Back

এন্ড্রয়েড-টিকবেতো?

এন্ড্রয়েড নাম শুনেন নি, এ যুগে এমন মানুষ মিলবেনা। স্মার্টফোন বলতেই এন্ড্রয়েড এমন একটা ধারণা আমাদের মনে গেঁড়ে বসেছে। স্মার্টফোন সম্পর্কে যাদের ধারণা নেহায়েৎ কম তারা অবশ্য আইফোনকেও এন্ড্রয়েড ভাবেন। এন্ড্রয়েড সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাক।
গুগল এন্ড্রয়েডের সার্বিক উন্নয়ন করে থাকে তবে এন্ড্রয়েডের উদ্ভাবক গুগল না। এন্ডি রুবিন নামের জনৈক ভদ্রলোক এন্ড্রয়েডের আবিষ্কারক।

আইওএস(আইফোনের অপারেটিং সিস্টেম) আবিষ্কারের ঠিক এক বছর পর এন্ড্রয়েডের জন্ম। লোকে বলে এন্ড্রয়েডের জন্মের পেছনে নাকি আইওএসের হাত আছে। সেটা অন্য প্রসঙ্গ। তবে এন্ড্রয়েড ব্যবহারকারীকে যে স্বাধীনতা দিয়েছে, এন্ড্রয়েড ওইএমদের যে সুবিধা দিয়েছে তা এযাবৎ কোন অপারেটিং সিস্টেম দিতে পারিনি। (আমি কিন্তু গুগলের ফ্যান। তবে ফ্যান না হলেও এন্ড্রয়েডের ভক্ত আমি হতাম। )

এন্ড্রয়েড মূলত টাচভিত্তিক অপারেটং সিস্টেম, এটি ওপেন সোর্স মানে যে কেউ সম্পাদনা করার অধিকার রাখে, এন্ড্রয়েডের কমান্ড পদ্ধতির সাথে বাস্তবের মিল রয়েছে-এসব তাত্ত্বিক কথা, না জানলেও কিছু যায় আসেনা।

আসল কথায় আসি। আমরা একেক জন একেক ম্যানুফ্যাকচারের মোবাইল ফোন ব্যবহার করি। কেউ স্যামসাং, কেউ এইচটিসি, কেউ শাওমি, কেউ হুয়াওয়ে, সিম্পোনি, ওয়ালটন, ওয়ানপ্লাস, অপ্পো ব্যবহার করেন। দেখবেন ইউজার ইন্টারফেসের ক্ষেত্রে এক ব্র‍্যান্ডের মোবাইলের সাথে অন্য ব্র‍্যান্ডের মোবাইলের মিল নেই, মিল নেই ফিচারের ক্ষেত্রেও। এমনকি স্যামসাং এর প্রাইস রেঞ্জ অনুযায়ী তাদের সেটগুলোতেও ফিচার আলাদা আলাদা, ইউজার ইন্টারফেসও।

গুগল কতৃক যে এন্ড্রয়েড এর সোর্স কোড গিটহাবে দেয় অন্যান্য ডেভেলপারপদের বা ওইএএমদেএর জন্যে তা হচ্ছে এওএসপি(এন্ড্রয়েড ওপেন সোর্স প্রজেক্ট) বা পিউর এন্ড্রয়েড। স্টক এন্ড্রয়েড বা নেক্সাস এন্ড্রয়েড, ভেনিলা এন্ড্রয়েড যাই বলেন অই একই কথা। এ স্টক এন্ড্রয়েড(কোন মডিফিকেশন ছাড়া) ব্যবহৃত হয় গুগলের নেক্সাস সিরিজ আর পিক্সেল ফোনগুলোতে।

দেখুনঃ

বর্তমানে নকিপয়ার নতুন ফোনগুলোতে এবং ওয়ানপ্লাসের ফোনগুলোতেও প্রথমে পিউর এন্ড্রয়েড ব্যবহৃত হতো। মটোরলা, ওয়ানপ্লাস, সিম্পোনি এসব সেটে এখনও মোটামুটি স্টকের কাছাকাছি ইউজার ইন্টারফেস ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন কাস্টম রম যেমন লিনিয়াজ ওএস, রিসারেক্সান রিমিক্স, প্যাচ ম্যান রম আর ফিইউয়াই রমও মূলত স্টকের সাথে শুধুমাত্র কিছু বাড়তি ফিচার‍যুক্ত অপারেটিং সিস্টেম।

স্টক এন্ড্রয়েডে সাধারনত অনেক কম ফিচার থাকে, যেখানে স্যামসাং এর ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলো মানে ভুড়ি ভুড়ি ফিচার। যেহেতু এন্ড্রয়েড একটি ওপেন সোর্স প্রজেক্ট তাই যেকোন ম্যানুফ্যাকচারার এটিকে তাদের ডিভাইসে ব্যবহার উপযোগী করার জন্যে প্রয়োজনীয় মডিফিকেশন করতে পারে। এ মডিফিকেশনের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো বাজারের অন্যান্য প্রতিযোগী থেকে নিজেকে আলাদা করা এবং বাড়তি কিছু সুবিধা যোগ করা। অনেক সুবিধে যা ম্যানুফ্যাকচারেরা দেয় তা পিউর এন্ড্রয়েডে আসতে অনেক বছর লেগে যায়।

যেমন স্পলিট স্ক্রিনের যে সুবিধে স্যামসাং কিটক্যাটে দিয়েছিলো তা গুগল এড করেছে নুগাটে। তবে পিউর এন্ড্রয়েডে বাড়তি এবং অপ্রয়োজনীয় কিছু না থাকায় এটার স্পিড অনেক ভাল, বাগও থাকেনা। এবং অন্যান্য মডিফাইড এন্ড্রয়েড ভার্শনগুলোতে প্রচুর বাগ থাকে এবং অনেক অনেক ফিচারে জগা খিচুরি হয়ে তা অনেক সময় ব্যবহারকারীকে সন্তুষ্ট করার বদলে বিরক্তই করে।

দেখুনঃ

একদিকে স্টক এন্ড্রয়েডে ফিচারের সীমাবদ্ধতা অন্যদিকে ওইএমদের ব্যবসায়ের স্বার্থে এবং অন্যান্য কারণে কিছু স্বাধীনতা হরণ অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের জন্যে অন্যতম বাধা হলেও, এন্ড্রয়েড সে সমস্যায় সমস্যাগ্রস্ত নয়। এন্ড্রয়েড মানে রুট এক্সেস। রুট এক্সেস ব্যবহারকারীদের খুলে দেয় কাস্টমাইজেশনেরঅন্য এক দুনিয়া। তাই মাঝেমধ্যে এন্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা— মজা করে বলে, আইফোনে কাস্টমাইজেশন ফিচার আছেতো—ওয়ালপেপার পালটানো যায়।

এন্ড্রয়েডের জন্যে বেশ কিছু ডেভেলপার আছে যারা মূল সোর্স কোড মডিফাই করে তা সবার জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়। এগুলোকে বলে কাস্টম রম। এন্ড্রয়েড এত বেশি কাস্টমাইজেবল যে আপনি আপনার মোবাইলের মূল অপারেটিং সিস্টেম অন্য একটা সিস্টেম ফাইল দিয়ে রিপ্লেস করতে পারবেন। আর একবার মোবাইলে কাস্টম রম দিলে এত বেশি ফিচার আর স্বাধীনতা আপনি পাবেন যা একজন সাধারণ ব্যবহারকারী কল্পনাও করতে পারবেনা—নেটিভ থিম সাপোর্ট(ইউ ক্যান কাস্টমাইক এভরিথিং অব ইউর ডিভাইস),FLAC অডিও কোডেক সাপোর্ট, সিপিউ অভারক্লক করে মোবাইল ফাস্ট করতে পারবেন, আন্ডারক্লক করে চার্জ সেভ করতে পারবেম, ইনবিল্ট রুট এক্সেস(সব রমে নেই), নেভিগেশন বাটন কাস্টমাইজেশন, নোটিফিকেশন বার এডিটিং, বুট লগো চেঞ্জ, ডলবি এটম সাউন্ড।

এছাড়া লিনিয়াজ ওএস এর ইনবিল্ট কিছু এপ থাকে যা সত্যিকার অর্থে কিছু ফিচার দেয় যা অন্য রমে পাওয়া যায়না।

আসলে সত্যি কথা বলতে কি, এন্ড্রয়েডের মত আরেকটা অপারেটিং সিস্টেম আগামী বিশ বছরেও আসবে না।

nafitol
nafitol