » সাহিত্য » কবিওয়ালা পথিক

কবিওয়ালা পথিক

কবিওয়ালা পথিক

========================

কবিওয়ালা পথিক,শান্ত পথঘাট,ঝুম বরষা,পরনে রেইনকোট,বিন্দু বিন্দু জলের ফোটা,ল্যাম্পপোষ্ট ঠাই দাঁড়িয়ে কত জনমের শর্তহীন প্রতীক্ষায়…।।




এমনই এক রাতে প্রেমিকার ঠোঁটে মহাকাব্য রচনা করেছিলো ক্লান্ত যুবক।

একটা মেহগনি গাছের নিচে ঝোপের আবরণে মিশে গিয়েছিলো দুরতিক্রম্য আগুনজ্বলা ভবিষ্যত । যুবকের পায়চারিতে আন্দোলিত হয়েছিলো পশ্চিমের ভিটের চারিপাশ।আনন্দে তোতলাতে তোতলাতে চোখের জল গোপন করতে পেরেছিলো সে।মেঘ ঘনিয়েছিল কিছুক্ষণ বাদেই।

সে রাতে আমার খুব ঘুম পেয়েছিলো।



 




কামনা-বাসনার অন্তরালে স্বচ্ছ কিছু চাওয়া উঁকি দিতে গিয়েও লজ্জাবতীর মত অতি সন্তর্পণে মুখ লুকিয়েছিলো যুবকের অচেনা প্রেমিকা…

লাজহীন হতে চাওয়ার বিপরীতে আরক্তিম লালচে গাল বেয়ে ধীর লয়ে সিঁড়ি বেয়ে নদীর পানে নেমেছিলো নদীপাড়ের নববধূ, নদীস্নানের সুখ নিয়ে চিরকাল অমর থাকতে চাইতো সে…

রাত হতেই ফিরে আসতো তার স্বামী । আদরের লোভে আর নববধূর সাথে জমে থাকা কিছু আদুরে হিসেব মিলাতে খুব তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরতে অস্থির থাকতো সে…






সে রাতে আমার চোখ ভেঙ্গে ঘুম পেতো। চোখের নদী ছুঁয়ে শীতল দখিনা হাওয়ার উচ্ছ্বাসে দ্রবীভূত হতাম আমি।

কবিওয়ালা পথিক, ঝুম বরষা, রাতের শহর,চশমার কাঁচে ঝাপসা অতীত, এক কাপ চা কিংবা একটা সিগারেট গল্প রচনার নিত্য সঙ্গী…

এক হাতে ফোন,বুকের একপাশে আন্তঃনগর ট্রেনের ঝকঝকানির ছন্নছাড়া সুর, একটা স্কুলপড়ুয়া বাচ্চা,মায়ের কাছে গোল্ডফিশের অ্যাকুরিয়ামের বায়না,আকুরিয়ামের নিরীহ মাছ মায়ের সুদূর অতীতের অস্বীকৃত প্রেম মিলেমিশে একাকার,অটোর হুইসেল,অশান্ত বিকেল,মায়ের ঘরে ফেরা,দুমড়ানো কিছু স্বপ্ন অশুভ কিছুর পাঁয়তারা,নবজাতকের গোলাপি মুখ রাতের গভীরতা কমিয়ে দেয়…






সে রাতে আমার চোখে মহাবিশ্বের সকল ঘুম আছড়ে পড়ে ।আমি শূন্যে তলিয়ে যাই, আমার নবজাতক হয়ে যেতে ইচ্ছে করে। কুঁই কুঁই শব্দে মায়ের ঘুম ভাঙ্গাতে আমার ছোট্ট বুকটা ফেটে চৌচির হয়।

কবিওয়ালা পথিক, রাতেরর ষ্টেশন, জনসমুদ্র,প্রেমিকের আত্নহননের রেললাইন…

আজ শুক্রবার,বহুকাল আগের এক শুক্রবারে ঘর ভেঙ্গেছিলো সুবোধের,ছ’মাসের সংসার, পুতুলের মত বউ,রাতদিন আগলে রাখতো হাঁসের বাচ্চার মত,কাক কিংবা বাজপাখির থাবা,একরাতে পৃথিবী কাঁপিয়ে ঝড় আসে, সুবোধ পালিয়ে যায়…

আষাঢ়ে জন্ম নেওয়া সুবোধ শ্রাবণের বর্ষাতে মাথা অবধি তলিয়ে যায়,একজোড়া ডাহুক ভিজে ভিজে দিশেহারা…






আকাশপথে অজস্র ছায়াপথ, নীহারিকা,ঠোটের কোণে ঝুলে থাকা তারা…

এমনই এক রাতের সুখে আমার বেহুঁশ ঘুম দিতে ইচ্ছে করে আমার।আমি সবকিছু ভুলে যাই।আমার ভুলে যেতে ভালো লাগে।যেমন ভালো লাগতো ছেলেবেলার অযথায় পেটব্যাথা,পড়াফাঁকি।

আমার পুনর্বার জন্ম নিতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে শুঁটকি বিলের শালুক ফুল কিংবা পুঁটিমাছ হয়ে যাই,অকারণে ছুটাছুটি করি।






আমি সুবোধ হয়ে ফিরে আসি।

জীবন আমাকে ছুটি দেয়নি।আমি একটা ঘাসফড়িঙ হয়ে ষ্টেশনের কোলাহলে মিশে যাই।

ট্রেন আসছে…ভেসে আসছে টগবগে সাইরেন






আমার খুব ঘুম পাচ্ছে, জন্মান্তরের ঘুম,চৌধুরি বাড়ির বাজারের ফর্দের মত লম্বা ঘুম,প্রেমিকার অভিমানের মত অযৌক্তিক ঘুম।

শুভ্র

২০.১০.২০১৭

shuvro

বেঁচে থাকতে ভালোবাসি।

3 টি মন্তব্য

সংযুক্ত থাকুন​

সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে সকল আপডেট গুলো সবার আগে পান!

Cart

libero. elementum ultricies porta. ut justo elit. pulvinar accumsan dolor