জ্যোতির্বিদ্যাঃ মহাবিশ্বের বিজ্ঞান

জ্যোতির্বিদ্যা একটি প্রাচীনতম বিজ্ঞান। আকাশ দেখে আমাদের মহাবিশ্বকে জানার মৌলিক তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞানের উৎপত্তি। জ্যোতির্বিজ্ঞান দুটি অংশে ভাগ হয়ে গিয়েছে: পর্যবেক্ষণিক জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং তাত্ত্বিক জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান। প্রথমটির কাজ হল উপাত্ত সংগ্রহ করা, যার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত যন্ত্র তৈরি ওর এর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ। দ্বিতীয়টির মূল বিষয় হচ্ছে এই পর্যবেক্ষণগুলোর সাপেক্ষে উপযুক্ত নকশা প্রণয়ন বা কম্পিউটার নকশায় এর রুপদান। পর্যবেক্ষণিক জ্যোতির্বিজ্ঞান যেকেউ শখের বশেই শুরু করলেও এভাবেই কিন্তু মূল জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা শুরু হয়।

এমন জ্যোতির্বিদ্যা জ্ঞানশূন্য লক্ষাধিক মানুষ রয়েছে যারা তাদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে প্রতিদিন উপভোগের জন্য নক্ষত্রপুঞ্জ পর্যবেক্ষন করছে। আবার এমন অনেক অভিজ্ঞ এই বিজ্ঞান চর্চা করলেও এটি তাদের জীবনধারনের পথ হতে পারেনি।

আরো পড়ুনঃ মহাকাশের শুরু কোথায়?

প্রফেশনালি প্রায় ১১,০০০ দক্ষ জ্যোতির্বিজ্ঞানী তাদের রিসার্চ চালু রেখেছে।  তাদের এই রিসার্চের ফলাফলই কিন্তু আমাদের এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সম্পর্কিত ধারনা বদলে দিচ্ছে। এবং এই কারণে কৌতুহলেরব কিন্তু শেষ নেই, কিভাবে এই মহাবিশ্বের উৎপত্তি বা এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কি রয়েছে এবং কিভাবে সেইসব জায়গায় পৌঁছানো যায় ইত্যাদি।

জ্যোতির্বিদ্যা -র ধারনা

জ্যোতির্বিদ্যার কথা শুনলে মনে হয় নক্ষত্র বা তারাদের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার কথা। অবশ্য এভাবেই কিন্তু শুরু হয় এই বিদ্যার চর্চা।  ইংরেজি Astronomy শব্দের উৎপত্তি হয় পুরনো দুটি গ্রীক টার্ম থেকে। একটি হল astron যার অর্থ নক্ষত্রপুঞ্জ অন্যটি হল nomia যার অর্থ আইন। অর্থাৎ,  Astronomy মানে হল নক্ষত্ররাজির আইন বা পথ। জ্যোতির্বিজ্ঞানের পুরনো ইতিহাস যেমন নক্ষত্ররাজির অনুসরন, রেখা টানা ইত্যাদির মাধ্যমে মহাজাগতিক বস্তুকে পর্যবেক্ষন বোঝা যায়।

জ্যোতির্বিদ্যা
রেখা টেনে জ্যোতির্বিদ্যার চর্চা

প্রারম্ভিক সময়ে জ্যোতির্বিজ্ঞান শুধুমাত্র খালি চোখে বস্তুর গতি পর্যবেক্ষণ এবং পূর্বাভাস এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিছু কিছু স্থানে প্রাথমিক সংস্কৃতি বিপুল সংখ্যক বস্তু সংগ্রহ করেছিল। যা সম্ভবত কিছু জ্যোতির্বিদ্যাগত উদ্দেশ্য ব্যবহার করা হয়েছিল। অধিকন্তু তাদের আনুষ্ঠানিক কিছু ব্যবহার ছিল, যেমন- এই পর্যবেক্ষণগুলি ঋতু নির্ধারণের জন্য নিযুক্ত করা যেতে পারে, ফসল চাষ করার সময় এবং সেইসাথে বছরের দৈর্ঘ্যকে বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এটি ।

নক্ষত্র

তাহলে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা কোন উপাদান নিয়ে এত জল্পনা কল্পনা করতো? নক্ষত্র দিয়ে শুরু করা যাক। মিল্কিওয়ে ছায়াপথের দশ সহস্রেরও বেশি নক্ষত্ররাজির মধ্যে সূর্য একটি নক্ষত্র। মিল্কিওয়ে নিজেও অগনিত ছায়াপথের মধ্যে একটি। প্রতিটি ছায়াপথেও আবার অসংখ্য নক্ষত্রপুঞ্জ আছে। ছায়াপথ নিজেরা ক্লাস্টার এবং সুপারক্লাস্টারের মধ্যে একত্রিত হয়ে বিশাল রূপ ধারণ করে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে এটিকে বলা হয় “মহাবিশ্বের বড় আকারের গঠন”

নক্ষত্র নিয়ে বিস্তারিত আর্টিকেলটিতে চোখ বুলিয়ে নিন।

গ্রহাণুপুঞ্জ

গ্রহপুঞ্জ
গ্রহানু এবং অতলশূন্যের উপাদান

আমাদের নিজস্ব সৌর সিস্টেম গবেষণার জন্য একটি সক্রিয় উপাদান। প্রাথমিক পর্যবেক্ষক লক্ষ্য করেন যে, বেশিরভাগ তারকা স্থানান্তরিত হয় নি। কিন্তু, এমন বস্তুগুলি ছিল যা তারাগুলির ঘূর্ণির বিরুদ্ধে ঘোরাফেরা করছে। কিছু খুবই ধীরগতিতে আবার কিছু দ্রুত। পর্যবেক্ষকরা এদের Planetes নামে নামকরণ করে। গ্রীক ভাষায় যাকে Wanderers বা পর্যটক বলা হয়। যাকে সহজ ভাষায় আমরা গ্রহ বলি।  এছাড়া গ্রহাণু এবং ধূমকেতু নিয়েও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

অতল মহাশূন্য

শুধুমাত্র গ্রহ বা নক্ষত্রই আমাদের ছায়াপথে ভীড় জমায় নি। অসংখ্য বিশাল বিশাল মেঘ এবং গ্যাসও কিন্তু ছায়াপথে বিরাজ করছে। এসব জায়গাতেই নতুন নক্ষত্রের জন্ম হয় আবার মৃত্যুও হয়। অদ্ভুতভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বা মৃত নক্ষত্র গুলোই কিন্তু নিউট্রন স্টার বা ব্ল্যাক হোল। তারপরে, কাসার, এবং অদ্ভুত “প্রাণী” যাকে চুম্বক বলা হয়, পাশাপাশি সংঘর্ষের ছায়াপথ, এবং আরও অনেক কিছু(!)

মহাবিশ্ব নিয়ে ঘাটাঘাটি

বুঝতেই পারছেন, জ্যোতির্বিজ্ঞান একটি জটিল বিষয় হিসাবে পরিণত হয়েছে এবং এক্ষেত্রে মহাবিশ্বের রহস্যগুলি সমাধান করতে অন্যান্য বিজ্ঞানেরও সহায়তার প্রয়োজন আছে। জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়গুলির সঠিক গবেষণার জন্য, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গণিত, রসায়ন, ভূতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞানের দিকগুলি একত্রিত করে। জ্যোতির্বিদ্যা বিজ্ঞানকে পৃথক উপ-শৃঙ্খলা মধ্যে ভাগ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, গ্রহবিজ্ঞানী সৌরজগতের পাশাপাশি দূরবর্তী তারাকে ঘিরে থাকা পৃথিবী  (গ্রহ, চাঁদ, রিং, গ্রহাণু এবং ধূমকেতু) নিয়ে গবেষণা করেন। সৌর পদার্থবিজ্ঞানী সূর্য এবং সৌরজগতের উপর তার প্রভাবগুলিতে মনোযোগ দেয়। তাদের কাজ যেমন অগ্নিতরঙ্গ, ভর ইনজেকশনস, এবং সানস্পট হিসাবে সৌর কার্যকলাপের পূর্বাভাস দিয়ে সাহায্য করে।

সকল রহস্যের সমাধান করে তথ্য একীভূত করা

এস্ট্রোফিজিসিস্ট, নক্ষত্র কিভাবে কাজ করে তা ব্যাখ্যা করার জন্য নক্ষত্র এবং ছায়াপথের গবেষণায় পদার্থবিদ্যা প্রয়োগ করে।  মহাবিশ্বের বস্তু ও প্রক্রিয়াগুলি থেকে প্রাপ্ত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিগুলি অধ্যয়ন করতে রেডিও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা (রেডিও জ্যোতির্বিজ্ঞান দৃশ্যমান পরিসীমার বাইরে বিকিরণ ব্যবহার করে যা প্রায় এক মিলিমিটারের চেয়ে বেশি তরঙ্গদৈর্ঘ্য। রেডিও জ্যোতির্বিদ্যা বেশিরভাগ পর্যবেক্ষণ জ্যোতির্বিজ্ঞান থেকে আলাদা, যেটি পর্যবেক্ষণকৃত রেডিও তরঙ্গকে আলাদা ফোটনসের পরিবর্তে তরঙ্গ হিসেবে গণ্য করা যায়।) রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে। অতিবেগুনী, এক্সরে, গামা-রে, এবং ইনফ্রারেড জ্যোতির্বিজ্ঞান (ইনফ্রারেড জ্যোতির্বিদ্যা ইনফ্রারেড বিকিরণ সনাক্তকরণ এবং বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাছাড়া তরঙ্গদৈর্ঘ্য যা লাল আলোর চেয়ে ব্যাপক এবং আমাদের দৃষ্টি পরিসীমার বাইরে তা সনাক্ত করার জন্য এই জ্যোতির্বিদ্যা ব্যবহৃত হয়।) আলোর অন্যান্য তরঙ্গদৈর্ঘ্যের মহাজাগতিক প্রকাশ করে। এস্ট্রামেট্রি হলো বস্তুর মধ্যে স্থান দূরত্ব পরিমাপের বিজ্ঞান। গণিতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাও সংখ্যাগুলি, গণনা, কম্পিউটার এবং পরিসংখ্যান ব্যবহার করে যা অন্যান্য মহাবিশ্বের মধ্যে কী পরিলক্ষিত হয় তা ব্যাখ্যা করে।

অবশেষে, মহাবিশ্ববিদরা প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর জুড়ে তার উৎস এবং বিবর্তনকে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করার জন্য সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে অধ্যয়ন করেন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের সরঞ্জামাদি

জ্যোতির্বিদ্যা
প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সমেত একটি স্টেশন

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা শক্তিশালী দূরবীনগুলির সাথে সজ্জিত ওপরেটোরিগুলি ব্যবহার করে যা মহাবিশ্বের ধীর এবং দূরবর্তী বস্তুর দৃশ্যকে বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে। তারা নক্ষত্রের বর্ণ, গ্রহ, ছায়াপথ, এবং নেবুল্ল থেকে আলোর বিভাজন করতে এমন কিছু যন্ত্রগুলি ব্যবহার করে যা নক্ষত্র কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে আরও বিশদভাবে প্রকাশ করে। বিশেষ আলোর মিটার (ফটোমোটার্স) সাহায্যে তারকীয় উজ্জ্বলতা পরিমাপ করা যায়।

বোনাস

জ্যোতির্বিজ্ঞানের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উন্নতি ছিল গাণিতিক এবং বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে যা বেবিলনীয়দের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল । এটি পরবর্তী জ্যোতির্বিদ্যার ঐতিহ্যগুলির ভিত্তি স্থাপন করেছিল যা পরে অন্যান্য সভ্যতার মধ্যে উদ্ভূত হয়েছিল। বেবিলনীয়রা আবিষ্কার করেছিলেন যে চন্দ্রগ্রহণগুলি একটি পুনরাবৃত্ত চক্রের মধ্যে সম্পন্ন হত যা সারোস নামে পরিচিত।

বেবিলনীয়দের অনুসরণ করে জ্যোতির্বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি প্রাচীন গ্রীস এবং হেলেনীয় বিশ্বের মধ্যে তৈরি করা হয়েছিল। গ্রীক জ্যোতির্বিদ্যা মূলত স্বর্গীয় ঘটনাগুলির জন্য একটি যুক্তিসঙ্গত এবং শারীরিক ব্যাখ্যা চাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল। খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীর দিকে সামোস এর আরিস্টার্খস চন্দ্র এবং সূর্যের আকার এবং দূরত্ব অনুমান করেছিলেন, এবং সৌরজগতের একটি সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন ।

ছায়াপথের অসংখ্য নক্ষত্রপুঞ্জ

খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতাব্দীতে হিপ্পার্কাস অয়নচলন আবিষ্কার করেছিলেন। তাছাড়া চাঁদের আকার এবং দূরত্ব গণনা করেছিলেন এবং সর্বপ্রথম জ্যোতির্বিদ্যার জন্য যন্ত্র যেমন অস্ট্রোল্যাব আবিষ্কার করেছিলেন । হিপ্পার্কাস ১০২০ টি নক্ষত্রের একটি বিস্তৃত ক্যাটালগ তৈরি করেছিলেন এবং উত্তর গোলার্ধের অধিকাংশ নক্ষত্র গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যা থেকে প্রাপ্ত। এ্যান্টিকিথেরা ব্যবস্থা (খ্রিস্টপূর্ব ১৫০-৮০) দিয়ে একটি প্রাথমিক এনালগ কম্পিউটার ডিজাইন করা হয়েছিল একটি প্রদত্ত তারিখের মাধ্যমে সূর্য, চাঁদ, এবং গ্রহের অবস্থান হিসাব করার জন্য। চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত প্রযুক্তিগত জটিলতার শৈল্পিকতা পুনরায় লক্ষ করা যায়নি যতক্ষণ পর্যন্ত না ইউরোপে যান্ত্রিক জ্যোতির্বিদ্যা ঘড়ি আবির্ভূত হয়।

মধ্যযুগে, জ্যোতির্বিজ্ঞান মধ্যযুগীয় ইউরোপে বেশিরভাগই স্থিতিশীল ছিল অন্তত ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত। যাইহোক, জ্যোতির্বিজ্ঞান ইসলামী বিশ্বে এবং বিশ্বের অন্যান্য অংশে বিকাশ লাভ করেছিল। নবম শতকের প্রথমার্ধে মুসলিম জগতে প্রথম জ্যোতির্বিদ্যা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রর উত্থান ঘটেছিল। ৯৬৪ সালে, স্থানীয় গ্রুপের সর্ববৃহৎ গ্যালাক্সি হল অ্যানড্রোমিডা ছায়াপথ যা ফার্সি জ্যোতির্বিজ্ঞানী আজোফি দ্বারা আবিষ্কৃত হয় এবং তার বুক অফ ফিক্সড স্টারস এ তা প্রথম বর্ণিত হয়েছিল। এসএন ১০০৬ সুপারনোভা হল লিখিত ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃশ্যমান উপাদান যা মিশরীয় আরবি জ্যোতির্বিজ্ঞানী আলি ইবনে রিডওয়ান এবং চীনা জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ ১০০৬ সালে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। কিছু বিশিষ্ট ইসলামিক (বেশিরভাগই ফার্সি ও আরব) জ্যোতির্বিজ্ঞানী যাদের বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল, যেমন-আল-বাট্টানী, থেবিট, আজোফি, আলবোমাসার, বেরুনী, আরজাছেল, আল-বীরজান্দি এবং মারাগাহ ও সমরকন্দ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রর জ্যোতির্বিজ্ঞানী অন্যতম।

সেই সময়ের মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ বহু সংখ্যক আরবি নাম চালু করেছিলেন যা এখন পৃথক নক্ষত্রের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটিও বিশ্বাস করা হয় যে গ্রেট জিম্বাবুয়ে এবং টিম্বুক্টুর ধ্বংসাবশেষগুলি একটি জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ছিল। ইউরোপীয়রা পূর্বে বিশ্বাস করতো যে উপ-উপনিবেশিক মধ্যযুগে সাব-সাহারান আফ্রিকাতে কোন জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ ছিল না কিন্তু আধুনিক আবিষ্কারগুলি ভিন্ন কথা বলে।

রোমান ক্যাথলিক চার্চ ছয় শতাব্দী ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যয়নের জন্য আরও আর্থিক ও সামাজিক সমর্থন প্রদান করেছিল, মধ্যযুগ উত্তর আধ্যাত্মিক শিক্ষার পুনরুদ্ধার থেকে পুনর্জাগরণে পৌঁছা পর্যন্ত অন্য যেকোনো এবং সম্ভবত অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি ছিল । চার্চ এর অভিপ্রায়ের মধ্যে ইস্টার উৎসব এর জন্য তারিখ গণনা ছিল অন্যতম।

তথ্যসূত্রঃ
১) উইকিপিডিয়া
২) বাংলাপিডিয়া
৩) ফ্রিপিক (ইমেইজেস)

ওয়ার্ডপ্রেস শেখা একদম সহজ; একটি বিশাল ওয়ার্ডপ্রেস গাইড

ওয়ার্ডপ্রেস শেখা কি সহজ? হ্যাঁ, অবশ্যই! তবে আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস কীভাবে কাজ করে এবং ওয়ার্ডপ্রেসের দুটি ভিন্ন সংস্করণ বুঝতে না পারছেন তবে ওয়ার্ডপ্রেস বিভ্রান্তিকর এবং কঠিন বলে মনে হতে পারে। এই পোস্টে, ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে কী জানা দরকার, এটি কীভাবে কাজ করে এবং যদি এটি সহজে শিখতে হয় তবে কোথায় শিখতে হবে এই সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো । চলুন শুরু করা যাক!

ওয়ার্ডপ্রেস শেখা একদম সহজ
ওয়ার্ডপ্রেস শেখা সহজ । যতক্ষণ না আপনার কাছে এগুলি কী তা দেখানোর জন্য সহায়ক গাইড রয়েছে

হ্যাঁ, ওয়ার্ডপ্রেস শেখা সহজ। ওয়ার্ডপ্রেস, ওয়ার্ড প্রসেসরের মতো ব্যবহার করা সহজ, সুতরাং কীভাবে এটি ব্যবহার করতে হয় তা শেখা কয়েকদিনের ব্যাপার মাত্র। আবার ওয়ার্ডপ্রেসের মৌলিক বিষয়গুলো শিখতে আপনার বেশি সময়ও লাগবে না। আপনি ওয়ার্ডপ্রেসের যত গভিরের প্রবেশ করবেন এটি আপনাকে ততো কাছে টেনে নিবে এবং এতে আপনি ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে আর বিস্তারিতভাবে জানতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে যদি এটি আপনার প্রথমবার হয় তবে আপনি একটু বিভ্রান্ত বা হতাশ হতে পারেন। এই কারণেই ওয়ার্ডপ্রেসের প্রাথমিক বিষয়গুলি প্রথম দিকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ার্ডপ্রেস কী এবং কীভাবে এটি কাজ করে সে সম্পর্কে আপনি কি জানেন? যদি না জানেন, আসুন কিছুটা আলোচনা করা যাক।

ওয়ার্ডপ্রেস কি?

আপনি ইতোমধ্যেই ওয়ার্ডপ্রেস নাম শুনেছেন। তবে আপনি কি জানেন যে, এটি কী এবং কেন এটি এতটা জনপ্রিয়?

ওয়ার্ডপ্রেস সম্ভবত ব্লগিংয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। অন্ততপক্ষে, এটি প্রথম দিক ব্লগিং -র জন্য শুরু হয়েছিলো। তবে এটি এখন ব্লগিংয়ের বাইরেও অন্যান্য ওয়েবসাইটে প্রচুরভাবে ব্যবহার হচ্ছে। এটি কারণ এটির কোর, ওয়ার্ডপ্রেস একটি শক্তিশালী সিএমএস (কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম)। সিএমএস এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যা খুব সহজেই ওয়েবসাইট দ্রুত বানিয়ে ফরম্যাট সাজিয়ে তা পাবলিশ করার সুযোগ দেয়। কোনও কোডিং বা প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজন এখানে পড়েনা।

তবে যেখান থেকে ওয়ার্ডপ্রেসের আসল শক্তি আসে তা হ’ল এটির কাস্টমাইজ সিস্টেম এবং ফেলক্সিবিলিটি। প্রথমদিকের সময়গুলোতে, ওয়ার্ডপ্রেস শুধুমাত্র এটির কাস্টমাইজ সিস্টেম এবং ফেলক্সিবিলিটি কারণে জনপ্রিয় হয়নি বরং এটি ওপেন সোর্স হওয়ার কারণে জনপ্রিয় ছিলো। এর অর্থ হ’ল প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ ব্যবহারকারীরা ওয়ার্ডপ্রেসের ব্যাকগ্রাউন্ড কোডটিতে কাজ করতে পারতো এবং এটি বিভিন্ন ধরণের ও বিভিন্ন উপায়ে কাস্টমাইজ করতে পারতো। আরও যা হয়, ডেভেলপারদের একটি বিশাল কমিউনিটি ওয়ার্ডপ্রেসে কে ঘিরে তৈরি, হয় এবং তারা ওয়ার্ডপ্রেসের শক্তি বৃদ্ধি করে, বিভিন্ন ধরণের অ্যাড-অনস এবং এক্সটেনশনগুলি তৈরি করে এবং প্রকাশ করে।

আপনার এবং আমার জন্য, এর অর্থ হ’ল আমরা ওয়ার্ডপ্রেসকে সমস্ত ধরণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট চালানোর জন্য ব্যবহার করতে পারি – ব্যক্তিগত সাইট থেকে বড় ই-কমার্স সাইট পর্যন্ত – সমস্ত কিছুই ওয়ার্ডপ্রেসের ওপেন সোর্সের কারণে, ব্যবহারের সহজতা এবং বিশাল ডেভেলপার কমিউনিটির কারণে।

দুটি বড় বিষয় যা ওয়ার্ডপ্রেসকে এত শক্তিশালী করে তুলেছে সেগুলি হ’ল প্লাগইন এবং থিম। আসুন প্রতিটি বিষয়ে নিয়ে আরো আলোচনা করা যাক।

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন কি?

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন হলো এক ধরনের এপ্লিকেশন যার মাধ্যমে ওয়েবসাইটে নতুন নতুন ফাংশন এবং ফিচার যুক্ত করা যায়। ঠিক যেমনটা আপনার মোবাইলের এপ্লিকেশনগুলো কাজ করে।

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন ডাইরেক্টরি তে প্রায় ৪৮০০০ এর মত ফ্রি প্লাগইন রয়েছে। Github এ রয়েছে আরো প্রচুর।

এছাড়া আছে হাজারের মত Premium প্লাগইন যা বিভিন্ন ডেভেলপার এবং কোম্পানি বিক্রি করে থাকে।

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন-র কাজ নিয়ে আরো বিস্তারিত পড়ুন

ওয়ার্ডপ্রেস থিম কি?

ওয়ার্ডপ্রেসের আরও একটি ক্ষেত্র যা আপনার জানা উচিত তা হলো থিম সম্পর্কে। থিম আপনার ওয়েবসাইটের সমস্ত ডিজাইনের উপাদানকে নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং ফন্ট, রঙ, স্টাইলিংস, পেইজ লে-আউট এবং আরও অনেক কিছুই আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের থিম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।

সুতরাং আপনি যদি আমার মত ডিজাইনে আগ্রহী হন তবে আপনি থিম এবং সেগুলি কীভাবে কাজ করেন সে সম্পর্কে নিশ্চয় আরও জানতে চাইবেন।

থিম এত দুর্দান্ত যে তারা টেম্পলেটের মতো কাজ করে – আপনি নতুন থিম ইনস্টল করে এটিকে একটিভ করলেই আপনার ওয়েবসাইটের পুরো চেহারা তাত্ক্ষণিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে যাবে। এ কারণে ওয়ার্ডপ্রেস এত জনপ্রিয়। কয়েক হাজার থিম তৈরি এবং ব্যবহারের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে ঠিক প্লাগইনগুলির মতো, কিছু ফ্রি থিমও রয়েছে আবার পেইড থিমও রয়েছে।

এখন আপনি ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে কিছুটা জানেন এবং আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে আপনি এবার ভাবছেন।

ওয়ার্ডপ্রেস কি বিগিনারদের জন্য সহজ?

ওয়ার্ডপ্রেসের সবচেয়ে ভালদিক হ’ল এটি শেখা সহজ। ওয়ার্ডপ্রেস নিজেই তো এতটা কঠিন না। আসলে, আপনি খুব দ্রুতই মৌলিক বিষয়গুলো শিখে ফেলতে পারবেন। ওয়ার্ডপ্রেস এত বিশাল জনপ্রিয়তা অর্জন করার একটি কারণ এটিই।

ওয়ার্ডপ্রেস আসার আগে, ওয়েবসাইট তৈরি করা প্রযুক্তিগতভাবে বেশ কঠিন ছিল। শুধুমাত্র আইটি ফার্মের ডিজাইনার এবং ডেভেলপারারা এইচটিএমএল এবং সিএসএস কোড নিয়ে কাজ করে ওয়েবসাইট বানাতো।

এবং যদিও ওয়ার্ডপ্রেস আসার আগে ড্রিমউইভারের মতো ওয়েব ডিজাইন অ্যাপ্লিকেশন ছিল, তারাও ওয়ার্ড প্রসেসরের মতো কাজ করতো। File > New তে ক্লিক করে প্রতিবার নতুন করে পেইজ বানাতে হতো।

তবে ওয়ার্ডপ্রেস মূলত এই প্রযুক্তিগত বাধাগুলি দূর করেছে। যে কোনও দক্ষতার কেউ – এমনকি কেবল সাধারণ কম্পিউটার দক্ষতা থাকলেও – তারা ওয়েবসাইট তৈরি এবং পরিচালনা করতে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করতে পারবে।

এছাড়া ওয়ার্ডপ্রেস একটি সিএমএস হওয়ায় প্রতিবার খালি পেইজ দিয়ে স্ক্র্যাচ থেকে শুরু করতে হয় না। পরিবর্তে, আপনি আপনা কাস্টমাইজেশনের জন্য প্রস্তুত একটি সম্পূর্ণ ডিজাইন দিয়ে ওয়েবসাইট শুরু করতে পারেন। এটি আপনার ওয়েবসাইটকে অনলাইনে পাবলিশ করার মত করে তোলে।

এবং এখানে দুর্দান্ত যা রয়েছেঃ ওয়েব ডিজাইনে বিগিনার হিসাবে, আপনি জিনিসগুলি সহজ রাখতে এবং ওয়ার্ডপ্রেসের মূল ডিজাইন রাখতে পারেন। এটির পয়েন্ট এবং ক্লিক ইন্টারফেস ব্যবহার করে আপনার প্রয়োজন মত কন্টেন্ট তৈরি করতে পারেন।

আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে এতটুকুই জানেন তাও ঠিকাছে, কিন্তু আপনি চাইলে ওয়ার্ডপ্রেস থিম ডিজাইন নিয়ে আরো গভীর ভাবে জানতে পারেন। অথবা হতে পারে আপনি আপনার ওয়ার্ডপ্রেস দক্ষতা বজায় রাখতে এইচটিএমএল এবং সিএসএসে স্কিল অর্জন করতে পারেন – কে জানে!মূল কথা হ’ল, আপনি চাইলে ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে যতদূর যেতে পারেন।

যদি ওয়ার্ডপ্রেসের এমন কোনও দিক থাকে যা বিগিনারদের জন্য শেখা শক্ত, তবে তা হলো ওয়ার্ডপ্রেস থিম এবং প্লাগইন। এগুলি শিখতে অসুবিধা হতে পারে কারণ এগুলি বেশ নিয়ন্ত্রিত। এটি ওয়ার্ডপ্রেসকে কিছুটা ওয়াইল্ড ওয়েস্ট করে তোলে। থিম এবং প্লাগইন শক্তিশালী হলেও, কখনও কখনও ডকুমেন্টেশনগুলো অস্পষ্ট বা এমনকি নাও থাকতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ একটি নতুন প্লাগইন ইনস্টল করলে এবং কীভাবে এটি কাজ করে তা বুঝতে চেষ্টা করার ক্ষেত্রে সময় নষ্ট হতে পারে এবং কখনও কখনও এটি আপনাকে হতাশ করতে পারে। তবে ওয়ার্ডপ্রেসের ইস্যু নয়। এটি প্লাগইন বা থিম ডেভেলপারের খারাপ ডকুমেন্টেশনের জন্য দায়ী। ছাড়া, ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করা খুব সহজ।

উপরের কারণগুলো ছাড়াও আমি আরো কিছু বিষয়ে কথা বলবো যে কেন ওয়ার্ডপ্রেসে ব্যবহার করা উচিত আপনার। চলুন জেনে নেওয়া যাকঃ

ওয়ার্ডপ্রেস কেন ব্যবহার করবেন?

ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করার অনেকগুলি দুর্দান্ত কারণ রয়েছে। আমি যা করেছি তাহলো ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারের কয়েকটি বড় কারণ তালিকাবদ্ধ করেছি। আশা করি এটি ওয়ার্ডপ্রেস আপনার পক্ষে সঠিক কিনা তা নির্ধারণ করতে আপনাকে সহায়তা করবে।

  • ওয়ার্ডপ্রেস ফ্রিঃ হিসাবে শূন্য খরচ! এবং এটি ওয়ার্ডপ্রেস, ওয়ার্ডপ্রেস।কম এবং ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ উভয় সংস্করণের ক্ষেত্রেই সত্য (আমরা ওয়ার্ডপ্রেসের এই দুটি সংস্করণের মধ্যে পার্থক্যটি একটু পরে আলোচনা করব।)
    ওয়ার্ডপ্রেস ফ্রি, এর অর্থ হ’ল যে কেউ এখনই ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার শুরু করতে পারেন। তবে আমরা কীভাবে তা পরে আলোচনা করব, আপনি কীভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করবেন তা নির্ভর করে আপনি কিছু ব্যয় করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি স্ব-হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট চালাতে চান তবে আপনার ওয়েবসাইটের ডোমেইন নাম এবং ওয়েব হোস্টিংয়ের জন্য আপনাকে খরচ করতে হবে। শক্ত হয়ে বসে থাকুন, কারণ আমরা আবার খুব শীঘ্রই এ সম্পর্কে আরও কথা বলব। এদিকে…
  • ওয়ার্ডপ্রেস বিগিনারদের পক্ষে সহজ, তবে ডেভেলপারদের পক্ষে কঠিনঃ যেমনটি আগে আলোচনা করা হয়েছিল, ওয়ার্ডপ্রেস একটি খুব সহজ প্ল্যাটফর্ম শুরু করার জন্য। এটি সেট আপ করা এবং চালানো খুব সহজ। বেশিরভাগ ওয়েব হোস্টগুলিতে এমন ফিচার আছে যাকে বলা হয় ওয়ান-ক্লিক অটো-ইনস্টলার। সুতরাং ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করার জন্য আপনার কোনও প্রোগ্রামিং বা ওয়েব ডেভেলপের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হবে না – কেবল কয়েকটি মাউস-ক্লিক এবং আপনার সাইট প্রস্তুত। প্রকৃতপক্ষে ওয়ার্ডপ্রেসকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে, নতুনদের কোড বা ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে কিছু জানতে হবে না। ওয়ার্ডপ্রেস, মাইক্রোসফ্ট ওয়ার্ডের মতো ওয়ার্ড প্রসেসর হিসাবে ব্যবহার করা যায়। পয়েন্ট-ও-ক্লিক ইন্টারফেস ব্যবহার করে ওয়ার্ডপ্রেস নেভিগেট করা সহজ তাই আপনার যদি কম্পিউটারে কাজের দক্ষতা থাকে তবে আপনি ঠিকঠাক কাজ করতে পারবেন।
    তবে একইভাবে, প্রযুক্তিবিদরা বিভিন্ন টুইক, সম্পাদনা এবং কাস্টমাইজ করার জন্য ওয়ার্ডপ্রেস যথেষ্ট শক্তিশালী। ডেভেলপাররা চাইলেই ওয়ার্ডপ্রেসের গভীরে গিয়ে ইচ্ছেমত কোড পরিবর্তন করতে পারে। এটি কোন ব্যক্তিকে ওয়ার্ডপ্রেসকে পুরোপুরি কাস্টমাইজ করতে এবং যা কিছু করতে চায় তা করার সুযোগ দেয়। কারণ ওয়ার্ডপ্রেস মডুলার এবং ওপেন সোর্স।
    লেগো ইটগুলির মতো ওয়ার্ডপ্রেসকে ভাবুন – যে কেউ এটি দিয়ে যা ইচ্ছা তা তৈরি করতে পারে। আপনার যতক্ষণ দক্ষতা রয়েছে ততক্ষণ আপনি ওয়ার্ডপ্রেসের ব্যাকগ্রাউন্ড সিএসএস, জাভাস্ক্রিপ্ট, পিএইচপি, এবং আরও অনেক কিছুতে কাজ করতে করতে পারেন। অথবা আপনি যদি এত গভীরে যেতে না চান তাহলে কেবল ওয়ার্ডপ্রেসের ব্যবহারের সহজ ইন্টারফেসে নিয়ে কাজ করতে পারেন। আবার, এই ফেলক্সিবিলিটিই ওয়ার্ডপ্রেসকে এত জনপ্রিয় করে তুলেছে। এটি যতটা বড় বা ছোট, প্রযুক্তিগতভাবে তত সহজ, আপনি যেমনটি চান তা করতে পারেন।
  • ওয়ার্ডপ্রেসের সাহায্যে আপনি যে কোনও ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেনঃ এর শক্তি এবং ফেলক্সিবিলিটির কারণে, ওয়ার্ডপ্রেস আপনি যে কোনও ওয়েবসাইট তৈরি এবং চালানোর জন্য ব্যবহার করতে পারেন। অন্যান্য ওয়েব ডিজাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সফ্টওয়্যারে প্রায়শই সীমাবদ্ধতা থাকে এবং বিভিন্ন ধরণের ওয়েবসাইট পরিচালনা করতে পারে না। এমনকি ওয়ার্ডপ্রেসটি মূলত একটি ব্লগিং মঞ্চ হিসাবে নির্মিত হলেও, এটি সমস্ত রকমের বিভিন্ন ধরণের ওয়েবসাইট হ্যান্ডেল করতে সক্ষম।
    এখন, ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে আপনার এক পৃষ্ঠার ব্যক্তিগত সাইট থেকে শুরু করে একটি পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট, সম্পূর্ণ অনলাইন স্টোর, নিউজ ওয়েবসাইট, এমনকি একটি বিশাল কর্পোরেট সাইট পর্যন্ত আপনার যে কোনও ধরণের ওয়েবসাইট তৈরি করা এবং ব্যবহার করা যায়। আপনি যদি এটি স্বপ্ন দেখতে পারেন, ওয়ার্ডপ্রেস সেটি পরিচালনা করতে পারবে!
  • ওয়ার্ডপ্রেস হ’ল একটি সিএমএসঃ মনে রাখবেন, একটি কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হ’ল একটি প্ল্যাটফর্ম বা কাঠামো যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের সহজেই কন্টেন্ট প্রকাশ করতে দেয়, ফর্ম্যাটিং করতে দেয় এবং একই ধারাবাহিক উপায়ে পাবলিশ করতে দেয়।
    এবং ওয়ার্ডপ্রেসে বিশেষভাবে, একটি স্বনির্ধারিত সিএমএস, যা আমরা আলোচনা করেছি। প্রকৃতপক্ষে ওয়ার্ডপ্রেস কন্টেন্ট লিখতে এবং প্রকাশ করতে একটি বিল্ট-ইন এডিটর ব্যবহার করতে দেয়। এবং সুসংবাদটি হ’ল, আপনি ইতিমধ্যে এটি কীভাবে ব্যবহার করবেন তা জেনে গেছেন – একদম তাই! সুতরাং, ওয়ার্ডপ্রেসের সাথে কাজ শুরু করার জন্য কোনও কোডিং দক্ষতা বা উচ্চ প্রযুক্তিগত কোনও বিষয় একদমই জড়িত নয়।
  • ওয়েবসাইটের লুকটি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়ঃ এর আগে আপনি জানতে পেরেছিলেন যে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের ডিজাইন থিম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। থিমকে সেই ডিজাইন হিসাবে ভাবুন যা ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএস ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে আনুন। থিমস আপ করুন। আপনার ওয়েবসাইটে নতুন থিম এক্টিভ করার সাথে আপনার সমস্ত বিদ্যমান কন্টেন্ট তত্ক্ষণাত নতুন লেআউটে এসে পড়বে – আপনার ওয়েবসাইটের পুরো চেহারাটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পরিবর্তিত হয়ে যাবে। এবং মনে রাখবেন, ফ্রি থিমগুলি ব্যবহারের পাশাপাশি আপনি নিজের জন্য কাস্টম থিম তৈরি করতে বা এমনকি থিমগুলি কীভাবে তৈরি করতে হয় তাও শিখতে পারেন।
  • সহজেই ওয়েবসাইটের সক্ষমতা বাড়ানো যায়ঃ আমরা ইতিমধ্যে ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন নিয়ে আলোচনা করেছি, সুতরাং আপনি জানেন যে তারা আপনার ওয়েবসাইটের ক্ষমতা এবং কার্যকারিতা বাড়ায়। সুতরাং, সম্ভবত আপনি নিজের ওয়েবসাইটে একটি পোর্টফোলিও গ্যালারী বা একটি পরিচিতি ফর্ম যুক্ত করতে চান। অথবা হতে পারে আপনি আপনার সাইটে একটি ই-বাণিজ্য শপিং কার্ট যুক্ত করতে বা একটি পূর্ণ মেম্বারশীপ ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান। এই সমস্ত এবং আরও অনেক কিছু প্লাগইনগুলির মাধ্যমে সম্ভব। বর্তমানে, ৫০,০০০ এরও বেশি প্লাগইন রয়েছে, তার মানে আপনার কাছে প্রচুর বিকল্প রয়েছে। এবং মনে রাখবেন, থিমগুলির মতো, আপনি যদি প্রয়োজন হয় তবে আপনার জন্য নিজের মত কিছু তৈরি করতে আপনি সর্বদা একজন ডেভেলপারকে ভাড়া বা হায়ার করে নিতে পারেন।
  • ওয়ার্ডপ্রেস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং খুব জনপ্রিয়ঃ ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েব ডিজাইন প্ল্যাটফর্মের চেয়েও অনেক বেশি কিছু। এটি ওপেন সোর্স আন্দোলনের একটি অংশ। এর অর্থ হ’ল ওয়ার্ডপ্রেসেকে সমর্থন করে এমন একটি বিশাল কমিউনিটি রয়েছে অনলাইনে এবং অফলাইনেও। বিশ্বব্যাপী কয়েক হাজার ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপার এবং কয়েক মিলিয়ন ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারকারী রয়েছে।আপনি যেদিকেই তাকান না কেন, সেখানে ওয়ার্ডপ্রেস ফোরাম, ব্লগ, কর্মশালা, মিট-আপ এবং সম্মেলন দেখতে পাবেন।
    এবং বর্তমানে, ওয়ার্ডপ্রেস প্রায় ৬০% মার্কেট শেয়ার সহ সর্বাধিক জনপ্রিয় সিএমএস প্ল্যাটফর্ম। এবং আশ্চর্যজনকভাবে, ওয়েবে ৩০% ওয়েবসাইটগুলি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তৈরি। ওয়ার্ডপ্রেসের সাথে তাই বলা যায় আপনি ভাল জায়গায় আছেন!
    এবং এই সমস্তটির অর্থ হ’ল আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেসের কোন সমস্যায় আটকে থাকেন তবে সমর্থন এবং সহায়তা পাওয়ার সন্ধান করা সহজ। উত্তর পেতে আপনি ইউটিউব, ফোরাম, ব্লগ এবং অন্যান্য জায়গায় সহজেই অনুসন্ধান করতে পারেন। এবং আপনার যদি কখনও আপনার ওয়েবসাইটে সাহায্যের প্রয়োজন হয় তবে আপওয়ার্ক.কম এবং ফ্রিল্যান্সার.কমের মতো সাইটে সহজেই ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপারদের খুজে পাবেন। সুতরাং, ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারকারী হওয়ার অর্থ আপনি খুব বড়, সহায়ক কমিউনিটির একটি অংশ।

সুতরাং এগুলো আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করার কয়েকটি বড় কারণ। এগুলো অন্য ওয়েব ডিজাইন সরঞ্জামগুলির সাথে যেমনঃ ড্রিমউইভার, উইক্স বা স্কোয়ারস্পেসের সাথে তুলনা করুন এবং ওয়ার্ডপ্রেস কেন এত ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এবং পছন্দ করা যায় তা আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন।

এডসেন্স -র মাধ্যমে কিভাবে ওয়েবসাইট থেকে আয় করবেন?

সুতরাং এই মুহুর্তে, আপনি সম্ভবত কীভাবে ওয়ার্ডপ্রেস কাজ করে তা জানতে আগ্রহী। আমরা এটি এখন কভার করব।

ওয়ার্ডপ্রেস কীভাবে কাজ করে?

এর বহুমুখিতাটির কারণে, আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারের বিভিন্ন উপায় দেখতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে, আপনি হয় ওয়ার্ডপ্রেস.কম (একটি হোস্টেড বিকল্প) বা ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ (স্ব-হোস্টেড পদ্ধতি) ব্যবহার করতে পারেন। এবং আপনি এমনকি সরাসরি আপনার কম্পিউটারে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল এবং চালাতে পারেন। এটি একটি এডভান্স বিষয়, তাই আমি ওয়ার্ডপ্রেসকে খুব বেশি জটিল্ ভাবে তুলে ধরবো না। এতে কনফিউশন লেগে যাবে। কারণ ওয়ার্ডপ্রেস ঐতিহ্যবাহী ওয়েব ডিজাইন সফ্টওয়্যারের (ড্রিমউইভারের) মতো কাজ করে না।

ঐতিহ্যবাহী ওয়েব ডিজাইন সফ্টওয়্যার ওয়ার্ড প্রসেসরের মতো কাজ করে, যেখানে আপনি কেবল ফাইলগুলি খোলেন, এডিট করুন এবং সংরক্ষণ করেন। এবং এই জাতীয় ধরণের সরঞ্জামের সাহায্যে আপনি আপনার কম্পিউটারে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন এবং এটি সম্পূর্ণ হয়ে গেলে এটি আপনার লাইভ ওয়েব সার্ভারে আপলোড করতে পারেন।

তবে ওয়ার্ডপ্রেস আলাদাভাবে কাজ করে। আপনার কম্পিউটারের সফ্টওয়্যার থেকে পৃথক, ওয়ার্ডপ্রেস সরাসরি আপনার লাইভ ওয়েব সার্ভারে চলে। সুতরাং ওয়ার্ডপ্রেসের সাহায্যে আপনি নিজের ওয়েবসাইটে লগইন করতে পারবেন এবং তারপরে সেখানে লাইভে কাজ করতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেসের একটি ফ্রন্ট-এন্ড এবং একটি পাসওয়ার্ড-সুরক্ষিত ব্যাক-এন্ড রয়েছে। আপনি যেখানে আপনার সমস্ত কাজ করেন সেটি হলো আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটটির ব্যাক-এন্ড। এটি এখানে আপনি নতুন পেইজ এবং পোস্ট তৈরি করেন, চিত্রগুলির সাথে কাজ করেন এবং আপনার ওয়েবসাইটের লে-আউট কাস্টমাইজ করেন। আপনার ওয়েবসাইটের ফ্রন্ট-এন্ডটি হ’ল আপনার ভিজিটররা যখন আপনার ওয়েবসাইটে নেভিগেট করে। তারা কিন্তু আপনার ওয়েবসাইট যে ওয়ার্ডপ্রেস তা বুঝতেই পারে না।

সুতরাং এভাবেই ওয়ার্ডপ্রেস কাজ করে। আপনি এটির ফাইলগুলি খুলছেন না আবার এডিটও করছেন না। কিন্তু, এটি আপনারই ওয়েবসাইটের প্ল্যাটফর্ম। এবং মনে রাখবেন, এর হৃদয়ে ওয়ার্ডপ্রেস একটি সম্পূর্ণ কাস্টমাইজযোগ্য এবং প্রসারণযোগ্য সিএমএস। এই কারণেই ওয়েবসাইট তৈরির পুরানো পদ্ধতি; ড্রিমউইভারের সাথে ওয়ার্ডপ্রেসের আধুনিক পদ্ধতির মধ্যে সত্যিকারের কোন তুলনা হয় না।

তাহলে, ওয়ার্ডপ্রেস কতটা ব্যয়বহুল? এটির উত্তর দেওয়া সহজ নয়, কারণ এটি পুরোটাই কীভাবে আপনি ওয়ার্ডপ্রেস চালাতে চান তার উপর নির্ভর করে। আমরা এর পরের অংশে আরও বিস্তারিত বুঝতে চেষ্টা করব।

ওয়ার্ডপ্রেস কি ফ্রি?

আপনার মনে সম্ভবত একটি বড় প্রশ্ন হ’ল ওয়ার্ডপ্রেস কি ফ্রি? আর উত্তরটি হ’ল, কিছুটা!

যেমনটি আমরা আলোচনা করেছি, ওয়ার্ডপ্রেস দুটিভাবে আসে, ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ এবং ওয়ার্ডপ্রেস.কম। বলা যায়, উভয়ই ফ্রি তে ব্যবহার করা যায় । আপনাকে কত ব্যয় করতে হবে তা নির্ভর করবে কীভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করবেন তার উপর। আচ্ছা আরেকটু বিস্তারিত যদি বলি,

আপনি যদি হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস.কম ওয়েবসাইট চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তবে কোনও ব্যয় আপনার হবে না। তবে, ওয়ার্ডপ্রেস.কম -র কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ডিফল্টভাবে ওয়ার্ডপ্রেস.কম ওয়েবসাইটগুলিতে বিজ্ঞাপন এবং একটি ব্র্যান্ডযুক্ত ডোমেন নাম (yourdomain.wordpress.com) দেওয়া থাকে। এই সীমাবদ্ধতাগুলি সরাতে, আপনাকে অর্থ প্রদানের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে আপগ্রেড করতে হয়। আমরা শীঘ্রই আরও বিস্তারিতভাবে ওয়ার্ডপ্রেস.কমের সীমাবদ্ধতাগুলি নিয়ে আলোচনা করব।

স্ব-হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট চালানোর মানে আপনার সাইটটি বিজ্ঞাপন এবং ব্র্যান্ডিং মুক্ত, তবে আপনাকে হোস্টিং এবং একটি ডোমেন নামের জন্য অর্থ প্রদান করতে হবে। পূর্বে উল্লিখিত হিসাবে, এই ব্যয়গুলি যদিও একদম যৎসামান্য। একটি ডোমেন নাম প্রতি বছর প্রায় ১,০০০ টাকার এবং ওয়েব হোস্টিং প্রতি বছর ১,০০০ টাকার খরচ করতে হতে পারে। সুতরাং, ব্যয় বেশি নয়। প্রিমিয়াম থিম এবং প্লাগইন নিতে আপনার আরও কিছু ব্যয় করতে হতে পারে তবে তা অবশ্য ঐচ্ছিক।

একটি হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস.কম ওয়েবসাইট বানালে আপনার তেমন কোন খরচই নেই বলা যায়। কারণ এটাতো ফ্রি। তবে দীর্ঘ মেয়াদে, কোন বিকল্পটি (হোস্ট করা নাকি স্ব-হোস্ট করা) সস্তা বিকল্প হবে তা জানা মুশকিল। আপনি কোন ধরণের ওয়েবসাইট চালাতে চান এবং এটি কী করতে চান তা আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে। সেখান থেকে, আপনি আপনার দীর্ঘমেয়াদী খরচ নির্ধারণ করতে পারেন।

তবে আমার মতে, একটি স্ব-হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের চেয়ে ভাল আর কিছু হয় না। নির্ভরযোগ্য, স্বল্প মূল্যের হোস্টিং সহজেই পাওয়া যায়। বছরে মাত্র কিছু টাকা দিয়ে একটি কাস্টম ডোমেইন এবং বিজ্ঞাপন ছাড়া একটি সম্পূর্ণ কাস্টমাইজড স্ব-হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস সাইট আপনি নিয়ে নিতে পারেন। এবং আপনি যদি কিছু ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েব হোস্টিংয়ের সাজেশন চান, তবে তিনটি হোস্ট রয়েছে যা আমি ব্যবহার করি এবং পরামর্শ দিই। আপনার প্রয়োজনের উপর নির্ভর করে এর মধ্যে একটি দুর্দান্ত হবেই। সেরা ৩ টি হোস্টিং সম্পর্কে আপনি এখানে আরও বিস্তারিত জানতে পারবেন।

আপাতত, ওয়ার্ডপ্রেসের দুটি ফ্লেভার, .কম এবং .অর্গ ইস্যুটিতে ফিরে আসি, তবে এবার আমরা কোনটি ব্যবহার করলে আপনার জন্য সুবিধে হবে তা খতিয়ে দেখি।

ওয়ার্ডপ্রেস.কম নাকি ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ এর মধ্যে পার্থক্য কী?

একটি সাধারণ প্রশ্ন যা সর্বদা আসে, তা হ’ল ওয়ার্ডপ্রেস.কম এবং ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ এর মধ্যে তফাত কী? মনে রাখবেন, ওয়ার্ডপ্রেস.কম হ’ল ওয়ার্ডপ্রেস এর হোস্ট করা সংস্করণ এবং ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ হলো যা স্ব-হোস্ট করা সংস্করণ। আপনি যে ধরণের ওয়েবসাইট বানাতে চান, আপনার বাজেট এবং ওয়েব ডিজাইন শেখার ক্ষেত্রে আপনার আগ্রহের বিষয় নির্ধারণ করবে যে ওয়ার্ডপ্রেসের এই দুটি ফ্লেভারের মধ্যে কোনটি আপনার জন্য সঠিক হবে।

নীচে, আমি সংক্ষিপ্তভাবে ওয়ার্ডপ্রেস.কম এবং ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ এর মধ্যে পার্থক্যগুলি তুলে ধরবো।

ওয়ার্ডপ্রেস.কম কী?

ওয়ার্ডপ্রেস.কম একটি ফ্রি ওয়েব হোস্টিং পরিষেবা যা যে কাউকে ওয়েবসাইট চালানোর অনুমতি দেয়। সুতরাং কেন এটিকে ওয়ার্ডপ্রেসের হোস্ট করা সংস্করণ বলা হয়।

ওয়ার্ডপ্রেস শেখা একেবারে সহজ
ওয়ার্ডপ্রেস.কম একটি ফ্রি, সীমাবদ্ধ, হোস্টিং পরিষেবা

ওয়ার্ডপ্রেস.কম সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য খুব সহজ সমাধান বিশেষ করে যাদের প্রয়োজন খুব কম। ওয়ার্ডপ্রেস.কম আপনার জন্য আপনার ওয়েবসাইটের খেয়াল রাখে, তাই আপনাকে সুরক্ষা, প্রযুক্তিগত জিনিস বা আপনার সাইট পরিচালনা সম্পর্কে চিন্তা করতে হয় না। আপনি কেবল অনলাইনে প্রকাশ করতে চান এমন কন্টেটে ফোকাস করতে পারেন।

এইভাবে, আপনি ওয়ার্ডপ্রেস.কমকে একটি সম্পূর্ণ ওয়েবসাইটের চেয়ে প্রকাশনা প্ল্যাটফর্ম হিসাবে ভাবতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেস.কম এর সাথে খুব দ্রুত উঠা এবং চালানো খুব সহজ। কেবলমাত্র একটি ফ্রি অ্যাকাউন্টের জন্য সাইন আপ করুন এবং আপনার সাইটটি মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ওয়েবে লাইভ হয়ে যাবে।

তবে সবকিছু গোলাপের মত সুন্দর নয়। ওয়ার্ডপ্রেস.কম এর আসলে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পূর্বে উল্লিখিত হিসাবে, আপনার সাইটে ডিফল্টরূপে বিজ্ঞাপন দেখানো হবে এবং আপনাকে একটি ব্র্যান্ডযুক্ত ডোমেন নাম ব্যবহার করতে হবে (মনে রাখবেন, yourdomain.wordpress.com)। আরেকটি ব্যাপার, ওয়ার্ডপ্রেস থিম এবং প্লাগইনগুলি খুব সীমাবদ্ধ থাকবে। এর অর্থ আপনার সাইটের ডিজাইন, কার্যকারিতা এবং সিস্টেম সীমাবদ্ধ থাকবে। তবুও, ওয়ার্ডপ্রেস.কমের সাথে কোনও ধরণের অনলাইন ব্যবসা চালানো অসম্ভব না হলেও খুব কঠিন হবে।

এই সীমাবদ্ধতাগুলোর অনেকগুলো অপসারণ করা যেতে পারে কেবলমাত্র অর্থ প্রদানের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে আপগ্রেড করে।

এটি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে ওয়ার্ডপ্রেস.কম একটি ব্যবসা। তারা মূলত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থোপার্জন করে। তবে, আপনার যদি সাধারণ চাহিদা থাকে এবং কোনও অতিরিক্ত ফিচার না প্রয়োজন হয় তবে আপনি ওয়ার্ডপ্রেস.কম এ আপনার ওয়েবসাইটটি বিনামূল্যে চালাতে এবং আপনার প্রকাশিত সামগ্রীতে ফোকাস দেওয়ার জন্য আপনার সময় ব্যয় করতে পারেন।

ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ কি?

তাহলে ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ কেমন? আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ ভিজিট করেন, কীভাবে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে শুরু করা উচিত তা বোঝা সহজ হবে না। এটির কারণ ওয়ার্ডপ্রেস.কম একটি ব্যবসা অন্যদিকে ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ হ’ল ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস সফটওয়্যারটির একটি সমর্থন সাইট।

ওয়ার্ডপ্রেস.কমের বিপরীতে, ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ একটি সহায়তা সাইট

আপনি ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ থেকে বিনামূল্যে ওয়ার্ডপ্রেস ডাউনলোড করতে পারেন, সাধারণত আপনি এখানে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে শুরু করেন না। পরিবর্তে, আপনি আপনার হোস্টের সাথে শুরু করতে পারেন এবং তাদের ওয়ান-ক্লিক ওয়ার্ডপ্রেস অটো-ইনস্টলার ব্যবহার করতে পারেন। এই কারণেই ওয়ার্ডপ্রেসের এই সংস্করণটিকে স্ব-হোস্ট করা বলা হয় – আপনি নিজের হোস্টিংয়ে থেকে সাইটের কাজ করছেন।

এবং ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ থেকে আপনি যা খুঁজে পাবেন তা হ’লঃ ওয়ার্ডপ্রেসের এই স্ব-হোস্টেড সংস্করণটি থেকে সহায়তার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট। উদাহরণস্বরূপ, আপনি ওয়ার্ডপ্রেস কোডেক্স নামে বিস্তৃত ওয়ার্ডপ্রেস ডকুমেন্টেশন পাবেন। এখানে, আপনি ওয়ার্ডপ্রেসের প্রযুক্তি সম্পর্কে যে কোনও তথ্য পেতে পারেন।

সমস্যা সমাধানের জন্য এবং ওয়ার্ডপ্রেসের সাথে পরবর্তী কী হবে তা জানার জন্য রয়েছে ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ -র বিশাল কমিউনিটি যারা সব ধরনের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে।

ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ এছাড়াও ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইনগুলির কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরি হিসেবে কাজ করে। সেখানে, আপনি আপনার স্ব-হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ৫০,০০০ এরও বেশি প্লাগইন পাবেন। আরও, আপনি ওয়ার্ডপ্রেস থিমগুলির মূল গ্রন্থাগারটিও খুঁজে পাবেন, যা আপনার পছন্দ করার জন্য হাজার হাজার থিম রাখে। সুতরাং ওয়ার্ডপ্রেস.কমের বিপরীতে, একটি স্ব-হোস্টেড (ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ) ওয়েবসাইটের সাথে আপনি যে কোনও থিম বা প্লাগইন ব্যবহার করতে পারেন।

আসলে, ওয়ার্ডপ্রেসের এই স্ব-হোস্টেড সংস্করণটি খুব শক্তিশালী, কাস্টমাইজযোগ্য এবং কোন সীমাবদ্ধতা নেই। এখানে, আপনার নিজের ওয়েবসাইটের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং মালিকানা ঠাকে। আপনি যেকোন উপায়ে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার এবং কাস্টমাইজ করতে পারবেন। এবং ওয়ার্ডপ্রেস.কম এর বিপরীতে, আপনার ওয়েবসাইটের মূল কোডেও আপনার সম্পূর্ণ অ্যাক্সেস থাকবে। সুতরাং যদি প্রয়োজন হয় তবে আপনি আপনার সাইটটি চালানোর জন্য ব্যবহৃত রুট পিএইচপি ফাইল, সিএসএস, জাভাস্ক্রিপ্ট এবং এমনকি ডাটাবেসগুলিতে অ্যাক্সেস পেতে পারেন।

ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ থেকে একটি স্ব-হোস্ট করা ওয়েবসাইটের খারাপ দিক হ’ল একটি ডোমেইন নাম নিবন্ধন করা এবং আপনার ওয়েব হোস্টিং সেটআপ করা। আমি আপনাকে সাহায্য করার জন্য এই সমস্ত বিষয়ের উপর টিউটোরিয়াল তৈরি করে রেখেছি। আপনার ডোমেন নাম নিবন্ধন করতে, জিয়নবিডি ব্যবহার করে আপনার ব্যবসায়ের ওয়েবসাইট ডোমেইন সেট আপ করার সহজ পদক্ষেপগুলি একবার দেখুন। এবং ওয়েব হোস্টিং সেটআপ করে কিভাবে নিজের ওয়ার্ডপ্রেস সাইট স্টেপ বাই স্টেপ সেট আপ করবেন তা দেখুন

সুতরাং স্ব-হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টলেশনটির সাথে আপনার নিজের কতৃত্ব তৈরি হয়। অন্যদিকে, থাকছে না কোন সীমাবদ্ধতা বা বিজ্ঞাপন। এজন্য আমি সবাইকে একটি স্ব-হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করতে উত্সাহিত করি।

ওয়ার্ডপ্রেস শিখতে কত সময় লাগবে?

আপনি কি ভাবছেন যে ওয়ার্ডপ্রেস শিখতে আরও কত সময় লাগতে পারে? সুসংবাদটি হ’ল, আপনি ওয়ার্ডপ্রেসের মূলসূত্রগুলি এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে শেষ করে ফেলতে পারেন – বলা যায় প্রায় আট থেকে দশ ঘন্টা সময় প্রয়োজন। ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে শুরু করতে মোটেও বেশি সময় লাগে না।

এবং যদি আপনি এটির সাথে এক সপ্তাহ কাজ চালিয়ে যান তবে বলতে পারি আপনি এটিতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। আবার, ওয়ার্ডপ্রেস সাধারণ ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা একটি সিএমএস, তাই এটি শিখতে খুবই সহজ।

হতে পারে আপনি এলিমেন্টরের মতো কোনও ওয়েবসাইট বিল্ড প্লাগইন দিয়ে লে-আউট বানাতে চান। অথবা হতে পারে আপনি কাস্টম ওয়ার্ডপ্রেস থিম বা প্লাগইন ডেভেলপ শুরু করতে চান। এই বা আরো এডভান্স কিছু জানতে চান তখন অবশ্যই কিছুটা বেশি সময় লাগবে।

তবে শুরুতেই আপনি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে খুব তাড়াতাড়ি উঠে আসতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস শেখার দ্রুততম উপায়

তাহলে আপনি কোথায় ওয়ার্ডপ্রেস দ্রুত শিখবেন? যদিও ওয়েবে ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কিত ভিডিও, ব্লগ এবং ফোরাম রয়েছে, তবে এটি ওয়ার্ডপ্রেস শেখার ধীর উপায়।

সমস্যাটি হলো তথ্য পাচ্ছেন কিন্তু গোছানো সংগঠিত তথ্য পাচ্ছে না। এ কারণেই আমি মনে করি ওয়ার্ডপ্রেস শেখার সবচেয়ে দ্রুত, সবচেয়ে কার্যকরী উপায়টি একটি কর্মশালা বা অনলাইন কোর্স। আমি অনলাইন কোর্স পছন্দ করি কারণ আমি বাসা থেকে(বা যে কোনও জায়গায় থেকে) নিজের গতিতে এগুলো শিখতে পারি।

এই অবস্থায়, আপনার সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন্য আমার কাছে কিছু আর্টিকেল রয়েছে। প্রথমত, যদি আপনি কেবল ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে আপনার পা ভিজতে চান এবং এটি আপনার পক্ষে উপযুক্ত কিনা তা সন্ধান করতে চান তবে আমার ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস টিউটোরিয়ালগুলো একবার দেখুন।

কিন্তু আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে আরো কাজ করতে চান এবং একজন ডেভেলপার হিসেবে থিম ডিজাইন , প্লাগইন এবং আরো বিস্তারিত শিখতে চান এবং প্রফেসনাল সার্টিফিকেট চান তবে ভালো হবে একটি কোর্স করে ফেলা। বিগিনারদের জন্য জন্য বাংলা ভাষায় বহুব্রীহির WordPress for Beginners কোর্সটি বেশ দারুণ হবে।

আজ এখানেই শেষ করছি। বেশিরভাগ টপিক ক্লিয়ার করে দেওয়া হয়েছে কিন্তু এর বাইরেও যদি আপনাদের কোন কিছু জানার প্রয়োজন হয় তবে সবসময়ের মত কমেন্ট করার সুযোগ রয়েছে।

রেফারেন্সঃ
১) ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ
২) টেনটন অনলাইন
৩) শাউটমিলাউড
৪) উইকিপিডিয়া
৫)ছবিঃ সাটারস্টক

অ্যান্ড্রয়েড ফোন রুট করার সুবিধা এবং অসুবিধা

আপনি যদি আপনার গ্যাজেটগুলির সাথে গুঁতোগুতি করতে চান তাহলে অ্যান্ড্রয়েড ফোন রুট করলে একটি সম্পূর্ণ নতুন বিশ্বের খোঁজ আপনি পাবেন। অবশ্য অ্যান্ড্রয়েডে এমনিতেই অনেক কিছুই কাস্টমাইজ করা যায়, এরপরেও কিন্তু ফোন উৎপাদনকারীরা অনেক কিছুকে আপনার কাছ থেকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে।

রুট করাকে অনেকক্ষেত্রে জেলব্রেকিংও বলা হয় – যা আপনার সামনে এমন কিছু সেটিংস নিয়ে হাজির হবে, যা রুট না করা ফোনে থাকে না। রুট খুবই জটিল একটা কাজ, সামান্য কিছু ভুল কিন্তু আপনার ফোনকে ব্যবহার অনুপযোগী করে তুলতে পারে।  সবকিছু ঠিকভাবে করতে পারলে আপনার হাতে চলে আসবে সব কন্ট্রোল, আপনার ইশারাতেই নাচবে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোন।

রুট করার সুবিধা

এক কথায় বলা যায়,  যে রুট বা রুটিং আপনার হাতে পুরো ফোনের কন্ট্রোল তুলে দেয়। একবার আপনার ফোন রুট করলে আপনি ফোনে আগে থেকে ইন্সটল করা ওস পরিবর্তন করে আপনার নিজের পছন্দমত ওস ভার্শন ব্যবহার করতে পারবেন। এইসব অ্যান্ড্রয়েড ভার্শন কে বলা হয় কাস্টম রম। কাস্টম রম বিভিন্ন ধাচের হয়ে থাকে। আপনি চাইলে পিউর স্টক ভার্শন ব্যবহার করতে পারেন নতুবা এমন কোন ভার্শন ব্যবহার করতে পারেন যা এখনো আপনার ফোনের জন্য আসেনি।

আপনার ফোনে আপনি ‘Incompatible’ অ্যাপগুলো ব্যবহার করতে পারবেন যা আগে সম্ভব ছিল না।  চাইলে ফ্যাক্টরি ইন্সটলড অ্যাপগুলোও রিমুভ করতে পারবেন। ব্লক করা যেকোন অ্যাপ আপনি চালেই ব্যবহার করতে পারবেন।

আপনার ফোনে আগে থেকে ইন্সটল করা অ্যাপগুলো কখনো রিমুভ করতে চেয়েছেন? এই অ্যাপগুলোকে বলা হয় ব্লোটওয়্যার। নন-রুটেড ফোন থেকে এইসকল অ্যাপ রিমুভ করা অসম্ভব।  যেমন, স্যামসাং ফোনে কিছু স্পোর্টস রিলেটেড অ্যাপ থাকে যেগুলো কোন কাজের না। রুট করার কারনে এখন খুব সহজেই এগুলো রিমুভ করা যায়।

রুট
ছবিঃ রুট অ্যাপস

এছাড়া এমন কিছু অ্যাপ আছে যেগুলো শুধুমাত্র রুটেড ফোনের জন্য বানানো হয়েছে। যেগুলো আপনার ফোনকে কম্পিউটারের মত করে কাজ করায়।  কিছু অতিরিক্ত সেটিংস আপনাকে দিবে যেমন, সিপিউ সেটিংস, গ্রাফিক্স সেটিং, পারফরমেন্স সেটিং, পুরো ফোনের ব্যাকাপ সেটিং, সিকিউরিটি সেটিংস ইত্যাদি। এমন কিছু অ্যাপ আছে যা ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা সব অ্যাপকে বন্ধ করে রাখে এবং ফোনকে স্মুথ করে। এছাড়া ব্যাটারির জন্যও কিন্তু আলাদা অ্যাপ আছে। মানে আপনি যা চান তাই আপনি করতে পারবেন।

রুট করার অসুবিধা

এখানে কিছু অসুবিধাও রয়েছে। যদিও সুবিধার তুলনায় তা কিছু না। অনেকক্ষেত্রে রুট আপনার ফোনের ওয়ারেন্টি নষ্ট করে। এক্ষেত্রে অবশ্য আপনি চাইলেই ওয়ারেন্টি শেষ হয়ে যাওয়ার পর রুট করতে পারেন।

অনেকেই তাদের ফোনকে ব্রিক করে ফেলে,  মানে, নষ্ট করে ফেলে। এমনটা হয়না, যদি সঠিকভাবে রুটের নির্দেশিকা পড়েন। আর অবশ্যই ফোন রুটের আগে ব্যাকাপ নিয়ে নিতে হবে। যাতে কোন সমস্যায় তা কাজে লাগে।

আপনি যাই করুন,  সব বিষয়ে আগে রিসার্চ করুন। এবং অবশ্যই অবশ্যই ব্যাকাপ, খুবই জরুরী। চাইলে আপনার পুরনো ফোনে আগে টেস্টের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে দেখতে পারেন। আপনার যদি উপরে বর্ণিত এডভান্স কোন কিছুর প্রয়োজন না হয় তাহলে রুট করে রিস্ক নেওয়ার কোন দরকার নেই। কারণ রুট কিন্তু খুবই জটিল এক প্রসেস।

ছবি সোর্সঃ AndroidPIT


কিভাবে সেরা হোস্টিং বাছাই করবেন

প্রায় সময় দেখা যায়, একটা ওয়েবসাইটের সফলতার পেছনে সবচেয়ে বড় উপাদান হলো ওয়েবহোস্টিং। সেরা ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং বাছাই করে নিলে তা আপনার SEO তে বেশ বড় রকমের ভূমিকা রাখবে। এছাড়া আপনার প্রোডাক্ট বিক্রির সংখ্যাটাও কিন্তু বাড়িয়ে দিতে পারে। চারপাশ একটু লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন হোস্টিং অনেক ধরনের হয়ে থাকে যেমনঃ ফ্রি, শেয়ার্ড, ভিপিএস, ডেডিকেটেড এবং ম্যানেজড ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং। এই গাইডে আমি আপনাদের সাহায্য করবো কিভাবে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য সেরা ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং বাছাই করবেন।

আপনারা জানেন নতুনব্লগ বাংলাদেশের একমাত্র ওয়েবসাইট যেখানে ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে সকল সমস্যার সমাধান দেওয়া হয়। এছাড়া সকল খুঁটিনাটি বিষয়ে আমরা আলোচনা করি। চেষ্টা করি সবকিছু সহজ করে বোঝাতে।

ঠিক তেমনি সবকিছু সহজ করার জন্য আমরা সেরা কিছু ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং যেগুলো একেবারে বাছাই করা তা নিয়ে আলোচনা করবো। এই হোস্টিং কোম্পানীগুলো আমাদের দেশের টপ লেভেলের কোম্পানি। যেখানে ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং নিয়ে প্রশ্ন আসে যেখানে তাদের কোয়ালিটি এবং সাপোর্ট এর বিকল্প একটিও নেই।

ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং -এ কি কি থাকা আবশ্যক?

আপনি শুনে খুবই অবাক হবেন যে, ওয়ার্ডপ্রেস খুবই হালকা গড়নের একটি স্ক্রিপ্ট। এবং প্রায় সব হোস্টিং এর সাথে এটি খাপ খাইয়ে নিতে পারে। এরপরেও কিছু জিনিস থাকা আবশ্যক তা নিম্নরূপঃ

  • পিএইচপি ভার্শন ৭ বা তার বেশি
  • মাইএসকিউএল ভার্শন ৫.৬ বা তার বেশি

ওয়ার্ডপ্রেস জনপ্রিয়তার জন্য বিভিন্ন ওয়েবহোস্টিং কোম্পানি এক ক্লিকে স্ক্রিপ্ট ইন্সটলের সুযোগ দেয়।

ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং
ছবি ক্রেডিটঃ ভিকটেজি

ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং প্রোভাইডার বাছাই করার সময় যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং নির্বাচন করার সময় গতি, নিরাপত্তা এবং নির্ভরযোগ্যতার বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা প্রয়োজন। মূলত, “আপনি কি চাচ্ছেন ” তাই হলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার প্রয়োজন মোতাবেক ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং ক্রয় আপনার হাজার হাজার টাকা বাঁচিয়ে দিতে পারে।

কি ধরনের ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং আপনার প্রয়োজন?

যেমনটা আগে বলেছিলাম, আপনার সামনে হরেক রকমে ওয়েব হোস্টিং সার্ভিস রয়েছে। যেমনঃ ফ্রি হোস্টিং, শেয়ার্ড হোস্টিং, ভিপিএস, ডেডিকেটেড এবং ম্যানেজড হোস্টিং। প্রতিটি বিষয়ে আলোচনা করব এরপর আপনি বেছে নিন আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী।

ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং

হ্যাঁ, ফ্রি হোস্টিং এর অস্তিত্ব রয়েছে। কিন্তু প্রতিটি ফ্রি হোস্টিং এর কিছু না কিছু বাধা রয়েছেই। আপনি ফ্রি হোস্টিং এর অফার বিভিন্ন গ্রুপ বা ফোরামে দেখতে পাবেন। সাধারণত যেকোন একজন ব্যক্তি কাজটি করে থাকে। সে তার সার্ভর হতে ছোট ছোট টুকরো ফ্রি তে দিয়ে কিছু উপার্জন করে থাকে। ব্যাপারটা হয় কি? এত আপনার সাইটে ওদের এড বসাতে হয়। সে এবার আপনার সাইটে সেই এড বিক্রি করে উপার্জন করবে। সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হলো আপনি জানতেই পারবেন না কখন আপনার সাইট তারা বন্ধ করে দিবে। আপনার ওয়েবসাইট নিয়ে যদি আপনি সতর্ক হন তাহলে যেকোন মূল্যে

ফ্রি হোস্টিং ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

শেয়ার্ড ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং

একদম নতুনদের জন্য শেয়ার্ড হোস্টিং খুবই জনপ্রিয়। কারন এটি সাশ্রয়ী এবং শুরু করার জন্য বেশ ভালো একটি পছন্দ। শেয়ার্ড হোস্টিং একটি বিশাল সার্ভর যেই সার্ভারে অসংখ্য ছোটখাট ওয়েবসাইটকে যুক্ত করা হয়। এক সার্ভারে অনেকগুলো সাইট হোস্ট করাতে পারে বলে প্রোভাইডার খুব কম দামে হোস্টিং দিতে পারে। একটা বিষয় মাথায় রাখা জরুরী যে, যত দ্রুত আপনার সাইট গ্রো হবে আপনার খরচ কিন্তু বাড়বে। আবারো বলছি ছোটখাট ব্লগার বা ওয়েবসাইটের জন্য একমাত্র শেয়ার্ড ওয়েব হোস্টিং ভালো শুরু।

ওয়ার্ডপ্রেস ভিপিএস হোস্টিং

ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার (ভিপিএস) একটি ভার্চুয়াল মেশিন বোঝায় । এটি একটি পৃথক সার্ভার যা কম্পিউটারকে একাধিক সার্ভারে পৃথক গ্রাহকের প্রয়োজনীয়তার সাথে ভাগ করে। যদিও এটি অন্য ব্যবহারকারীদের সাথে ভাগ করা হয় কিন্তু তারপরেও এট আপনাকে ডেডিকেটেড সার্ভারের মজা এনে দিবে। ভিপিএস হোস্টিং সিস্টেমে একই মেশিনে একাধিক সাইট থাকে যারা একে অন্যকে হস্তক্ষেপ করেনা। সাধারণ সার্ভারে একটি সাইট ডাউন হলে অন্যট ডাউন হয়ে যায়, কিন্তু ভিপিএস হোস্টিং সিস্টেমে এই ভয় নেই। কারন এখানে প্রতিটি সাইট স্বাধীনভাবে কাজ করে। মিডিয়াম ট্রাফিকের ব্লগ, ডিজাইনার বা ডেভেলপারদের জন্য এটি সেরা।

ওয়ার্ডপ্রেস ডেডিকেটেড হোস্টিং

ডেডিকেটেড ওয়েব হোস্টিং এখন ছোট-বড় সকল ধরনের ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে যেহেতু এটা আপনাকে অনেক বেশি ফ্লেক্সিবিলিটি দিয়ে থাকে। এখানে একটা ইনফরমেশন ই যথেষ্ট “আপনি একাই ১০০০ জন শেয়ারড হোস্টিং ইউজার বা ১০ জন ভিপিএস ইউজার এর সুবিধা ভোগ করতে পারবেন”। একটা ভাল ডেডিকেটেড সার্ভার হোস্টিং এর মাধ্যমে আপনি লক্ষ লক্ষ ভিজিটর কে আপনার ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার সুযোগ দিতে পারবেন। ডেডিকেটেড হোস্টিং এ আপনি সব কিছুই নিজের কন্ট্রোল এ রাখতে পারবেন।

ম্যানেজড ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং

হোস্টিং কোম্পানি নিজেই যদি সব অপারেটিং সিস্টেম/সফটওয়্যার ইনস্টল প্লাস দেখাশোনার কাজ করে তবে সেটাকে বলে ম্যানেজড হোস্টিং। তবে এই ম্যানেজ কিন্তু হোস্টিং কোম্পানী বিনা পয়সায় করে দিবে না। ম্যানেজ করার জন্য হোস্টিং কোম্পানীকে ৫০ ডলার থেকে শুরু করে কয়েকশত ডলার পর্যন্ত দিতে হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনাকে কোন চিন্তা করতে হবে না। আপনার হোস্টিং কোম্পানী আপনার ওয়ার্ডপ্রেস অপ্টিমাইজেশন হতে শুরু করে সিকিউর রাখার সব দায়িত্ব তাদের। এখন যেহেতু আপনি হোস্টিং সম্পর্ক নিয়ে সব জেনে গেছেন এখন আপনার সিন্ধান্ত নেওয়ার পালা আপনি কেমন ধরনের হোস্টিং বেছে নিবেন। আমরা প্রায় অনেক প্রোভাইডার হতে হোস্ট নিয়েছি এবং সাইটের ফাউন্ডার আকাশ নিজে আপনারদের জন্য কিছু হোস্টিং বাছাই করে দিয়েছেন।নিচের প্রতিটি হোস্টিং কোম্পানী বেশ সাপোর্টিভ এবং মানসম্পন্ন। এক নজরে সেসব কোম্পানীদের দেখে নিন।

ব্লগিং শুরু করার জন্য সেরা স্টেপ বাই স্টেপ গাইড প্রথমে দেখে নিন

সেরা ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং প্রোভাইডার

xeonbd

একটি সেরা হোস্টিং কোম্পানী যাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৫ এ। হোস্টিং এর ক্ষেত্রে এক নামে ব্রান্ড বলতে XEONBD এর তুলনা হয় না। XEONBD এর সাথে থাকলে ওয়েবসাইট ডাউন বা স্লো হয়ে যাওয়ার কোন চিন্তা থাকে না। এছাড়া নতুনব্লগ ইউজার হয়ে থাকলে আপনি পাবেন ডোমেইন নাম একেবারে ফ্রি। এছাড়া ২৪/৭ সাপোর্ট তো সাথে রয়েছেই।


প্রায় ৪০ টির থেকেও বেশি দেশে টসহোস্ট তাদের হোস্টিং সেবা দিয়ে আসছে। এটি ২০১২ সালে তাদের কার্যক্রম শুরু করে এবং অন্যান্য হোস্টিং প্রতিষ্ঠানের মত তারাও ২৪ ঘন্টা সহায়তা প্রদান করতে বদ্ধ পরিকর।


বহু আগে থেকেই প্রতিষ্ঠানটি হোস্টিং সেবা দিয়ে আসছে। পাশাপাশি এসএমএস সার্ভিস থেকে শুরু করে সাইট ডিজাইনের কাজও তারা করে থাকে। একদম কম বাজেটের মধ্যে চাইলে আপনি হোস্টিং বাংলাদেশকে বেছে নিতে পারেন। 

মহাকাশের শুরু কোথায়?

রাতের আকাশের ঝিকিমিকি তারাগুলোর দিকে তাকিয়ে আমরা কতোই না স্বপ্ন বুনি! কবির কাছে এই অভ্র যেন কাব্যের আধার, স্বপ্নদ্রষ্টার কাছে সেটা কল্পলোকের রাজ্য। তবে জিজ্ঞাসু হৃদয়ের কোণে প্রশ্নটা উঁকি দিতেই পারে যে, এই অসীম নিসর্গের শুরুটা কোথায়? ধরণী মাতাকে ত্যাগ করে কত সমুদ্দুর পাড়ি দিলে দেখা মিলবে এই মহাকাশের? এ কঠিন প্রশ্নের সহজ উত্তর পেতে হলে আগে জানতে হবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সম্পর্কে।

বায়ুমণ্ডল

ছোটবেলায় বায়ুমণ্ডল নিয়ে আমরা বিজ্ঞান বইয়ে টুকটাক জানতে পেরেছি। আজ এ নিয়ে আরেকটু বিশদ বর্ণনা দেবো। বায়ুমণ্ডল হলো পৃথিবীপৃষ্ঠের উপরে কিছু গ্যাসের স্তর (আমরা যাকে বাতাস বলে থাকি), যাদের পৃথিবী তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তির মাধ্যমে নিজের চতুর্দিকে বেষ্টন করে রাখে। অর্থাৎ, আমরা আমাদের চারপাশে যে বায়ুর অস্তিত্ব অনুভব করি তা বায়ুমণ্ডলেরই অংশ! এখানেই শেষ নয়, এই বায়ুমণ্ডলের অস্তিত্ব পৃথিবী থেকে হাজার মাইল উপরেও বর্তমান! তবে সব উচ্চতায় বায়ুমণ্ডলের আচরণ একইরকম হয় না।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ৫টি প্রধান স্তর রয়েছে। এগুলো হল যথাক্রমেঃ

  • ট্রপোস্ফিয়ার
  • স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  • মেসোস্ফিয়ার
  • থার্মোস্ফিয়ার
  • এক্সোস্ফিয়ার

আমাদের পৃথিবীপৃষ্ঠের সবচেয়ে নিকটে বায়ুমণ্ডলের যে স্তর বিদ্যমান তার নাম ট্রপোস্ফিয়ার বা ট্রপোমণ্ডল। এর ব্যবধি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১২ কি.মি. (প্রায় ৭ মাইল) উচ্চতায়, যদিও এই ব্যবধির মান মেরু ও বিষুবীয় অঞ্চলে অনেকটাই পাল্টে যায় (৯ কি.মি. থেকে ১৭ কি.মি.)। এ অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হয় নিচের দিকে, কেননা ট্রপোমণ্ডল তার অধিকাংশ তাপ পৃথিবীপৃষ্ঠ হতেই লাভ করে। সর্বনিম্নের এই স্তরটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অধিকাংশ ভর বহন করে – বলা যায় প্রায় ৮০ শতাংশ। বায়ুমণ্ডলের প্রায় সকল জলীয় বাষ্পের অবস্থান এই স্তরে, তাই আবহাওয়া-জনিত সকল ঘটনা- ঝড়,বৃষ্টি,বাদল এই স্তরেই ঘটে।

এরপরেই যে স্তরের কথা আমরা জানব তার নাম স্ট্রাটোস্ফিয়ার বা শান্তমণ্ডল। এটি বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় নিম্নস্তর, যা ট্রপোপজ রেখা দ্বারা ট্রপোমণ্ডল থেকে পৃথককৃত হয়। বায়ুমণ্ডলের এই অঞ্চল পৃথিবীপৃষ্ঠ হতে প্রায় ১২ কি.মি. উচ্চতা থেকে শুরু হয়ে ৫০ কি.মি. উচ্চতায় স্ট্র‍্যাটোপজ রেখার প্রান্তে এসে শেষ হয়। শান্তমণ্ডলের নীচের দিকের সাধারণ তাপমাত্রা মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও যতো উপরের দিকে যাওয়া যায়, এর তাপমাত্রা ততোই বাড়ে। শান্তমণ্ডলের সর্বোচ্চ অবস্থানের তাপমাত্রা ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ স্তরের বায়ুচাপ খুবই কম, সমুদ্রপৃষ্ঠের চাপের প্রায় এক হাজার ভাগের একভাগ, যা আমাকে-আপনাকে সহজেই মেরে ফেলতে পারে। তবুও আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এই স্তরের অনবদ্য ভূমিকা বর্তমান। বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তর এই স্ট্রাটোস্ফিয়ারেই অবস্থিত, যা পৃথিবীতে ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি হতে রক্ষা করে। শান্তমণ্ডলে আবহাওয়া বলে কিছু নেই, তাই উড়োজাহাজ গুলো এই স্তর দিয়ে সহজেই চলাচল করতে পারে।

বায়ুমণ্ডলের তৃতীয় স্তরটির নাম মেসোস্ফিয়ার, যার কথা না বললেই নয়। এটা সেই স্তর যা মহাকাশে ভাসমান ভয়ানক ও বিশালাকৃতির মিটিওরগুলোকে ভস্মীভূত করে আমাদের বিলুপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। এর ব্যবধি পৃথিবীপৃষ্ঠ হতে প্রায় ৫০ কি.মি. উচ্চতায় স্ট্র‍্যাটোপজ রেখা হতে পৃথিবীপৃষ্ঠের প্রায় ৮৫ কি.মি. উচ্চতায় মেসোপজ রেখা পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানের তাপমাত্রা খুবই ঠাণ্ডা, বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই অঞ্চলে রেকর্ড করা হয় (মাইনাস ৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। এই উচ্চতায় বায়ুর পরিমাণ খুবই কম, তাই উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য এটি যেমন বিপদজনক, তেমনি কক্ষপথে ভ্রমণকারী মহাকাশযান (যেমনঃ স্যাটেলাইট) চলাচলের জন্য এই স্তরটি অনেকটাই নীচু বলে মনে হয়।

বায়ুমণ্ডলের সবচাইতে উষ্ণ স্তরটির নাম থার্মোস্ফিয়ার। এটি মেসোপজ রেখা (উচ্চতাঃ ৮৫ কি.মি.) হতে থার্মোপজ রেখা (পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতাঃ ১০০০ কি.মি.) পর্যন্ত বিস্তৃত। যদিও এ অঞ্চলের বায়ুর উষ্ণতা প্রায় ২০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, মজার ব্যাপার হলো, বায়ুর পরিমাণ ও ঘনত্ব খুব কম বিধায় এই স্তরে উল্টো প্রচণ্ড ঠাণ্ডা অনুভূত হয়! এই অঞ্চলে ‘আয়নোস্ফিয়ার’ নামক বায়ুমণ্ডলের একটি উপ-স্তর অবস্থিত, যার কাজ রেডিও-তরঙ্গ সঞ্চালনে সহায়তা করা। এখানে ‘Aurora’র সৃষ্টি হয়। সূর্যের বিভিন্ন ক্ষতিকর বিকিরণ, উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি এবং এক্স-রে শোষণ করে এটি পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে সহায়তা করে। শুধু কি তাই, আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনও যে এই স্তরেই বসুধার চারপাশে আবর্তিত হয়!

এই থার্মোস্ফিয়ারেই বায়ুমণ্ডলের ইতি ঘটতে পারতো, তবে NASA এবং কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন যে এরও ওপরে বায়ুমণ্ডলের আরেকটি স্তর – হ্যাঁ, বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ স্তর বিদ্যমান। নাম তার এক্সোস্ফিয়ার, যা কিনা বায়ুমণ্ডলের সর্ববৃহৎ স্তর। এর ব্যবধি শুনলেও অবাক হবেন – পৃথিবীপৃষ্ঠের ৭০০ কি.মি. উপরে থার্মোপজ রেখা থেকে শুরু হয়ে প্রায় ১৯০,০০০ কি.মি. পর্যন্ত, যা পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের প্রায় অর্ধেক! তবে যত বিশালই হউক না কেন, এই স্তরে বায়ুর পরিমাণ প্রায় ০.০০০১% এর চাইতেও কম! তবে কেন এই স্তরকে বায়ুমণ্ডলের অংশ হিসেবে ধরা হয়?

কারণ নাসার বিজ্ঞানীরা মনে করে থাকেন বায়ুমণ্ডলে এক্সোস্ফিয়ারেও থার্মোস্ফিয়ারের মতো সূর্যের ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় রশ্মি এবং ‘সৌরবায়ু’র শোষণ ঘটে, যার প্রভাবে জীবজগৎ থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা ডিএনএ পর্যন্ত গলে যেতে পারে! অধিকাংশ কৃত্রিম উপগ্রহ এই স্তরে থেকেই পৃথিবীকে আবর্তন করে। এ স্তরে ম্যাগনেটোস্ফিয়ার নামে আরেকটি উপস্তরের দেখা পাওয়া যায়। এক্সোস্ফিয়ারে হালকা ঘনত্বের কিছু অণু (হাইড্রোজেন, হিলিয়াম) এবং ভারী ঘনত্বের কিছু অণুর (নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড) দেখা মিলে, যা কিনা ধীরে ধীরে মহাকাশের প্রকৃত শূন্যের সাথে মিলিয়ে যায়।

সবই বুঝলাম, তাহলে এই মহাকাশের শুরুটা কোথায়?

মহাকাশের শুরু

এই প্রশ্ন দেখতে যত সহজ তার উত্তরটা ততোই জটিল। Fédération Aéronautique Internationale (FAI) এর মতে, পৃথিবীপৃষ্ঠের ১০০ কি.মি. উপরে কার্মান লাইন(নামকরণঃ হাঙ্গেরীয়ান-আমেরিকান ইঞ্জিনিয়ার থিওডোর ভন কারমান এর নামানুযায়ী) হতে মহাকাশের শুরু, যা NASA কর্তৃক স্বীকৃত।

আমি জানি এই মূহুর্তে আপনার মস্তিষ্কে কোন প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে! ১০০ কি.মি. উচ্চতায় যেখানে বায়ুমণ্ডলই শেষ হয় না, সেখান থেকে মহাকাশের শুরু হিসেব করা্টা কতোটুকু যৌক্তিক? হ্যাঁ, প্রশ্নটার একটা সুন্দর উত্তর আছে। পৃথিবী থেকে ১০০ কিলোমিটার উচ্চতায় যে কার্মান লাইনের দেখা পাওয়া যায়, তার অবস্থান বায়ুমণ্ডলের থার্মোস্ফিয়ার অঞ্চলে। এই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য গুলোতে আরেকবার চোখ বোলালে দেখতে পাবেন, এতে বায়ুর পরিমাণ খুবই কম। কার্মান লাইনের উপরে বায়ুর ঘনত্ব এতটাই কম যে বায়ুমণ্ডলের ওজনের মাত্র ০.০০০০৩% এর উপরে অবস্থান করে! কল্পনা করুন তো একবার! এবার আপনিই বলুন, শুধু এই ০.০০০০৩% ভরের জন্য কি আরও হাজার হাজার কিলোমিটারকেও পৃথিবীর আকাশসীমার মধ্যে হিসেব করা উচিৎ?

কেউ বলবে হ্যাঁ, কেউ বলবে না। বিতর্ক ছিল, আছে এবং থাকবে। তাই যদি প্রশ্ন করা হয় – বায়ুমণ্ডলের শেষ কোথায়? বায়ুমণ্ডলের প্রান্ত থেকেই কি মহাকাশের শুরু? জগতে সকল প্রশ্নের উত্তর একবাক্যে দেওয়া সম্ভব নয়। পৃথিবী থেকে যতোই দূরে যাবেন বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব ততোই কমবে। তবে প্রশ্নটা যদি হয় এমন – মহাকাশের শুরু কোন উচ্চতায়? তবে বলবো, কার্মান লাইন থেকে। কেন? হয়তো অন্য কোনো লাইন নেই বলে! আসলে মহাকাশের নির্দিষ্ট কোনো আদ্যস্থল নেই। তবে কখনো যদি সেটা ধরে নিতে হয়, ১০০ কি.মি. উচ্চতাটাই বা খারাপ কোথায় বলুন?

ইমেইল কি? ইলেক্ট্রনিক মেইল সম্পর্কে মৌলিক ধারনা

প্রতিদিন বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের কাছে মেসেজ পাঠাতে সবচেয়ে বেশি আমরা যা ব্যবহার করি সেটি আর কিছুই নয় কিন্তু ইমেইল। বেশিরভাগ মানুষ কিন্তু তাই করে থাকে। তারা বারবার তাদের ইমেইল চেক করতে থাকে, অফিসের কাজে ইমেইল ব্যবহার করে এমনকি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে একাউন্ট খুলতেও ইমেইল ব্যবহার করে থাকে।

এই বিষয়ে নিশ্চিত ভাবে বলা যায়, যোগাযোগের যতগুলো মাধ্যম রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে মাধ্যম ব্যবহার করা তা হল ইমেইল (ইলেক্ট্রনিক মেইল)। কি ভাবছেন, শুধুমাত্র চিঠির ব্যবহারই কমিয়েছে এটি? না, টেলিফোনের ব্যবহারও কিন্তু এখন অনেক ক্ষেত্রেই কমে গেছে। আপনার চাকরির সিভি জমা দিতেও কিন্তু এখন ইমেইল ব্যবহার করা হয়।

তাহলে ইমেইল কি? এবং ইমেইল কিভাবে কাজ করে? ইমেইলের পেছনের দৃশ্য কিন্তু বিশাল, এক পর্দায় দেখানো বেশ কঠিন। সেই দৃশ্য কিন্তু আজকে আমরা দেখাচ্ছি না। তার বদলে আমরা গুরুত্বপূর্ণ দুইটি বিষয়ের উপর আজ আলোক পাত করবঃ ১) ইমেইল কি? ২) কেন মানুষ বেশি বেশি ইমেইল ব্যবহার করে?

আরো দেখুনঃ

ইমেইল কি?

ইমেইল (পড়ুন ই-মেইল) হলো ডিজাটাল বার্তা। যেখানে কাগজ কলম ব্যবহার করার পরিবর্তে আপনি ব্যবহার করছেন কিবোর্ড এবং ফোন বা কম্পিউটার।

ইমেইল এড্রেস লেখার ক্ষেত্রে সবার প্রথমেই কাস্টম ইউজার নেইম লেখা হয় এবং @ এর পরে ডোমেইন নেইম লেখা হয়। যেমনঃ name@gmail.com

ইমেইল নিয়ে আরো কিছু মৌলিক তথ্য নিম্নরূপঃ

  • ইমেইল পাঠানোঃ সঠিক ভাবে যখন আপনি ইমেইল লিখে ফেলবেন অর্থ্যাৎ, ইমেইল এবং ইমেইল এড্রেস ঠিক ভাবে প্রদান করবেন, তখন ইমেইল পাঠানো মানে হলো সেই ইমেইলটি তার নির্ধারিত এড্রেসে পৌঁছে যাবে।
  • ইমেইলের মাধ্যমঃ প্রেরকের ইমেইল প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করে থাকে ইমেইল সার্ভার। মেসেজ পাঠানোর প্রোটকলটির নাম হল এসএমটিপি(SMTP), এবং ইমেইল ক্লায়েন্টের কাছে কিভাবে ইমেইলটি গ্রহিত হবে তা বুঝতে প্রয়োজন হয় পিওপি(POP) এবং আইমএপি(IMAP) সার্ভার।
  • ইমেইল গ্রহনঃ নতুন মেসেজ পেলে,শুধুমাত্র প্রাপ্ত মেসেজটিতে ট্যাপ করলেই মেসেজটি স্ক্রিনে ফুটে উঠবে।

ইমেইল কেন ব্যবহার করা হয়? 😕😕

প্রতিদিন ইমেইল ব্যবহারের পিছনে যথেষ্ট কারন রয়েছেঃ

  • দ্রুততাঃ ইমেইল পাঠানোর ক্ষেত্রে সময়ের স্বল্পতাই কিন্তু ইমেইলকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। এখন সেকেন্ডেই কিন্তু বাসার পাশের মানুষ বা পৃথিবীর অপর প্রান্তের মানুষের সাথে খুব সহজেই যোগাযোগ করা যায়। 😉
  • সুবিধাঃ কিছু ক্ষেত্রে ফোন কলের থেকেও ইমেইল বেশি কাজে দেয়। যেমনঃ একজন ব্যক্তিকে আপনি ফোন নাম্বার দিবেন, এক্ষেত্রে ফোন কলের মাধ্যমে দিতে হলে আগে নাম্বার কাগজে লিখে এরপর ফোনে বলতে হবে। কিন্তু আপনি একটা ইমেইলের মাধ্যমেই কাজটি সহজেই সেড়ে ফেলতে পারেন। 😉
  • সংযুক্তিঃ ইমেইলে কোন সংযুক্তি পাঠানো খুবই সহজ এবং সিম্পল। চাকরির আবেদনে সিভি পাঠাতে হবে? ইমেইলেই সংযক্ত করে দিন! ব্যাস, খেলা শেষ 😉
  • তথ্য ভান্ডারঃ ইমেইলে কিন্তু আপনার প্রতিটি কনভারসেশনের তথ্য সংরক্ষন করে। এ কারনে ইমেইল প্রিন্ট করা খুবই সহজ হয়। উপরন্তু, ইমেইল প্রোভাইডারদের বিশাল স্টোরেজে আপনি অনায়েসে তথ্য রেখে দিতে পারেন।
  • অফুরন্ত জায়গা এবং সময়ঃ ফোনে এসএমস পাঠাতে কিন্তু একটা নির্দিষ্ট ক্যারেক্টারের মধ্যে দিতে হয়। ইমেইলে সেই বাধাধরা নেই, মানে যত ইচ্ছা লিখে যান, বলার কেউ নেই। যত সময় নিয়েই আপনি লিখুন এবং রিভাইজ করুন কোন সমস্যা নেই।
  • ফ্রি ফ্রি ফ্রি! অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে চিঠি পাঠাতে আপনাকে ব্যয় করতে হতো কিন্তু এখন ফ্রি ইমেইল প্রোভাইডার এসে পড়ায় ইমেইল পাঠাতে কোনরূপ অর্থ দিতে হয়না বরঞ্চ আপনি আনলমিটেড স্টোরেজ পেয়ে যান।
  • নিরাপত্তাঃ এমন কিছু ইমেইল সার্ভিস প্রোভাইডার রয়েছে যারা আপনার পাঠানো মেসেজকে ৫/৬ লেয়ারের নিরাপত্তা দিয়ে থাকে যাতে সেগুলো প্রেরক এবং প্রাপক ছাড়া অন্য কেউ দেখতে না পারে।

ইমেইলের সীমাবদ্ধতা

ইমেইলের সবচেয়ে বড় যে সমস্যা রয়েছে তা হলো, অযাচিত বার্তা বা স্প্যাম মেইল।

এধরনের প্রচুর অযাচিত মেইলের ভিতরে আপনার কাংখিত ইমেইল খুঁজে পেতে এক ধরনের বেগ পেতে হয়। অবশ্য বর্তমানে অনেক প্রোভাইডার ফিল্টারিং এর মাধ্যমে স্প্যাম মেইলগুলোকে আলাদা করে রাখে কিন্তু তার পরেও এটি খুবই বিরক্তিকর। এক্ষেত্রে সঠিকভাবে রিপোর্ট করলেই স্প্যাম থেকে মুক্তি পাওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে।

সঠিকভাবে রিপোর্ট করবেন কিভাবে?

  1. মেসেজেটি কোন এড্রেস থেকে এসেছে তা শনাক্ত করুন
  2. প্রেরকের আইএসপি(ISP) কে খুঁজে বের করুন
  3. ISP -র সাথে যোগাযোগ করতে সঠিক ব্যক্তিকে খুঁজে বের করুন।

স্যাটেলাইট নিয়ে বিস্তারিত (বিশেষ পর্ব)

স্যাটেলাইট শব্দটা জ্যোতির্বিজ্ঞানে প্রথম ব্যবহার করেছিলেন জোহানেস কেপলার, ১৬১০ সালে, বৃহস্পতিকে ঘিরে ঘূর্ণায়মান চাঁদগুলোকে বুঝানোর জন্য, যে চাঁদগুলো প্রথম দেখেছিলেন গ্যালিলিও গ্যালিলি, তার নিজের নির্মিত টেলিস্কোপ দিয়ে। মনে প্রশ্ন আসছে না, স্যাটেলাইটের নাম কেন “স্যাটেলাইট”? উত্তরটা দেয়া যাক। স্যাটেলাইট শব্দটা আসছে ল্যাটিন থেকে, যেটার ইংরেজি অনুবাদ করলে দাঁড়ায় “অনুসরণ করা”। চাঁদ পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরছে, চাঁদ একটি স্যাটেলাইট। পৃথিবী সূর্যকে ঘিরে ঘুরছে, সুতরাং পৃথিবীও একটি স্যাটেলাইট। সূর্য আকাশগঙ্গা গ্যালাক্সিকে ঘিরে ঘুরছে, সুতরাং সূর্যও একটি স্যাটেলাইট।

এগুলা হচ্ছে প্রাকৃতিক স্যাটেলাইট। কিন্তু, “মানুষের তৈরি কোনো যন্ত্র পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরছে” এই ধরণের কিছু বুঝানোর জন্য “স্যাটেলাইট” শব্দটার ব্যবহার হয় প্রথমে থিওরিটিক্যালি, ১৯৩৬ সালে এবং পরে বৈজ্ঞানিকভাবে গৃহীত হয় ১৯৫৭ সালে, যখন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন মহাকাশে মানবসভ্যতার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠায়। স্পুটনিক-১ এর নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই। এর পরের বছরই ১৯৫৮ সালে আমেরিকা পাঠায় তাদের বানানো প্রথম স্যাটেলাইট, নাম এক্সপ্লোরার-১।

স্যাটেলাইট জিনিসটা আসলে কী?

জিনিসটা আসলে কী? একটা জিনিস রকেট দিয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে পাঠিয়ে দিলাম, কেন সেটা ছিটকে পড়ছে না বাইরে? বা, আবার পড়ে যাচ্ছে না পৃথিবীতে? এখানেই বিজ্ঞানের সৌন্দর্য। যে কোনো বস্তুই অন্য বস্তুকে নিজের দিকে টানে, যাকে আমরা মহাকর্ষ বলি। আর, সেই বস্তুগুলার একটা যদি পৃথিবী হয়, তখন পৃথিবী যেই বলে অন্য বস্তুটাকে টানে, তাকে বলে অভিকর্ষ (অর্থাৎ, অভিকর্ষ মহাকর্ষের একটি বিশেষ নাম, যেখানে পৃথিবী অন্তর্ভুক্ত)। এই মহাকর্ষ বলের কারণেই আমরা এবং সৌরজগতের অন্যরা সূর্যের চারিদিকে ঘুরছি অবিরাম। তো, পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের বাইরে কোনো স্থানে (কক্ষপথে) পৃথিবীর এই আকর্ষণবল এবং পাঠানো বস্তুর গতি, এই দুটোর ভারসাম্য খুঁজে বের করে যদি সেই গতিতে কোন কিছুকে সেখানে পাঠানো হয়, তখন সেটা সেখানে পৃথিবীর আকর্ষণে আটকে গিয়ে ঘুরতে থাকবে পৃথিবীকে ঘিরে। যেহেতু বায়ু বা অন্য কোনো কিছুর বাধা নেই সেখানে, তাই সেই গতিতেই সেটা চলতে থাকে, চলতেই থাকে (নিউটনের গতির প্রথম সূত্র)।

দেখুনঃ

বুঝলাম যে, তারা পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। সেখানে তো হাজার হাজার এরকম স্যাটেলাইট ঘুরছে। কিন্তু, তাদের মধ্যে কোনো সংঘর্ষ হচ্ছে না কেন? সংঘর্ষ হচ্ছে না কারণ তারা প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথে এবং ভিন্ন ভিন্ন গতিতে প্রদক্ষিণ করছে পৃথিবীকে। এরপরও যে সংঘর্ষ হয় না, তা না। এইতো ২০০৯ এর ফেব্রুয়ারিতেই দুইটা কম্যুনিকেশন স্যাটেলাইট এর মধ্যে সংঘর্ষ হলো যারা একটি ছিল আমেরিকার, আরেকটি রাশিয়ার। তবে এটিই এখন পর্যন্ত এই ধরনের একমাত্র ঘটনা।

স্যাটেলাইট কেন?

হাজার ট্যাকা খরচ করে পাঠায়ে তো দিলাম। লাভ কী? লাভ হইলো, এইযে আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করে ফেসবুকে বসে স্যাটেলাইটের প্রয়োজন নিয়ে মজা করছেন, ট্রল করছেন, সেই আপনি যেন আপনার জীবনটা একটু স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে কাটাতে পারেন সেটা নিশ্চিত করা। সেটা কিভাবে করে? সেটা করে আবহাওয়া সম্পর্কে আগাম পূর্বাভাস দিয়ে, যাতে আপনি আপনার প্র্যাতাহিক জীবনে আবহাওয়া, ঝড় ,জলোচ্ছ্বাস, হ্যারিকেন এসব সম্পর্কিত ঝামেলায় কম পড়েন।

এরপর ধরেন, অব্যবহৃত ব্রেইনের অকার্যকারিতার কারণে কখনো কোথাও হারিয়ে গেলে যেন নিজের সঠিক অবস্থান সম্পর্কে অন্যদেরকে নিখুঁত তথ্য দিতে পারেন সেটা নিশ্চিত করা। যেন ফোনে আপনার বন্ধুর সাথে স্যাটেলাইটের অপ্রয়োজনীয়তা নিয়ে, এটা বানাতে এবং পাঠাতে যে হাজার কোটি টাকার অপচয়, সেটা নিয়ে আরও সহজে এবং ঝামেলামুক্তভাবে ঠাট্টা মশকরা করতে পারেন, সেটার ব্যবস্থা করা। ঠাট্টা মশকরা করা শেষ হলে এরপর একটা টিভি চ্যানেল খুলে যেন আরামসে কিছুক্ষণ কোনো ঝামেলা ছাড়া কোয়ালিটি টাইম পাস করতে পারেন, সেটার ব্যবস্থা করা। আপনার জন্য আপাতত এগুলোই। আরও অনেক কিছুই আছে যেগুলা আসলে আপনার দৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় বলে মনে না হওয়াই স্বাভাবিক। যেমন, সূর্য, সৌরঝড়, উল্কাপাত, উল্কাদের গতি-প্রকৃতি এবং সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহ-উপগ্রহগুলো পর্যেবক্ষণ করা। সৌরজগতের বাইরের নক্ষত্র, গ্রহ, গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণ করা যেসব বিজ্ঞানীদেরকে আমাদের এই মহাজগৎ সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে সাহায্য করবে।

স্যাটেলাইট কত প্রকার?

অনেক ধরণের স্যাটেলাইটই আছে। তবে, মূলত যে দুটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত সেদুটি হচ্ছে জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট এবং পোলার অরবিটিং স্যাটেলাইট। জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট হচ্ছে সেগুলো যেগুলোর গতি পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির সমান এবং বিষুবরেখা বরাবর পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘুরতে থাকে। ফলে তাদেরকে পৃথিবী থেকে একটা নির্দিষ্ট অবস্থানের সাপেক্ষে স্থির বলে মনে হয়, যেটা এইরূপ নামকরণের কারণ। মূলত রেডিও, টেলিভিশন, টেলিফোন, কোন কিছুর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য (GPS – Global Positioning System) – এই ধরণের যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত হয় এই স্যাটেলাইট।

আরেকটি হচ্ছে পোলার অরবিটিং স্যাটেলাইট। নাম থেকেই বুঝা যাচ্ছে, এটার ঘূর্ণনগতি হচ্ছে পোল টু পোল, মানে উত্তর দক্ষিণ বরাবর। যেহেতু পৃথিবী ঘুরে পূর্ব পশ্চিম বরাবর এবং এই স্যাটেলাইট ঘুরে উত্তর দক্ষিণ বরাবর, তাই এটা পৃথিবীর কোনো একটা অবস্থানের সাপেক্ষে কখনোই স্থির থাকে না, বরং একেকবার পৃথিবীর একেক অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রদক্ষিণ করে। এই ধরণের স্যাটেলাইট মূলত ব্যবহার হয় পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্য। এটির উচ্চতাও জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট এর তুলনায় অনেক কম। জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইটের ভূপৃষ্ঠ থেকে দূরত্ব যেখানে প্রায় ২০,০০০ কিলোমিটার, পোলার স্যাটেলাইট এর ক্ষেত্রে এই দূরত্ব মাত্র ৮৫০ কিমি। ফলে এটি আরও অনেক ভালোভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও ভূপৃষ্ঠ স্ক্যান করতে পারে এবং আবহাওয়া সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে আরও নিখুঁতভাবে।

স্যাটেলাইট
জিওস্টেশনারি এবং পোলার স্যাটেলাইটের অরবিট

বাংলাদেশের জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট, যা প্রথমে মে ১০, ২০১৮ তারিখে লঞ্চ করার কথা ছিল, যেটা কারিগরি সমস্যার কারণে সম্ভব হয়নি; যে কোনো স্যাটেলাইট পাঠানোর ক্ষেত্রে যেটা খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। পরের দিন, অর্থাৎ মে ১১, ২০১৮ তারিখে সফলভাবে স্যাটেলাইটটি মহাশূন্যে প্রেরণ করা হয়।

এটা কি বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট?

অনেকেই দেখলাম এই ভুলটা করছে। না, এটা বাংলাদেশের পাঠানো প্রথম স্যাটেলাইট না। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো প্রথম স্যাটেলাইট হচ্ছে “ব্র্যাক অন্বেষা”, সেটা একটা পোলার ন্যানো-স্যাটেলাইট যেটা পাঠানো হয়েছে ৩ জুন, ২০১৭ তারিখে। তবে বঙ্গবন্ধু-১ হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম জিওস্টেশনারি কম্যুনিকেশন স্যাটেলাইট। মজার ব্যাপার হচ্ছে, “ব্র্যাক অন্বেষা”এবং বঙ্গবন্ধু-১, দুটোই স্পেস-এক্স নামক সংস্থার মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

স্যাটেলাইট দুনিয়ায় আমাদের প্রবেশ আরো আগে হলেও কম্যুনিকেশন স্যাটেলাইটের জগতে আমরা প্রবেশ করেছি বঙ্গবন্ধু-১ এর মাধ্যমে। এটা কি চমৎকার এবং অসাধারণ অনুভূতির একটা ব্যাপার না যে, নিজের দেশের কম্যুনিকেশন স্যাটেলাইট জগতে পদার্পণের মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরেছি আমরা?

আর্টিকেল মূলঃ বিজ্ঞানযাত্রা

কিভাবে সেরা ডোমেইন নেইম বেছে নিবেন

আপনি যদি অনলাইনে কোন ব্যবসা বা ব্লগ শুরু করতে চান সেক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের পছন্দের নাম বা ডোমেইন নেইম বেছে নেওয়া বা খুঁজে পাওয়া। নামটি খুব সতর্ক তার সহিত চিন্তা করুন কেননা অপনার ব্লগ বা ব্যবসাটি অনলাইন হোক বা অফলাইন সেই নামেই পরিচিত হবে।

সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর যেমন নাম রাখা খুবই জরুরী ঠিক তেমনি আপনার ব্যবসায়ের ডোমেইন নেইম ঠিক ততখানিই জরুরী। কারণ যতদিন আপনার ব্যবসায় বা ব্লগটি থাকবে তা সেই নামেই পরিচিত হবে। আপনার ব্লগ বা ব্যবসায়ের ডোমেইন নেইম ঠিক করার অনেকগুলো চলিত নিয়ম রয়েছে, যা আপনার ব্লগে/ব্যবসায়ের নাম বাছাই করার ক্ষেত্রে বেশ ভাল ভূমিকা রাখবে।

আপনার ব্যবসা বা ব্লগের ধরণের উপর নির্ভর করে আপনি নাম ঠিক করতে পারেন। যাইহোক, আপনাকে অনলাইনে পরিচিত হতে হলে অবশ্যই একটি ইউনিক নাম ভেবে রাখা উচিত।

দেখুন:

একটি কোম্পানির জন্য ডোমেইন নাম বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই ব্র্যান্ড এর বিষয় টি মাথায় রাখা প্রয়োজন। ডোমেইন নামটি অবশ্যই ব্র্যান্ড নামের সাথে মিল রেখে নিতে হবে। নামটি অবশ্যই স্মার্ট এবং সহজে মনে রাখা যায় এমন হতে হবে।

কিওয়ার্ড এবং নাম

ন্যূনতম ১০ টি প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সিলেক্ট করুন এবং কিছু জনপ্রিয় শব্দ মাথায় রাখুন। xeonBD Domain Generator ব্যবহার করে আপনি ডোমেইন নাম বেছে নিতে পারেন।

এছাড়া Namemesh বা Wordoid ব্যবহার করে আপনি ভিন্ন ভিন্ন নাম বেছে নিতে পারেন।

ডোমেইন নেইম

নতুন ব্লগার হিসেবে আপনার কাছে ডোমেইন নেম এক্সটেনশন বেছে নেওয়া খুবই ঝামেলার মনে হতে পারে। আপনি রীতিমত কনফিউজ হয়ে যাবেন, এত এত এক্সটেনশন কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত। .com ডোমেইন নেওয়া আপনার প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত। .com না থাকলে তখন আপনি অন্য গুগল এক্সটেনশন যেমন, .photo, .photo , .co ইত্যাদি বেছে নিতে পারেন। প্রচুর ডোমেইন এক্সটেনশন থেকে থাকলেও আমার সাজেশন হলো আপনি .com এক্সটেনশনে আপনার নামটা বেছে নিন।

সহজে মনে রাখার মত

যে নামটা টাইপ করতে কষ্ট সেটা কি আদৌ মনে রাখা সমম্ভব? উদাহরণ স্বরূপ: whoossaazt! এটি কি আপনার মনে থাকবে?

আমার ডোমেইনটি লক্ষ্য করুন: notunblog– notun—blog আপনি ধরতে পেরেছেন আমি কি বলতে চেয়েছি।

এমন নাম বাছাই করুন যেটা মনে রাখা সহজ এবং যে নাম বানানের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করবে না।

হাইফেন থেকে দূরে থাকুন

আপনি যদি রিচ কীওয়ার্ড ডোমেইন নেইম বানাতে চান তাহলে হাইফেন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন ।

কয়েক বছর আগে হাইফেন ব্যবহৃত ডোমেইন নেইম র্যাঙ্ক করলেও এখন আর সেটি হচ্ছে না। আপনি গুগল র্যাঙ্কিংয়ে দেখতে পাবেন কোন হাইফেন ব্যবহৃত ডোমেইন নেইম নেই।

আপনি চাইলে যেকোন ডোমেইন রেজিস্টার হতে ডোমেইন নেইম কিনে নিতে পারবেন। যদি আমার সাজেশন খুঁজে থাকেন তাহলে আপনি নিচের প্রোভাইডার হতে ডোমেইন কিনতে পারেন।

আমাদের পোষ্ট নিয়ে আপনার অভিব্যক্তি প্রকাশ করুন এছাড়া ডোমেইন নেইম বাছাইয়ের যদি অন্যকোন উপায় থাকে তাহলে তা আমাদের জানান।

এছাড়া আমাদের আর্টিকেল ভালো লেগে থাকলে আমাদের সাথে ফেইসবুকে বা ইউটিউবে যুক্ত থাকতে পারেন। আজকের মত এটুকুই।

ফিচার ইমেইজ সোর্স: Freepik

এডসেন্স এবং তার আদ্যোপন্ত – পর্ব ১ (ইন্ট্রো)

পূর্ববর্তী পোষ্টগুলোতে আপনারা ইউটিউব মোনেটাইজেশন, ইউটিউব এড, ইউটিউব এড এর প্রকারভেদ ও মূল্য এবং CPM, CPC, RPM প্র্রভৃতি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।আজকের পোষ্টে আপনাদের Google এডসেন্স সম্পর্কে জানানো হবে।

যারা পূর্বের পোষ্টগুলো পড়েন নি, তারা সেগুলো পড়ে নিবেন।

দেখুন:

Google Adsense

যারা আমার পূর্বের পোষ্টগুলো পড়েছেন তারা অবশ্যই এতদিনে বুঝতে পেরেছেন যে গুগল এডসেন্স কি। এটি হল গুগলের একটি বিজ্ঞাপন প্লেসমেন্ট সেবা। আপনার ব্লগ, ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করার ক্ষেত্রে এডসেন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এডসেন্স ব্যতীত আপনি আপনার ব্লগ, ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করতে পারবেন না।

বিশেষ করে আপনার যদি ব্লগ বা ওয়েবসাইট থাকে এবং আপনি যদি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে আয় করতে চান তাহলে আপনার জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এডসেন্স এর মাধ্যমে ব্লগ ও ওয়েবসাইট পাবলিশাররা বিভিন্ন সাইজ ও মূল্যের এড তাদের ব্লগ বা ওয়েবসাইটে প্রদান করতে পারে যার ফলে তাদের প্রচুর আয় হয়। অনেকেই মনে করেন যে, এডসেন্স একাউন্ট খুলতে হলে গুগলকে টাকা দিতে হয়। ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। একাউন্ট খোলার জন্য আপনাকে কখনো টাকা দিতে হবে না।

এডসেন্স

এডসেন্স একাউন্টের প্রকারভেদ

গুগল AdSense মূলত ২ প্রকার একাউন্ট সুবিধা প্রদান করে থাকে। এগুলো হল –

  1. Hosted AdSense Account
  2. Non-Hosted AdSense Account

একজন পাবলিশার সে ব্লগ, ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব যেটিরই পাবলিশার হক না কেন সে এ ২টি একাউন্টের মধ্যে যে কোন একটি একাউন্ট খুলতে পারবে। অর্থাৎ একজন পাবলিশার হয় হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট কিংবা নন-হোস্টেড Adsense একাউন্ট এ ২টির মধ্যে যেকোনো একটি খুলতে পারবেন। হোস্টেড AdSense একাউন্ট ও নন-হোস্টেড AdSense একাউন্ট এ ২টির নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

Hosted AdSense Account

যে একাউন্টের মাধ্যমে এড শুধুমাত্র গুগল প্রোডাক্টস(যেমন- ইউটিউব, ব্লগস্পট) এ প্রদর্শিত হয়, সে একাউন্টটি হল একটি হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট।

এ ধরণের একাউন্টে একাউন্টের উপরের দিকে Hosted Account নামে একটি লেবেল থাকে। এ একাউন্টের ক্ষেত্রে এড শুধুমাত্র গুগল প্রোডাক্টসে প্রদর্শিত হবে।কেননা এ একাউন্ট শুধুমাত্র গুগলের পার্টনার ওয়েবসাইট যেমন- ইউটিউব, ব্লগস্পট, হাবপেইজ প্রভৃতি থেকে approve বা অনুমোদন করা হয়।

দেখুন:

হোস্টেড AdSense একাউন্টের মাধ্যমে আপনি আপনার নিজের হোস্ট করা কোনো ওয়েবসাইটে(যেমন- আপনি যদি কোনো হোস্টিং প্ল্যান ও ডোমেইন ক্রয় করে নিজের কোনো ওয়েবসাইট তৈরি করেন) এড দিতে পারবেন না। কেননা হোস্টেড একাউন্ট এ ধরণের ওয়েবসাইটে এড প্রদান করে না।

উল্লেখ্য যে, ব্লগস্পট থেকে যদি আপনি কোনো ওয়েবসাইট তৈরি করা থাকেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের ডোমেইন নাম হবে blogspot.com। এ একাউন্ট ইউটিউবে এড দেওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। তবে আপনি গুগলের ব্লগস্পট থেকে আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করেন তাহলে আপনি আপনার হোস্টেড AdSense একাউন্ট থেকে আপনার ব্লগস্পট ওয়েবসাইটে এড দিতে পারবেন। কেননা ব্লগস্পট হল গুগলের একটি প্রোডাক্ট এবং এর ফলে আপনার ব্লগস্পট ওয়েবসাইটটি হোস্টেড একাউন্টের মাধ্যমে এড প্রদানের জন্য যোগ্য।

দেখুন:

তবে হোস্টেড এডসেন্স একাউন্টকে আপনি চাইলে নন-হোস্টেড একাউন্টে আপগ্রেড করতে পারবেন। আপগ্রেড করার ক্ষেত্রে আপনি আপগ্রেড এর আবেদন করার পর গুগল কর্তৃপক্ষ আপনার একাউন্ট ও যে ওয়েবসাইটে আপনি এড দিতে চান সে ওয়েবসাইটটি রিভিউ করে দেখবে। পজিটিভ রিভিউ এর ক্ষেত্রে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে এড দিতে পারবেন।

আর নেগেটিভ রিভিউ এর ক্ষেত্রে আপনি চাইলে কিছুদিন পর আবার আবেদন করতে পারেন। আপগ্রেড এর জন্য আবেদন করার আগে আপনাকে কিছু কাজ করতে হবে, যা পরবর্তী কোনো এক পোস্টে আপনাদের জানানো হবে।

Non-Hosted Adsense Account

যে একাউন্টের মাধ্যমে একজন পাবলিশার ইউটিউব ও ব্লগস্পট এ এড প্রদর্শনের পাশাপাশি তার যেকোনো ওয়েবসাইটে এড দিতে পারে, সে একাউন্টটি হল নন-হোস্টেড একাউন্ট।

এ একাউন্টে একাউন্টের উপরের দিকে কোনো লেবেল থাকে না। অর্থাৎ এ একাউন্টে Non-Hosted Account নামে কোনো লেবেল থাকে না।

ধরুণ, আপনি একটি হোস্টিং প্ল্যান ও ডোমেইন ক্রয় করে আপনার নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন। আপনার তৈরি করা এ ওয়েবসাইটে আপনি নন-হোস্টেড একাউন্টের মাধ্যমে এড দিতে পারবেন। কারণ হোস্টেড একাউন্টের মত নন-হোস্টেড একাউন্টে এড দেওয়ার ব্যাপারে তেমন বাধ্যবাধকতা নেই।

আপনি আপনার ইউটিউব চ্যানেল, ব্লগস্পট ওয়েবসাইট ও আপনার নিজের যেকোনো ওয়েবসাইটে নন-হোস্টেড AdSense একাউন্টের মাধ্যমে এড দিতে পারবেন। তবে একটি নন-হোস্টেড AdSense একাউন্ট খুলতে গেলে কিছু কাজ করতে হয়, গুগলের কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। এরপরই আপনি একটি নন-হোস্টেড AdSense একাউন্ট খুলতে পারবেন।

ব্লগ বানানোর টিউটোরিয়াল এবং এডসেন্স হতে আয়ের উপায় দেখে ফেলুন

Hosted AdSense Account VS. Non-Hosted AdSense Account কোনটি আপনার জন্য উপযোগী

কোন ধরণের একাউন্ট আপনার জন্য উপযোগী সেটি নির্ভর করে আপনি কিসের জন্য ব্যবহার করতে চান তার উপর। আপনি যদি শুধু ইউটিউব ও ব্লগস্পট ব্যবহার করেন কিন্তু অন্য কোনো ওয়েবসাইট ব্যবহার করেন না তাহলে আপনার জন্য হোস্টেড একাউন্ট সবচেয়ে বেশি উপযোগী।

ধরুন যে আপনি বর্তমানে শুধু ইউটিউব বা ব্লগস্পট বা দুটোই ব্যবহার করছেন এবং আপনার নিজস্ব কোনো ওয়েবসাইট নেই তবে ভবিষ্যতে নিজের ওয়েবসাইট বানানোর চিন্তা আছে তাহলে আপনি একটি হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট খুলে ফেলতে পারেন। যেহেতু পরবর্তীতে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের মাধ্যমে আপনি আপনার হোস্টেড এডসেন্স একাউন্টটিকে নন-হোস্টেড এডসেন্স একাউন্টে আপগ্রেড করতে পারবেন সেহেতু এখন আপনি একটি হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট খুলে ফেললে পরবর্তীতে আপনি সেটি আপগ্রেড করতে পারবেন।হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট রিভিউ হতে ২ দিন পর্যন্ত সময় লাগে।

আবার আপনি যদি নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করেন কিংবা নিজস্ব ওয়েবসাইট ও ইউটিউব দুটোই ব্যবহার করেন তাহলে আপনার জন্য নন-হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট সবচেয়ে বেশি উপযোগী। কিছু শর্ত পূরণের মধ্যমে আপনি সরাসরি একটি নন-হোস্টেড এডসেন্স একাউন্ট খুলে ফেলতে পারেন। এ ধরণের একাউন্টের রিভিউ সম্পন্ন হতে একটু বেশি সময় লাগে।

পরবর্তী পোস্টে কিভাবে একটি এডসেন্স একাউন্ট খুলবেন সে সম্পর্কে জানানো হবে। আমাদের সথেই থাকুন।

এছাড়া ফেইসবুক বা ইউটিউবে আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে পারেন।

ব্লগস্পট ব্যবহার করে ফ্রিতে একটি ব্লগ সাইট তৈরি করুন

কটি ব্লগ থাকা নিশ্চয় খুবই সৌভাগ্যের বিষয় কারন আপনি যেকোন মূহুর্তে নিজের বক্তব্য সকলের কাছে তুলে ধরতে পারেন। এছাড়া আপনি যদি একটু চতুর প্রকৃতির হয়ে থাকেন তাহলে খুব সহজেই আপনি একটা ভালো এমাউন্ট বা অর্থ উপার্জন করে ফেলতে পারেন।

নতুনব্লগে এর আগে আমি আরো একটি ব্লগিং ক্ষেত্র নিয়ে কথা বলেছি যেটি হলো ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে ব্লগিং শুরু করা। আমি আপনাকে সাজেস্ট করবো নিজের ব্লগ  ওয়ার্ডপ্রেসের সাহায্যে নিজের হোস্টিং এবং ডোমেইন ব্যবহার করে তৈরি করতে।

এই ব্যাপারে আমি হোস্টিং বাছাইয়ের পাতায় অনেকবার বলেছি। এও বলেছিলাম যে, ফ্রিতে ব্লগিং শুরু করতে চাইলে হয়ত ব্লগার নতুবা ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করতে।

যাইহোক অনেক নতুন ব্লগার তাদের ব্লগ ফ্রি তে হোস্ট করতে চান। কেননা তাদের মূলধন বা অর্থ না থাকায়। কিন্তু নিজের সাইট চালাতে বছরে এত বেশি মূল্যও দিতে হয় না।

যাই হোক এমন অনেক ব্লগিং প্লাটফর্ম রয়েছে যা আপনাকে ফ্রিতে ব্লগ বানানোর সুযোগ দেয়। আপনি যদি সিম্পল ব্লগ বানানোর কথা চিন্তা করেন তাহলে আমি বলবো ওয়ার্ডপ্রেস.কম বা ব্লগস্পট.কম প্লাটফর্ম বাছাই করে নেওয়ার জন্য।

আপনি একবার এসব ফ্রি প্লাটফর্ম থেকে অভিজ্ঞতা লাভ করে নিজের ব্লগ নিজেই ওয়ার্ডপ্রেস.ORG ব্যবহার করে শুরু করার পরামর্শ দি আমরা। কেননা এতে আপনার ব্লগের উপর নিজের হস্তক্ষেপ বেশি থাকবে । ফ্রি ব্লগে আপনার হস্তক্ষেপ কম থাকে ফ্রি প্রোভাইডারের বেশি থাকে। যা আশা করি আপনি চান না।

ব্লগস্পট ফ্রিতে ব্লগ খোলার সুযোগ দিয়ে থাকে। অবশ্য এতে কিছু লিমিটেশন থাকে ।

যাই হোক, যেমনটা আমি বলেছি এই আর্টিকেল যারা নতুন ব্লগিং শুরু করবেন ভাবছেন (অভিজ্ঞতা লাভের জন্য) একমাত্র তাদের জন্য।

ব্লগস্পট

এই আর্টিকেল নতুনদের জন্য উৎসর্গ করলাম। বিশেষ করে যাদের ব্লগিং এর প্রতি আগ্রহ রয়েছে এবং যারা আসলেই কিছু শিখতে চান।

আর্টিকেল টি শুরু করার আগে আপনাকে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই জানতে হবে।

  • প্রথমত, ব্লগস্পট একটি ব্লগিং প্লাটফর্ম যা নিয়ে এসেছে গুগল। এটি আপনাকে একটি ব্লগ তৈরির সুযোগ দেয়। কিন্তু আপনার সমস্ত ছবি Picasa দ্বারা হোস্ট করা হবে (Picasa গুগলের সার্ভিস)। এই সেন্সে ব্লগস্পট ব্লগকে গুগলকেন্দ্রিক বলা যায়।
  • দ্বিতীয়ত আপনি যদি আয় করার জন্য ব্লগ শুরু করতে চান তাহলে আমি আপনাকে বারবার করে বলছি আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে ব্লগিং শুরু করুন।  আমাদের গাইড ফলো করে মাত্র ৩০ মিনিটেই আপনি ব্লগ বানিয়ে ফেলতে পারেন।

ধাপে ধাপে ব্লগস্পট ব্লগ শুরু করার কৌশল

ব্লগস্পটে ব্লগ সাইট খুলতে হলে সবার প্রথমেই আপনাকে যেতে হবে Blogspot.Com এবং সেখানে আপনার গুগল একাউন্ট দিয়ে লগিন করতে হবে। গুগল একাউন্ট না থাকলে সেটি বানিয়ে নিন।

প্রথমবার আপনাকে তারা দুইটি অপশন দেখাবে যে,  আপনি কোন প্রোফাইল ব্যবহার করতে চান গুগল প্লাস প্রোফাইল নাকি লিমিটেড ব্লগস্পট প্রোফাইল? আমি আপনাকে গুগল প্লাস প্রোফাইল সিলেক্ট করার পরামর্শ দিবো।

আপনি লগিন হয়ে গেলে সেখান হতে “New Blog” বাটনে ক্লিক করুন বা নিচের লিংকে ক্লিক করুন ফ্রি ব্লগ তৈরি করুন

ব্লগের নাম দিন

সবার প্রথমেই আপনাকে ডোমেইন নাম সিলেক্ট করতে বলা হবে। এখানে আপনার নিজের নাম দেওয়া হতে বিরত থাকুন। ডোমেইন নাম হতে হবে ইউনিক। এই বিষয়ে বিশদ জানতে কমেন্ট করুন।

আপনি যেকোন ব্লগ টেম্পলেট সিলেক্ট করতে পারেন(পরে আবার পাল্টাতে পারবেন)। এরপর Create Blog বাটনে ক্লিক করুন।

ব্লগস্পট ব্লগ

আপনার ব্লগ তৈরি হয়ে গেছে। কিন্তু কাজ এখনো শেষ হয়নি। নতুন ব্লগস্পট সাইটে আপনাকে কিছু সেটিংস ঠিক করে নিতে হবে।

আপনাকে ব্লগস্পট ড্যাশবোর্ডে নেওয়া হবে। সেখান থেকে সেটিংস এ গিয়ে ব্লগের ভিজিবিলিটি ঠিক করতে হবে

স্ক্রিনশট টি লক্ষ্য করুন

Blogspot Dashboard

এখান থেকে “Posts” > “New post” ক্লিক করতে হবে। এরপর আপনি লেখালেখি বা ব্লগিং শুরু করতে পারবেন।

কিন্তু সবার আগে আমি আপনাকে উপদেশ প্রদান করবো “Pages” এ গিয়ে অন্তত্য একটি পেইজ তৈরি করতে। সেটি হতে পারে About Us পেইজ।

নতুন ব্লগ লেখার আগে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্লগের টেম্পলেট চেইঞ্জ করা।  আমার মতে ডিফল্ট টেম্পলেট খুবই বোরিং।

টেম্পলেট পাল্টানোর জন্য যেতে হবে “Settings” > “Template” এখান থেকে আপনি টেম্পলেট পালটে ফেলতে পারেন।

এখানে আপনি লোগো যুক্ত করার অপশন দেখতে পাবেন। এছাড়া নতুন নতুন অনেক অপশন যুক্ত করতে পারবেন।

কিছু ব্লগ পোষ্ট বানানো হয়ে গেলে আপনি সেটিংস হতে এডসেন্স চালু করে আপনার ব্লগ হতে আয় করা শুরু করতে পারেন।

আপনার ব্লগ তৈরি হয়ে গেছে। এখন আপনি চাইলে অনান্য ফিচারগুলো দেখে আরো শিখতে পারেন।

নোটঃ এই আর্টিকেল তাদের জন্য যারা ব্লগ শুরু করতে চায় এবং যারা ব্লগ বানাতে পারে না।

সত্যি বলতে আমি নিজেও প্রথমে ব্লগস্পট ব্যবহার করে ব্লগিং শুরু করি। এরপর আমি ওয়ার্ডপ্রেসে স্থানান্তরিত হয়। আপনার ব্লগকে প্রোফেশনাল করে তুলতে ওয়ার্ডপ্রেসের কোন বিকল্প নেই। আপনি চাইলে ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ বানানোর গাইডটি দেখে নিতে পারেন।

আমাদের আর্টিকেল যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক এবং টুইটারে শেয়ার করতে পারেন এবং প্রতিদিন আপডেট পেতে চাইলে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক করে রাখতে পারেন। 

কিভাবে Android আপডেট করবেন?

যদি কোন নতুন Android আপডেট এসে থাকে তাহলে আপনি তা খুঁজে পাবেন ফোনের সেটিংস>About Device সেকশনে। যাইহোক, শুধু Android এর একটি নতুন ভার্শন আসার মানে এটি নয় যে, এটি আপনার ডিভাইসের জন্য  আসবে। আপডেট আসতেও পারে নাও আসতে পারে।

এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করবে আপনি কোন ব্রান্ডের মোবাইল ব্যবহার করছেন। দুইবছর আগের ফোনগুলোতে আপডেট প্রায় আসে না বললেই চলে। এছাড়া আপডেট না আসার জন্য ফোনের উৎপাদনকারীরা জবাবদিহির জন্য বাধ্যও নয়।

Android ফোনের সিক্রেট গুলো দেখে নিন

Android ভার্শন চেক করুন

আপনি যদি না জানেন আপনার Android কোন ভার্শন ব্যবহার করছে তাহলে আপনি তা জেনে নিতে পারেন Settings>About Device হতে।সেখানেও যদি ভার্শন দেখা না যায় তাহলে তার জন্য আপনাকে Software Information  মেনুতে ক্লিক করতে হবে। সেখানে অবশ্যই আপনি Android ভার্শন টি জেনে যাবেন।

Android Version

বর্তমানে Android এর সর্বশেষ ভার্শন হলো  Android Nougat যা এই বছরে আরো বেশ কয়েকটি ফোনে আপডেটট এসে যাবে। Android O রয়েছে বেটা ভার্শনে। বছরের শেষের দিকে সেটিও রিলিজ পেয়ে যাবে। এছাড়া রয়েছে Android Marshmallow,  Lolipop, KitKat এবং Jelly Bean.

ডাটা ব্যাকাপ নিন

আমরা সাবধানতার জন্য অবশ্যই একটি একটি ব্যাকাপ নিয়ে রাখবো। আবশ্য ব্যাকাপ রাখতে হবে এমন কোন বাধা নিষেধ নেই। আপডেট দেওয়ার সময় আপনার ডাটা কোন ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না কিন্তু সাবধানতার মাইর নাই।

Settings>Backup এ গেলে পেইজটি পেয়ে যাবেন

Android আপডেট (শেষ ধাপ)

এবারে আমরা আসবো মূল কাজে। ধাপগুলো মাথায় রাখবেনঃ

  1. Settings এ যান
  2. সেখান হতে About Device/About Phone/About Tablet বাটনে ক্লিক করুন। 
  3. Software Update বাটনে ক্লিক করুন (সেকশনটি একেক মোবাইলে একেকরকম করে দেখাতে পারে)
  4. Search for Update বাটনে ক্লিক করুন।  আপডেট থাকলে নিচের মত করে দেখাবে      
  5. এবার ইন্সটল বাটনে ক্লিক করলে আপডেটটি ডাউনলোড শুরু হয়ে যাবে। (অবশ্যই ওয়াইফাই বা ভারী ইন্টারনেট প্যাকেজ নিয়ে ডাউনলোড করবেন কারণ আপডেটের সাইজ বড় হতে পারে)
  6. ডাউনলোড হলে রিবুট করতে বলা হবে। এবং ফোন অফ হয়ে যাবে।

এভাবে খুব সহজেই আপনার Android আপডেট করে ফেলতে পারেন।

এছাড়া দেখে নিতে পারেন ঃকিভাবে গুগল সার্চবার রিমুভ করবেন

কোনরকম সমস্যার মুখোমুখি হলে আমাদের জানান।

কিভাবে একটি WordPress ব্লগ শুরু করবেন (ধাপে ধাপে)

WordPress ব্লগ

সঠিক নিয়মে wordpress ব্লগ শুরু করতে চাচ্ছেন? আমরা জানি ব্লগ শুরু করা খুবই কষ্টসাধ্য বিষয় যদিনা আপনার লেগে থাকার স্বভাব না থাকে। আপনি একা নন, ১৩০০০০ থেকেও বেশি মানুষ ঠিক একই সমস্যায় ভুগছে। এজন্য আমি আজ নিয়ে এসেছি সবচেয়ে সেরা একটি আর্টিকেল যা আপনাকে সাহায্য করবে ব্লগ তৈরিতে। এজন্য আপনার কারিগরি জ্ঞান না থাকলেও চলবে।

আমি যে নিয়মটি দেখাবো তা ১৮ বছর বয়সী থেকে ৬০ বছর বয়সীর যে কেউ সহজেই বুঝতে পারবে। তারপরেও যদি আপনি বুঝতে না পারেন আমিতো আছিই।

WordPress ব্লগ
ক্রেডিটঃ ফ্রিপিক

এর আগে দেখে আসি ব্লগ কি?

ব্লগ শুরু করতে আপনার কি কি প্রয়োজন হবে?

আপনার ৩ টি জিনিসের প্রয়োজন হবে WordPress ব্লগ তৈরি করার জন্য

  1. একটি ডোমেইন নাম (এটি হবে আপনার সাইটের নাম, যেমনঃ upohas.com)
  2. একটি ওয়েব হোস্টিং একাউন্ট (এটি হবে আপনার সাইটের স্থায়ী বাস)
  3. ৩০ মিনিটের ধৈর্য।

হ্যাঁ, ঠিক ৩০ মিনিটের মধ্যেই আপনি ব্লগ তৈরি করে ফেলতে পারেন। ধাপে ধাপে আমি দেখাবো কি করে তা করতে হবে।

এই আর্টিকেলে আমি দেখাবোঃ

  • কিভাবে ডোমেইন নেইম এবং সেরা হোস্টিং নিতে হবে
  • কিভাবে WordPress ইন্সটল করতে হবে
  • কিভাবে WordPress থিম পাল্টাতে হবে
  • কিভাবে প্রথম ব্লগটি লিখতে হবে
  • কিভাবে প্লাগিনের মাধ্যমে WordPress কে সাজাতে হবে
  • কিভাবে ব্লগের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন
  • এবং আরো অনেক কিছু…

আপনি তৈরি? চলুন শুরু করা যাক।

অবশ্যই পড়ে নিবেন যে, নতুন ব্লগ শুরু করার পূর্বে জেনে নেওয়া দরকার

ধাপ ১ঃ সেটআপ

সদ্য ব্লগার সবচেয়ে বড় ভুল করে সঠিক ব্লগিং প্লাটফর্ম বাছাই করতে। আপনার সাথে তা হচ্ছে না কারন আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন।

৯৫% ব্লগার WordPress.Org ব্যবহার করা পরামর্শ দিয়ে থাকে। কারন এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। আপনি সহজেই সাইট সাজাতে পারবেন এবং বিভিন্ন ধরনের প্লাগিন ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া আপনার আয়ের একটি উৎস হতে পারে এটি।

WordPress ফ্রি কিন্তু আপনাকে হোস্ট এবং ডোমেইনের জন্য ব্যয় করতে হবে।

ডোমেইন হল আপনার সাইটের এড্রেস যেমনঃ http://upohas.com এবং হোস্টিং হলো যেখানে আপনার সাইট স্থায়ী হবে।

একটি ডোমেইনে সাধারনত আপনার ১০০০৳/বছর ব্যয় হবে এবং হোস্টিং এ ৮০০৳/বছর।

ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং ক্রয়ের আগে দাম এবং এর আদ্যোপান্ত দেখে নিন

XeonBD কে ধন্যবাদ কারন আমার জানা মতে তারা সাশ্রয়ীমূল্যে হোস্টিং এবং ডোমেইন দিয়ে থাকে।

xeonbd

সার্বক্ষনিক সেবা প্রদানে দেশে তাদের বিকল্প অন্তত্য আমি খুঁজে পাইনি।

নোটঃ আমার সাইটে আমি সচ্ছতা পছন্দ করি তাই বলে নেওয়া ভালো আপনি উপরের বাটনে ক্লিক করে হোস্টিং এবং ডোমেইন নিলে আমি কিছু কমিশন পাব কিন্তু সেই কমিশন আপনার কাছ থেকে কাটা হবে না। সেই ব্যাপারে নিশ্চিত থাকুন।

চলুন ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনে ফেলা যাক।

প্রথমেই XeonBD নতুন ট্যাবে ওপেন করুন। এবং নিচের নিয়মানুযায়ী কাজ করুন।

পছন্দ অনুযায়ী একটি প্যাকেজ সিলেক্ট করুন এবং Get Started বাটনে ক্লিক করুন

started
Click on Get started

এরপর যে পেইজ আসবে তা হতে পছন্দমত প্যাকেজ বেছে নিন।

order now
Oder Now বাটনে ক্লিক করুন

ক্লিক করার পর ফ্রি ডোমেইন নেওয়ার পৃষ্ঠা আসবে। আপনার ডোমেইন নেইমটি লিখে Check বাটনে ক্লিক করুন। এবং Continue বাটনে ক্লিক করুন।

চেক
চেক বাটনে ক্লিক করুন

পরের পেইজে হোস্টিং সংক্রান্ত বিষয় ফুটে উঠবে তা হতে Billing Cycle১২ মাস সিলেক্ট করুন নতুবা ডোমেইন ফ্রিতে পাবেন না। অতঃপর Continue বাটনে ক্লিক করুন। চাইলে কিছু Addon যুক্ত করে নিতে পারেন।

একাউন্ট
১২ মাস সিলেক্ট করতে ভুলবেন না

ডোমেইন কনফিগারেশন পেইজে দুটি এড অন দেখাবে। আমি সাজেস্ট করবো একটু বেশি খরচ হলেও সেগুলো যুক্ত করে নিতে।

ডোমেইন
ডোমেইন এড অন

এরপর আপনাকে Checkout করতে বলা হবে। চেক আউট বাটনে ক্লিক করে নিজের তথ্যগুলো প্রদান করে সাবমিট করুন তাহলে সাথে সাথেই আপনার ডোমেইন এবং হোস্টিং চালু হয়ে যাবে।

last
ফর্ম ফিলাপ

বিকাশ/রকেট বা ব্যাংকিং এর মাধ্যমেও আপনি পেমেন্ট করতে পারবেন এজন্য পেমেন্ট অপশন হতে SSLcommerz সিলেক্ট করতে হবে।

এছাড়া এক্ষেত্রে কোন সমস্যাতে পড়লে উপরে একটি চ্যাট বাটন ভাসতে দেখা যাবে সেখানে ক্লিক করবেন এতে আপনি অনলাইনে সাহায্য পাবেন।

ধাপ ২ঃ WordPress ইন্সটল

আপনাকে আপনার সিপ্যানেল সংক্রান্ত তথ্য ইমেইলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সেখান থেকে আপনার সিপ্যানেলে লগিন করলে বিভিন্ন অপশন দেখতে পাবেন তা হতে WordPress এ ক্লিক করবেন।

cpanel
click on wordpress
instal
click on install now

Install বাটনে ক্লিক করে সঠিকভাবে ফর্ম ফিলাপ করে Install বাটনে ক্লিক করলে নিচের মত আসবে এবং সাইটের নাম, এডমিন লগিন এবং পাসোয়ারড আসবে যা একটি সেইফ জায়গায় লিখে রাখুন।

wp
Installing WordPress

শুভেচ্ছা আপনার জন্য আপনি একটি সাইট তৈরি করে ফেলেছেন। খুব বেশি কঠিন ছিলো নাকি?

আপনার এডমিন লগিন দেখতে এমনটা হবে http://yoursite.com/wp-admin

লিংকটিতে চলে যান এবার আপনি আপনার সাইট সাজাতে এবং ব্লগিং শুরু করতে পারবেন।

ধাপ ৩ঃ থিম সিলেক্ট করা

আপনার সাইটের ডিজাইন কেমন হবে তা নির্ভর করে আপনার থিমের উপরে। আপনার প্রথম সাইটটি দেখতে এমন হবে

WordPress এ আগে থেকেই তৈরি করা থিম থাকে। আপনি চাইলে খুব সহজেই সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য আপনাকে WordPress Dashboard থেকে যেতে হবে Appearance » Themes এ।

Add new বাটনে ক্লিক করুব্লন

WordPress.org তে প্রায় ৪১০০ থেকেও বেশি থিম রয়েছে তা হতে আপনি যেকোনটি বাছাই করে নিতে পারেন

থিম বাছাইয়ের পর সেই থিমের install বাটনে ক্লিক করে পুনরায় active বাটনে ক্লিক করুন। এরপর uআপনি থিমটিকে নিজের মত সাজিয়ে নিতে Dashboard থেকে Appearance » Customize এ যেতে হবে।

থিম সিলেক্ট করা হয়ে গেলে এবার আপনি আপনার প্রথম ব্লগ লিখতে প্রস্তুত।

ধাপ ৪ঃ প্রথম ব্লগ পোষ্ট তৈরি করা

প্রথম পোষ্ট লিখতে Posts » Add New তে ক্লিক করতে হবে। সেখানে আপনি একটি এডিটর এরিয়া দেখতে পাবেন।

blog
make your first blog

আপনার লেখা হয়ে গেলে সামনে এগিয়ে যান এবং publish/প্রকাশ বাটনে ক্লিক করে দিন।

publish your blog

ধাপ ৫ঃ প্লাগিন ইন্সটল

ভিডিওটি দেখে নিলে আপনি সহজেই বুঝে যাবেন কিভাবে প্লাগিন ইন্সটল করতে হয়। আরো জানতে মন্তব্য করুন।

প্লাগিনের এপিঠ ওপিঠ জানতে এটি দেখুন

ধাপ ৬ঃ কিভাবে আয় করবেন

আপনি ব্লগ তৈরি করে ফেলেছেন। এখন প্রশ্ন হলো কিভাবে আয় করবেন তাইতো? ব্লগ হতে আয় করার অনেকগুলো উপায় রয়েছে কিন্তু উপায়গুলো এমন নয় যে, আপনি এক দিনেই আংগুল ফুলে কলা গাছ হয়ে যাবেন। যদি এমন কিছু দেখে থাকেন তাহলে তা ১০০% ভূয়া।

আপনি আপনার ব্লগে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় করতে পারেন। মাসে ১০০$-২০০$ ও আপনি পেয়ে যেতে পারেন। বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য গুগল এডসেন্সের বিকল্প নেই।

দেখুনঃ

এডসেন্স শেষ নয় এমন আরো অনেক উপায়ে আপনি ব্লগ হতে আয় করতে পারবেন। এজন্য আমাদের ব্লগে চোখ ‌‌খোলা রাখুন।

ইতিকথা

লিখে ফেলছি অনেক কিছু। আরো লেখা যেত কিন্তু সময় সংকুলতা এবং ধৈর্য রাখা বড় দায়। আপনি যদি উপরের সবকিছু সঠিকভাবে করে থাকেন তাহলে কোন সমস্যা হবার কথা নয়। এরপরেও যদি সমস্যার সম্মুখীন হন তাহলে কমেন্ট করুন।

শেষ কিন্তু একেবারে শেষ নয়

আপনাদের জন্য সুখবর রয়েছে। আপনি যদি আমার দেওয়া লিংক ব্যবহার করে ব্লগিং শুরু করতে চান তাহলে আপনার ওয়েবসাইট সেটাপ করার দায়িত্ব আমার। এজন্য আপনাকে উপযুক্ত প্রমাণ সহ মন্তব্য করতে হবে এরপর আমিই আপনার সাথে যোগাযোগ করবো। হ্যাপি ব্লগিং।

ইউটিউব এবং অর্থ উপার্জন কিভাবে? – ১ম পর্ব

আমরা সবাই কমবেশি জানি যে ইউটিউব থেকে টাকা আয় করা সম্ভব।বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন যে,ইউটিউব থেকে টাকা আয় করার একমাত্র উপায় হল নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এড দেখানো।এ ধরণের ধারণা মূলত নতুন ইউটিউবারদের হয়ে থাকে।

এক নজরেঃ

এড দেখানো কিন্তু ইউটিউব থেকে আয় করার একমাত্র উপায় নয়।মূলত ৩টি উপায়ে ইউটিউব থেকে আয় করা যায়।

  1. YouTube Ad
  2. Affiliate Marketing
  3. Sponsored Video

ইউটিউব Ad

ইউটিউব এড থেকে আয় করতে হলে প্রথমেই আপনাকে আপনার চ্যানেলটিতে Monetization ফিচারটি চালু করতে হবে।এ ফিচারটি চালু করার পর আপনার চ্যানেল এ ভিডিওতে এড প্রদর্শিত হবে।আপনার চ্যানেল এ যত বেশি এড ভিউ হবে, আপনার আয় তত বাড়তে থাকবে।এড এর মূল্য প্রতি ১০০০ ভিউতে হিসাব করা হয় এবং এড এর মূল্য একেক দেশে একেক রকম হয়ে থাকে।তবে USA থেকে এড ভিউ হলে সবচেয়ে বেশি আয় হয়।

Affiliate Marketing

এক্ষেত্রে ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও Description এ কোনো প্রোডাক্টের Affiliate Link প্রদান করা হয়।এ Affiliate Link এ কেউ ক্লিক করে যদি ঔ নির্দিষ্ট প্রোডাক্টটি ক্রয় করে তাহলে আপনাকে ঔ পণ্যের মূল্যের উপর ৫%-১০% কমিশন প্রদান করা হবে।
ধরে নিন, আপনি আপনার ক্যামেরা দিয়ে কোন ভিডিও করে তা ইউটিউব এ আপলোড দিয়েছেন।ভিডিও এর description এ আপনি আপনার ক্যামেরাটির একটি Affiliate Link দিয়ে দিলেন।এ লিংক থেকে কেউ ক্যামেরাটি ক্রয় করলে আপনাকে তার উপর কমিশন প্রদান করা হবে।
তবে,প্রোডাক্ট রিভিউ/টেক রিভিউ রিলেটেড চ্যানেল হতে Affiliate Link এর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আয় হয়।

Sponsored Video

YouTube Ad ও Affiliate Link হতে যে পরিমাণ আয় করা সম্ভব তার থেকেও বেশি আয় করা সম্ভব শুধুমাত্র Sponsored Video পাবলিশ করে।ওক্ষেত্রে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের প্রোডাক্ট বা সেবার বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য আপনার চ্যানেলে প্রোডাক্ট বা সেবাটির Sponsored Video করার জন্য যোগাযোগ করবে এবং আপনাকে ঐ প্রোডাক্ট বা সেবার বৈষীষ্ট্য ও উপকারিতা তুলে ধরে একটি ভিডিও তৈরি করে তা ইউটিউবে পাবলিশ করে ভিউয়ারদে ঐ প্রোডাক্ট বা সেবাটি ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।এর বিনিময়ে কোম্পানি প্রতি মাসে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে।
Sponsored Video পাবলিশিং এর ক্ষেত্রে একটি প্রধান বিষয় হল আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি অবশ্যই জনপ্রিয় হতে হবে এবং আপানার চ্যানেলে ভিডিওগুলো খুব বেশি পরিমাণে ভিউ হতে হবে। তবেই আপনি Sponsored Video আপলোড করতে পারবেন।

পরবর্তী ব্লগসমূহে YouTube Ad,Affiliate Marketing ও Sponsored Video সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

পরের পর্ব দেখুন

ব্লগ কি?

তাহলে আপনিও “ব্লগ” সম্পর্কে শুনেছেন। এখন আপনি জানতে চান ব্লগ আসলে কি জিনিস? এটি কি খাওয়া যায়? নাকি এটা গায়ে চড়াবার জিনিস? মনে যদি এসব প্রশ্ন এসে থাকে তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। এই আর্টিকেল আপনাকে ব্লগ নিয়ে সকল তথ্য জানাবে এবং এতদসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেবে।

আপনার যদি একটি ব্লগ থাকে তাহলে আপনি হাজারো পাঠকের মাঝে আপনার চিন্তা-ভাবনা, গবেষণা এবং বিভিন্ন বিষয়ে অবহিত করতে পারবেন। এছাড়া ব্লগের মাধ্যমে আপনার জনপ্রিয়তার সাথে সাথে হয়ে যেতে পারে আপনার অর্থ উপার্জন-র একটি বিকল্প উপায়।

ব্লগ কি?

চলুন কিছু সংজ্ঞা দিয়ে শুরু করা যাক। ব্লগ হলো একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি, নিজেকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার মাধ্যম, নিজের ভাবাবেগ এবং চিন্তাভাবনা প্রকাশের মাধ্যম। হ্যাঁ, আপনি চাইলে ব্লগে সকল কিছু করা সম্ভব। ব্লগ নিয়ে আমি বলব এটি হলো চলমান বা ধারাবাহিক আপডেটেড ওয়েবসাইট। ব্লগ হলো “উইব্লগ” শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। আপনি ব্লগকে “ব্লগ” বলুন বা “উইব্লগ” বলুন দুটো একই অর্থ বহন করে। আরো কিছু সংজ্ঞা দেখে নেওয়া যাকঃ

“…the first journalistic model that actually harnesses rather than merely exploits the true democratic nature of the web. It’s a new medium finally finding a unique voice.”–Andrew Sullivan

“[a] collection of posts…short, informal, sometimes controversial, and sometimes deeply personal…with the freshest information at the top.”–Meg Hourihan

আপনি যদি ব্লগিং শুরু করবেন ভাবছেন তাহলে এই গাইড দেখে নিন।

পরিভাষা

ব্লগ পরিচালনায় যে ব্যক্তি প্রতিনিয়ত শ্রম দিয়ে যাচ্ছে তাকে বলা হয় ব্লগার । শ্রমটি হলো ব্লগিং । তাহলে বলা যায় , ব্লগার ব্লগে ব্লগিং করে । কিন্তু আপনার উত্তরটি সন্তুষ্টি জনক হবে না। চলুন তাহলে নিচে দেখা যাকঃ

  • Blog (Noun) –
    a journal or diary that is on the Internet
  • Blogger (Noun) –
    a person who keeps a blog – Bloggers are revolutionizing the way news is shared.
  • Blog (Verb) –
    to write a blog – I am going to blog before breakfast this morning.
  • Blogging (verb) –
    the action of writing a blog – Blogging is my way of sharing my passions with the world.

সাধারনত ব্লগ এমন জায়গা যেখানে ব্যক্তি তার নিত্য কাজগুলো লিখে রাখে।

কারা ব্লগিং করে?

তারা কারা যারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন লেখা তাদের ব্লগে লিখে যায়? তারা আপনার মতই একজন। শখের বসে বা অন্য উদ্দেশ্য নিয়ে তারা এই কাজ করে। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ ব্লগ লিখে চলেছে। এমন অনেকে রয়েছে যাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান খুবই কম কিন্তু ইন্টারনেটের পাওয়ারফুল কিছু টুল ব্যবহার করে তারা ব্লগিং করছে। চাইলে আজ থেকে আপনিও ব্লগেও নেমে পড়তে পারেন।

মানুষ কেন ব্লগিং করে?

আপনার প্রশ্ন হতে পারে কেন একজন ব্যক্তি ব্লগে লেখে। আমি বলব এর উত্তর মানবজাতির স্বভাবেই রয়েছে। আমরা চাই আমাদের কন্ঠ সারা দুনিয়াতে ছড়িয়ে যাক এবং ইন্টারনেট মাধ্যম ব্যবহারে আজ তা সম্ভব। একটু কষ্ট করলেই সেই ব্লগার বা ব্যক্তি হাজার হাজার পাঠকের কাছে পৌঁছে যেতে পারবে।

অনেকে নিজের নিত্য কাজ লিখে রাখার কাজে ব্লগ ব্যবহার করে আবার অনেকে তথ্যবহুল পোষ্ট বা ট্রিক এবং টিপস শেয়ার করে।

যে বিষয়গুলো ব্লগ শুরু করার আগে জানা প্রয়োজন

আপনাকে বলছি

আপনার প্রিয় ব্লগ কোনটি? আপনি কি ব্লগিং শুরু করে দিয়েছেন? শুরু করবেন ভাবছেন? আপনার ব্লগ কি নিয়ে?

পরের আর্টিকেল আসা পর্যন্ত আপনাদের উত্তরের অপেক্ষায়। 🙂

নতুন ব্লগ শুরু করার পূর্বে জেনে নেওয়া দরকার

[mks_dropcap style=”circle” size=”52″ bg_color=”#dd3333″ txt_color=”#ffffff”]তা[/mks_dropcap] আপনি ব্লগিং শুরু করবেন ভাবছেন?

আজকাল সামান্য কিছু উপায়ে যেকেউ খুবই সহজে ব্লগ তৈরি করতে পারেন।  ব্লগিং একটি অবিশ্বাস্য মার্কেটিং ব্যবস্থা যা এমনকি আয়ের একটি বড় উৎস হতে পারে। যাই হোক আপনি যদি একটি সহজ এবং লাভজনক ব্লগ বানাতে চান তাহলে আপনাকে নিজের সঠিক পথ নিজেকেই বেছে নিতে হবে।

ব্লগিং সম্পূর্ণ সময় এবং প্রচেষ্টার বিষয়

শুরু করার আগে, নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন যে আপনি কেন ব্লগিং শুরু করবেন। যদি আপনার লক্ষ্য শুধুমাত্র অনলাইনে অর্থ উপার্জন হয়,  তাহলে সত্যি বলতে ব্লগিং হয়ত আপনার জন্য নয়। অনলাইনে প্রায় একশ -র থেকেও বেশি উপায়ে আপনি উপার্জন করতে পারবেন কিন্তু ব্লগিং থেকে উপার্জন সবচেয়ে বেশি কঠিন।

ব্লগিং এর জন্য আপনাকে খুবই পরিশ্রমী হতে হবে এছাড়া এটির পাঠক যোগাড় করতে অনেক সময় লাগবে। এটি খুবই দুঃখজনক যে আপনি আপনার প্রথম পোষ্ট পাবলিস করবেন কিন্তু কেউ সেটি পড়বে না। আপনাকে এই ধরনের বিশ্রী বিষয়কে এড়িয়ে চলতে হবে। ফলাফল অবিলম্বে আশা করবেন না।

সফল ব্লগাররা খুবই ধৈর্যশীল হয়ে তাদের ব্লগের লেখা চালিয়ে যান অবিরত। এটি খুবই কঠিন কাজ কিন্তু অসম্ভব নয়।

ব্লগিং ফ্রি নয়

ওয়ার্ডপ্রেস.com এবং ব্লগার প্ল্যাটফর্ম সম্পূর্ণ ফ্রি এবং এগুলোর ব্যবহার খুবই সহজ।  যাইহোক, আপনি ফ্রিতে যতদূর এগিয়ে যান যান না কেন আপনি ব্লগটিকে নিজের বলে দাবি করতে পারবেন না। কারণ ব্লগের বেশিরভাগ আয়ত্ব থাকবে প্রোভাইডারের এবং এতে বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকবে।

যদি আপনি একটি ওয়েব এড্রেস,  ভালো ডিজাইন,  বিশাল স্টোরেজ এছাড়া আরো বেশি কিছু চান তাহলে আপনার জন্য সেল্ফ-হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ ভালো হবে। আপনি হোস্টিং,  ডোমেইন কিনে এবং ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে সেল্ফ-হোস্টেড ব্লগ শুরু করতে পারেন। যার জন্য আপনাকে বছরে মাত্র ৪০০০৳-৮০০০৳ টাকা ব্যয় করতে হবে।

ব্লগ শুরু করার পর, আপনাকে ব্লগে যথেষ্ট পাঠক পেতে এবং তাদের সংশ্লিষ্টতা বাড়াতে  আরো কিছু অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।

অর্থ ব্যয়ের খাতগুলো হবেঃ

  • ডিজাইনিং
  • ডেভেলপিং
  • বিজ্ঞাপন
  • লেখক সংগ্রহ
  • সফটওয়্যার

বিষয়বস্তু হলো প্রধান

অনেকেই একটি তর্কে জড়িয়ে পড়েন যে, “কোয়ালিটি নাকি কুয়েন্টিটি?”

আপনার কুয়েন্টিটি দরকার আপনার ট্রাফিকদের আকর্ষণ করার জন্য কিন্তু আপনাকে অবশ্যই কুয়েন্টিটি থেকেও বেশি লেখার কোয়ালিটিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আপনার পাঠক যদি ভালো কিছু তথ্য পেয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই তারা আপনার সাইটের সাথে জড়িয়ে পড়বে এবং প্রত্যহ পাঠক হয়ে উঠবে। অন্যদিকে কেউই আপনার ব্লগ পছন্দ করবে না যদি সেটি তথ্যহীন এবং তথ্যটি ভাসা ভাসা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত থাকুন

শুধুমাত্র ভালো পোষ্ট লেখায় যথেষ্ট নয়।  আপনার ব্লগ নতুন বিধায় সার্চ ইঞ্জিন আপনার লেখা খুঁজে পাবেনা, তাহলে আপনি পাঠক পাবেন কোথা থেকে? আপনাকেই প্রচারক হতে হবে।

পাঠকদের আকর্ষণ পাওয়ার সবচেয়ে ভালো  উপায় হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেখানে আপনি আপনার পোষ্ট প্রোমোট করতে পারেন। এছাড়া আপনি ফেইসবুক,  টুইটার এবং ইন্সটাগ্রাম হতে পাঠক কিনতেও পারেন

আপনার একটি পোষ্ট বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ করতে পারেন কিন্তু মাথায় রাখবেন আপনি যেন স্পামার হয়ে না পরেন।  এই ব্যাপারে আরো

জানতে কমেন্ট করুন।

HTML জ্ঞান রাখুন

ধন্যবাদ সেসব পাওয়ারফুল ব্লগিং প্ল্যাটফরমকে কারন এখন ব্লগিং করতে আর HTML & CSS এর তেমন প্রয়োজন হয় না। কারণ সেখানেই সহজভাবে কাস্টোমাইজের নিয়ম দেওয়া আছে।

সবচেয়ে বড় কথা হলো লেগে থাকতে হবে তাতে সফলতা আসতে বাধ্য নয়কি?


আপনি যদি স্থির করে ফেলেন আপনি ব্লগিং শুরু করে ফেলবেন তাহলে আমাদের ধাপ ভিত্তিক গাইড দেখতে পারেন

ইলন মাস্কের কাছে বিক্রি হচ্ছে টুইটার

টুইটারের পরিচালনা পর্ষদ ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে প্রতিষ্ঠানটিকে মাস্কের কাছে বিক্রি করে দিতে রাজি হয়েছে।

বিবিসি, ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল, সিএনএনের প্রতিবেদন বলছে, সোমবার টুইটারের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এরআগে গত বৃহস্পতিবার মাস্ক নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে টুইটার প্রস্তাবের বিষয়ে জানিয়ে লেখেন, ‘আমার একটি প্রস্তাব আছে’। সেখানে প্রস্তাবের বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

টুইটার কেনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবে মাস্ক টুইটারের প্রতিটি শেয়ারের জন্য ৫৪ ডলার ২০ সেন্ট করে দিতে চেয়েছেন। এতে প্রস্তাবিত শেয়ার মূল্য ১ এপ্রিলে টুইটার শেয়ারমূল্যের ওপর ৩৮ শতাংশ প্রিমিয়াম ধরা হয়। যেখানে টুইটারের বিক্রয়যোগ্য শেয়ারের সংখ্যা ৭৬ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ।

আর এই প্রস্তাবকে সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত বলেছেন মাস্ক।

এর আগে মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্মটির বোর্ডে আসাতে তার আগ্রহের কথা আলোচনায় ছিলো। তখন টুইটারের পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি হননি মাস্ক। পরিচালক পদে যোগ দিলে সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ শেয়ার মালিকানার সীমাবদ্ধতায় পড়তে হতো তাকে।

শেষ পর্যন্ত টুইটার ইলন মাস্কের হচ্ছে।

র‍্যান্সমওয়্যার কম্পিউটারের ডাটা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে পারে

র‍্যান্সম (Ransom) শব্দের বাংলা অর্থ হলো মুক্তিপন। মুক্তিপন হলো একজন কিডন্যাপার চাহিদা করে থাকে টাকা হিসেবে, কাওকে কিডন্যাপ করার পরে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু আপনি জানেন কি একজন হ্যাকার আপনার কম্পিউটারের সকল ডাটার জন্য আপনার কাছে মুক্তিপন চাহিদা করতে পারে? জি হাঁ বন্ধু, আমি আপনার সাথে কোন মজা করছি না। আর এসব হতে পারে যদি আপনার কম্পিউটারে কোন র‍্যান্সমওয়্যার প্রবেশ করে তো।

র‍্যান্সমওয়্যার একধরনের ম্যালওয়্যার যেটি আপনার কম্পিউটারে প্রবেশ করলে আপনার কম্পিউটারের সকল ডাটাকে ইনক্রিপ্ট করতে পারে। আপনি যদি না জানেন যে ইনক্রিপশন কি বা এটি কীভাবে কাজ করে তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত লেখা পোস্টটি পড়তে পারেন। যাই হোক, আপনার কম্পিউটারের সকল ডাটা ইনক্রিপ্ট করার পরে হ্যাকার আপনার কাছে টাকার জন্য চাহিদা করবে। এবং বলবে যে টাকা দিলে তারা আপনাকে একটি কী প্রদান করবে যার মাধ্যমে আপনি আপনার ডাটা গুলোকে ফেরত পেতে পারেন।

বন্ধুরা আজকাল র‍্যান্সমওয়্যার আক্রমণ অনেক পরিমানে বেড়ে গেছে। বড় বড় কর্পোরেট অফিস, বড় বড় কোম্পানি এবং আজকাল তো এক একটা ইউজারের উপরও র‍্যান্সমওয়্যার আক্রমণ হচ্ছে। বেশিরভাগ সময় হ্যাকাররা সাধারনত কয়েকশত ডলারের চাহিদা করে। কিন্তু অনেক সময় তারা হাজার ডলার পর্যন্তও চাহিদা করে থাকে। তো এটা নির্ভর করে আপনার ডাটার সাইজের উপর। এবং হ্যাকার জানে আপনার ডাটা সম্পর্কে। তারা আপনাকে টাকা পরিশোধ করার জন্য নির্দিষ্ট একটি সময় বেধে দেয়, সাধারনত ৪৮ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়ে থাকে। এমনকি টাকা আগে পরিশোধ করলে ডিস্কাউন্টও নিয়ে থাকে 😀 । কিন্তু আপনি যদি টাকা পরিশোধ না করেন তবে আপনার ডাটা ডিক্রিপ্ট করার কী হ্যাকার সিস্টেম থেকে মুছে ফেলতে পারে, ফলে আপনার ডাটা গুলো কখনোয় ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়ে উঠবে না।

আপনি যদি নিজে থেকে আপনার ডাটা গুলো ডিক্রিপ্ট করার কথা ভাবেন তো বলে রাখি বন্ধু আপনি কখনোই তা পেরে উঠতে পারবেন না। কারন এই ইনক্রিপশনটি সাধারনত ২০৪৮ বিট হয়ে থাকে। অর্থাৎ একটি সাধারন ডেক্সটপ পিসির এই ডাটা রিকভার করতে কয়েক হাজার কোটি বছর লেগে জেতে পারে।

র‍্যান্সমওয়্যার থেকে কীভাবে বাঁচবেন?

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই মারাত্মক ম্যালওয়্যার থেকে কীভাবে রক্ষা পাওয়া সম্ভব? দেখুন আপনার কাছে একটা অপশন তো আছেই যে হ্যাকারকে টাকা দিয়ে দেওয়া। অনেকে বলে হ্যাকারকে টাকা দেওয়ার দরকার নাই। কিন্তু অনেক সময় কেবল হয়তো একটি ছবি রিকভার করার জন্যই টাকা দেওয়াটা অর্থপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে আপনার কাছে। কিন্তু এটা সবসময় ভরসা যোগ্য নয় যে টাকা দিলেই আপনাকে হ্যাকার ডাটা গুলো ফিরিয়ে দেবে। হতে পারে হ্যাকার আপনার কাছে আরো টাকার চাহিদা করতে পারে। তো এই অবস্থায় আমি আপনাকে কিছু টিপস দেবো যেগুলো পালনে আপনি আপনার কম্পিউটারের সকল ডাটা নিরাপদ রাখতে পারবেন এবং যদি আপনার কম্পিউটারে কোন র‍্যান্সমওয়্যার আক্রমণ হয়েও যায় তবেও সেখান থেকে আপনি বাঁচতে পারবেন।

আপনার সকল ডাটাগুলো ব্যাকআপ করে রাখুন

সবচেয়ে প্রথমে আপনার যেটা করা উচিৎ সেটা হচ্ছে আপনি আপনার কম্পিউটারের সকল ডাটার ব্যাকআপ করে রাখুন। আপনি একটি পোর্টঅ্যাবল হার্ডড্রাইভ কিনে রাখুন। সেটা ১ টেরাবাইট বা ২ টেরাবাইট হোক আপনার প্রয়োজন অনুসারে ক্যাপাসিটি কিনে রাখুন। তারপরে আপনার কম্পিউটারের সকল ডাটা গুলো সেখানে নিয়মিত সংরক্ষন করতে থাকুন। আপনি ব্যাকআপ প্রতিদিন নিতে পারেন, দুই দিন অন্তর অন্তর নিয়ে পারেন বা সপ্তাহে একদিন নিতে পারেন, আসলে যেটা আপনার সুবিধা হয়। কিন্তু সকল ডাটার ব্যাকআপ অবশ্যই রাখুন।

কিন্তু একটি কথা মাথায় রাখবেন, কখনোয় আপনার পোর্টঅ্যাবল হার্ডড্রাইভটি একদম কম্পিউটারের সাথে লাগিয়ে রাখবেন না। শুধু তখনই লাগাবেন যখন আপনি ডাটাগুলো ব্যাকআপ করছেন। র‍্যান্সমওয়্যার অনেক চালাক প্রকৃতির ম্যালওয়্যার। যদি আপনার কম্পিউটারে এটি আক্রমণ করে তবে সাথে আপনার পোর্টঅ্যাবল হার্ডড্রাইভটিও ইনক্রিপ্ট করে ফেলতে পারে। তাই অবশ্যই ব্যাকআপ শেষে আপনার হার্ডড্রাইভটি বের করে রাখুন।

আপনি চাইলে কোন অনলাইন ব্যাকআপ সার্ভিস ব্যবহার করেও আপনার কম্পিউটারের সকল ডাটাগুলো ব্যাকআপ করে রাখতে পারেন। এটি পোর্টঅ্যাবল হার্ডড্রাইভ ব্যবহার করার চেয়েও অনেক বেশি সুবিধা জনক। কারন এতে কোন ঝুঁকি থাকে না। মাত্র কিছু টাকা মাসিক খরচে আপনার ডাটা গুলো নিরাপদে ক্লাউডে সংরক্ষিত থাকবে [ক্লাউড কম্পিউটিং কি? কেন প্রয়োজন?]।

ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট গুলো স্ক্যান করুন

আপনার কম্পিউটারে বা ইমেইলে থাকা কোন ফাইলকে ততোক্ষণ পর্যন্ত ওপেন বা ডাউনলোড না করেন যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার ঐ ফাইলটি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান না হয়ে যায়। ইমেইল থেকে কিছু ডাউনলোড দেয়ার আগে অবশ্যই চেক করে নিন যে ঐ মেইল আপনাকে কে পাঠিয়েছে এবং তাতে কি রয়েছে।

আপনার ইমেইল থেকে .exe এক্সটেনশন ওয়ালা ফাইল কখনোই ডাউনলোড করবেন না কেনোনা ঐটি একটি র‍্যান্সমওয়্যার হতে পারে। তাছাড়া সাধারন পিডিএফ বা ওয়ার্ড ডকুমেন্টও আপনার কম্পিউটার আক্রমণ করতে পারে। হ্যাকার যেকারো ইমেইল অ্যাড্রেস স্পুফ করতে পারে, ফলে আপনার মনে হবে যে কাঙ্ক্ষিত স্থান থেকেই তো মেইল এসেছে। কিন্তু সেটা হ্যাকার নিজে পাঠাতে পারে। স্পুফ করা ইমেইল অ্যাড্রেস গুলো অবশ্য জিমেইল থেকে এক প্রকারের সতর্কবার্তা দিয়ে থাকে। ঐ অ্যাড্রেসের পাশে লাল চিহ্ন দেওয়া থাকে এবং লেখা থাকে যে জিমেইল এটা নিশ্চিত নয় যে যেখান থেকে মেইলটি এসেছে সেটি সঠিক অ্যাড্রেস। তো এই রকম সতর্কবার্তা কোন মেইলে দেখলে সেখান থেকে দূরে থাকায় ভালো।

তারপর আপনি যদি উইন্ডোজ পিসি ব্যবহার করেন তবে ফাইল এক্সটেনশন অপশন অন করে রাখাটা উত্তম হবে। ফলে আপনি দেখতে পারবেন যে ফাইলটি র‍্যান্সমওয়্যার কিনা। কেনোনা সর্বদা দেখতে পাওয়া গেছে যে ভাইরাস আক্রান্ত ফাইলগুলোতে দুটি এক্সটেনশান থাকে। যেমন .pdf.exe অথবা .mp4.exe অথবা .avi.exe। তো এই অবস্থায় ফাইলগুলো দেখে হয়তো আপনার মনে হতে পারে যে এগুলো সাধারন মিডিয়া বা ডকুমেন্ট ফাইল। কিন্তু ব্যাস্তবিক ভাবে এগুলো এক্সিকিউটঅ্যাবল ফাইল, যা ক্লিক করা মাত্রই আপনার কম্পিউটার আক্রান্ত করতে পারে।

ভালো ফায়ারওয়াল ব্যবহার করুন

আপনার অবশ্যই ভালো ফায়ারওয়াল ব্যবহার করা প্রয়োজনীয়। আপনি যদি উইন্ডোজ ব্যবহার করেন তবে উইন্ডোজ ফায়ারওয়াল ব্যবহার করতে পারেন। আপনি যদি না জানেন যে ফায়ারওয়াল কি বা কেন ব্যবহার করা প্রয়োজন তবে তার জন্য আগে থেকেই আরেকটি পোস্ট আছে তা চেক করে নিতে পারেন। উইন্ডোজ ফায়ারওয়ালে শুধু আপনার বিশ্বস্ত সফটওয়্যার গুলোকে নেটওয়ার্ক ব্যবহার অনুমতি দিতে পারেন এবং আলাদা সফটওয়্যার গুলো নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে পারেন।

আর যদি পারেন তো কোন তৃতীয়পক্ষ ভালো ফায়ারওয়াল বা অ্যান্টিভাইরাস বা অ্যান্টিম্যালওয়্যার কিনে ব্যবহার করতে পারেন। এবং এটি ব্যাবহারের ফলে আপনি র‍্যান্সমওয়্যার আক্রমণ থেকে বাঁচতে পারেন। তাছাড়া উইন্ডোজ কম্পিউটারে কখনোই রিমোট শেয়ারিং অপশন চালু করে রাখবেন না। এতে আপনার কম্পিউটার যদি কোন কারণে আক্রান্ত হয় তবে আপনার নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত থাকা সকল কম্পিউটার আক্রমের হাতে চলে আসতে পারে। কারন আমি আগেই বলেছি এটি অনেক চালাক প্রকিতির একটি ম্যালওয়্যার। এটি আপনার নেটওয়ার্ক এবং কম্পিউটারের শিরায় শিরায় পৌঁছে যেতে পারে।

বন্ধুরা কোন কারণে যদি আপনার মনে হয় যে আপনার পিসি আক্রমনের হাতে চলে গেছে, যদি আপনি কোন ভাবে বুঝতে পারেন তবে সাথে সাথে আপনার পিসি থেকে ইন্টারনেট কানেকশান বিচ্ছিন্ন করে ফেলুন। যেহেতু আপনার পুরা কম্পিউটার ইনক্রিপ্টেড হতে সময় লাগে তাই আপনি যদি ইন্টারনেট কানেকশান বিচ্ছিন্ন করে দেন তবে হতে পারে আপনার ডাটা গুলো ইনক্রিপশন হওয়া থেকে উদ্ধার পেয়ে যাবে।

সবসময় লেটেস্ট সফটওয়্যার ব্যবহার করুন

সবসময় লেটেস্ট সফটওয়্যার ব্যবহার করাটা কিন্তু খুব ভালো আইডিয়া যেকোনো প্রকারের ভাইরাস আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য। সফটওয়্যার নির্মাতা কোম্পানিরা সবসময় তাদের সফটওয়্যারের ভুল ত্রুটি খুঁজে বের করে এবং সেগুলো ঠিক করে নতুন ভার্সন রিলিজ করে। এই অবস্থায় আগের কোন ভার্সনের সফটওয়্যার ব্যবহার করলে হতে পারে সেটির মাধ্যমে হ্যাকার আপনাকে আক্রান্ত করাতে পারে।

তাছাড়া কোন সফটওয়্যার ডাউনলোড করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখুন সেটা একটি বিশ্বস্ত সোর্স থেকে ডাউনলোড করছেন কিনা। কেনোনা অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস এর মতো আপনার উইন্ডোজ কম্পিউটারে কোন নির্দিষ্ট সফটওয়্যার মার্কেট নেই। এই অবস্থায় হয়তো কোন সফটওয়্যার গুগল করলেন, কিন্তু যেটা ডাউনলোড হলো সেটা ঐ সফটওয়্যার না হয়ে হয়তো অন্য কিছুই ডাউনলোড হয়েছে। তাই সবসময় চেষ্টা করবেন অফিসিয়াল সোর্স থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে। আর পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার না করায় উত্তম।

অনেক সময় বিভিন্ন জায়গায় যেমন ফেসবুকে বা কোন ওয়েবসাইটে অনেক পোস্ট দেখতে পাওয়া যায়। সেখানে বলে যে অমুক সফটওয়্যার ডাউনলোড করুন যেকারো ওয়াইফাই হ্যাক করতে পারবেন। তমুক সফটওয়্যার ডাউনলোড করুন ফেসবুক হ্যাক করতে পারবেন। তো বন্ধুরা ভুল করেও কখনো এমন সফটওয়্যার ডাউনলোড করবেন না। হতে পারে এগুলো কোন র‍্যান্সমওয়্যার। কারন আপনাকে বলে রাখি ওয়াইফাই হ্যাক করা এতো সহজ কাজ না। শুধু মাত্র কিছু নির্দিষ্ট ওএস এবং অনেক অ্যাডভান্স মেসিন ব্যবহার করেই তা সম্ভব। তাই এই ভুল করে কখনোই ভাব্বেন না যে ২-৪ এমবির সফটওয়্যার দিয়ে ওয়াইফাই হ্যাক হয়ে যাবে।

অটো-প্লে বন্ধ করে রাখুন

আপনার কম্পিউটারে অটো-প্লে অপশন চালু করা থাকলে সেটি বন্ধ করে নিন। কেনোনা এতে কোন ইউএসবি ডিভাইজ বা কোন ডিভিডি প্রবেশ করানো মাত্রই ওপেন হয়ে যায়। ফলে যদি কোন ভাইরাস থাকে তো সহজেই আপনার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যেতে পারে। এটি বন্ধ করে নিন যাতে সেটি ওপেন করার আগে যাচাই করে এবং স্ক্যান নিতে পারেন যে এর ভেতর কি আছে।

তো বন্ধুরা আজকের দিনে বলতে গেলে র‍্যান্সমওয়্যার অনেক মারাত্মক একটি সমস্যা। আমি প্রথমে যে পদক্ষেপ নিতে বলেছি ডাটা ব্যাকআপ রাখা আসলে এটিই হলো সর্বউত্তম ঝুঁকিমুক্ত একটি পন্থা। এতে আপনার কম্পিউটার আক্রান্ত হয়ে পরলেও আপনি ডাটা লস থেকে বেঁচে যেতে পারবেন।

এরকম হাজারো ঘটনা ঘটেছে এই পর্যন্ত যার ফলে অনেক কোম্পানিকে হাজারো ডলার খরচ করতে হয়েছে তাদের ডাটাগুলো ফেরত পাওয়ার জন্য। কেনোনা হ্যাকার আপনার কাছে যেকোনো চাহিদা করতে পারে। এবং আপনার কিছুই করার থাকে না। কিন্তু আগে থেকেই যদি আপনি সতর্ক থাকেন তবে সহজেই এই ঝামেলা থেকে নিজেকে মুক্ত করাতে পারবেন।

নক্ষত্র কি অবিনশ্বর?

অণুর বা পরমাণুর বা ভর যুক্ত যেকোনো পদার্থের ধর্ম হচ্ছে পরষ্পরকে আকর্ষণ করা। মহাকাশে বিদ্যমান হাইড্রোজেন গ্যাসের অণু এরকম পরস্পরের কাছাকাছি আসতে আসতে বিরাট গোল আকার ধারণ করতে শুরু করে। যতোই বেশি অণু জড়ো হয় ততই এই গোলকের কেন্দ্রের চাপ বাড়তে থাকে, চাপ বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রাও বেড়ে যেতে থাকে । এভাবে একটি ক্রুস্যাল পয়েন্টে এই চাপ ও তাপ পৌঁছলে হাইড্রোজেন অনু নিউক্লিয়ার ফিউশন(fusion) বিক্রিয়ার মাধ্যমে হিলিয়াম অণুতে রূপান্তরিত হতে শুরু করে।

দুটি হাইড্রোজেন অণু থেকে একটি হিলিয়াম অণু ফিউশনের মাধ্যমে সংশ্লেষ হয় , এই দুই হাইড্রোজেন অণুর মোট ভরের চাইতে একটি হিলিয়াম অণুর ভর কম । যে ভরটি খোয়া যায় সেটাই E=mc^2 সূত্রানুযায়ী ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন বা তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গের আকারে বিকরিত হতে থাকে। এদিকে গ্যাসীয় গোলকটির অণুগুলো তাদের পারস্পরিক আকর্ষণ তথা মহাকর্ষের প্রভাবে কেন্দ্রে সংকুচিত হতে চায় কিন্তু কেন্দ্রের নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ায় নির্গত শক্তি এই ঘটনাকে আটকে রাখে। এভাবে একটি সাম্যাবস্থা বিরাজ করে এবং জন্ম হয় একটি নক্ষত্র-র । একটি নক্ষত্র-র আকার যত বড় হবে সেটি তত দ্রুত জ্বলে শেষ হয়ে যাবে । ছোট নক্ষত্র-র আয়ু অনেক বেশি।

নক্ষত্র
ছবিঃ নক্ষত্রপুঞ্জ

তো নক্ষত্রের কেন্দ্রে যখন ফিউশন চালানোর মতো হাইড্রোজেন আর নক্ষত্রে থাকে না তখন হিলিয়াম অণুর ফিউশন ঘটে । হিলিয়াম থেকে তৈরি হয় কার্বন । এভাবে কার্বন থেকে আবার হয় অক্সিজেন । অক্সিজেন থেকে ফিউশনের মাধ্যমে হয় আয়রন । তো আয়রন বা লোহা থেকে আর ফিউশন ঘটে নতুন মৌল তৈরি সম্ভব হয় না। ফলে ফিউশন থেমে যায় । থেমে যাওয়ার মানে হলো যেই শক্তিটি এতকাল ধরে অণুর মহাকর্ষ বলের সাথে ফাইট করে নক্ষত্রের গ্যাসকে কেন্দ্রে সংকুচিত হওয়া থেকে বাঁচিয়েছিল ওটা আর নেই। এখন শুধু মহাকর্ষ বলই কার্যকরী ।

এবার নক্ষত্রের ভাগ্যে কি ঘটবে সেটা নির্ভর করছে এর ভরের উপর ।
বিভিন্ন নক্ষত্রের ভরকে সূর্যের ভরের সাথে তুলনা করে তিনটা ক্যাটাগরিতে ফেলা যায়।

  • প্রথম ১-৮ সৌর ভর
  • দ্বিতীয় ৮-১৭ সৌর ভর
  • তৃতীয় ১৮+ সৌর ভর

১-৮ সৌর ভর

প্রথম ক্যাটাগরির নক্ষত্র সমূহ তাদের জ্বালানি শেষ হয়ে যেয়ে কেন্দ্রের নিউক্লিয়ার ফিউশন বন্ধ হয়ে যায় ফলে কেন্দ্রের তাপমাত্রা কমতে থাকে। অন্যদিকে নক্ষত্রের বাইরের দিকের পরমাণু সমূহ তখনো কেন্দ্রের চাইতে উত্তপ্ত থাকে ফলে আয়তন বাড়তে থাকে। এসময় নক্ষত্র বিশাল আকার ধারণ করে । এই দশাকে রেড জায়ান্ট বলে। আমাদের সূর্য্যও আজ থেকে প্রায় ৪ বিলিয়ন বছর পর রেড জায়ান্টে পরিণত হবে। তখন এর আকার এত বেড়ে যাবে যে এটি পৃথিবীর কক্ষপথ পর্যন্ত প্রসারিত হবে। উল্লেখ্য সূর্য বর্তমানে যেখানে আছে তার থেকে পৃথিবীর দূরত্ব প্রায় পনের কোটি কিলোমিটার !

এনিওয়ে, এভাবে প্রসারিত হয়ে এটি তার বাইরের স্তর থেকে রেডিয়েশন ও প্লাজমার আকারে পদার্থ নিঃসরণ করতে থাকবে । এর কেন্দ্রের আকর্ষণ আর এর আউটার লেয়ারকে ধরে রাখতে পারবে না। এভাবে একসময় আর আউটার লেয়ারে কিছুই থাকবে না । সেন্টার বা কোরের পদার্থ সমূহ বাকি থাকবে সেটির তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকবে । সুতরাং নক্ষত্রটি তার আউটার লেয়ার খুইয়ে অতি উত্তপ্ত কেন্দ্র নিয়েই থাকবে এর নাম হোয়াইট ডর্ফ । হোয়াইট বলার কারণ হলো পদার্থ যত বেশি গরম এর রং তত বেশি সাদা হয় । কামারের দোকানে বা বাসায় একটি লোহা গরম করে দেখতে পারেন। যত বেশি হিট অত বেশি উজ্জ্বল আর তাপমাত্রা কমার সাথে সাথে এটি লাল হতে থাকে।

৮-১৭ সৌর ভর

এদের ফিউশন বন্ধ হয়ে গেলেও যেহেতু ভর বেশি তাই কেন্দ্রের ভরও বেশি । ভর বেশি মানে আকর্ষণও শক্তিশালী। যেহেতু ফিউশন বন্ধ কাজেই এর আউটার লেয়ার কেন্দ্রে পুঞ্জিভূত হওয়া থেকে ঠেকানোর মতো কোন মেকানিজম আর নেই । এই ৮-১৭ সৌর ভরের তারা জ্বালানি শেষ হলে ফিউশন থেমে গেলে পুরো নক্ষত্রটির আউটার লেয়ার এর কেন্দ্রে মুহুর্তের মধ্যে পুঞ্জিভূত হবে। এতে একটি বিস্ফোরণ ঘটবে যাকে বলে সুপারনোভা । সুপারনোভার ফলে এত বিপুল পরিমাণ শক্তি তৈরি হবে যা সূর্যের সারাজীবন দেয়া শক্তির চাইতেও বেশি। সুপারনোভার পরে পড়ে থাকবে কেন্দ্র। তবে এর কেন্দ্র যেহেতু বড় তাই এর শক্তিশালী মহাকর্ষ বলের প্রভাবে কেন্দ্রের অণু পরমাণু সমূহের ইলেকট্রন ও প্রোটন মিলে নিউট্রন তৈরি করবে । এসময় তৈরি হবে নিউট্রিনো যা রেডিয়েশনের মাধ্যমে মহাকাশে চলে যাবে। সুতরাং তারাটির কেন্দ্রে নিউট্রন ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। একে বলে নিউট্রন স্টার । নিউট্রন স্টারের ঘনত্ব এতোই বেশি যে এক চা চামচ নিউট্রন স্টার ম্যাটেরিয়াল এর ভর প্রায় ১০ লক্ষ টন !!!

নিউট্রন স্টারই হলো গ্রুপ দুই এর এর শেষ পরিণতি।

১৮+ সৌর ভর

এদের ফিউশন বন্ধ হয়ে গেলেও নিউট্রন স্টারের মতোই সুপারনোভা হবে । তবে এদের ভর যেহেতু আরো ব্যাপক তাই এদের কেন্দ্রের ভর ও গ্রাভিটিও অনেক বেশি । এতোটাই বেশি এদের গ্র্যাভিটি যে সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার বেগে চলা আলোও এর গ্র্যাভিটি থেকে বের হতে পারবে না । অর্থাৎ এটি সব কিছুকে আটকে রেখে দেয় । এর নাম ব্ল্যাক হোল । এই ব্ল্যাক হোল হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে ঘন বস্তু । কেমন ঘন হতে পারে ?

ব্ল্যাক হোল থেকে এক চা চামচ পদার্থ নিলে সেটার ভর পৃথিবীর ভরের থেকেও বেশি হবে ।

ব্ল্যাক হোল আবার হকিংস রেডিয়েশনের মাধ্যমে মিলিয়ে যেতে থাকে। তবে এই প্রসেস এতই স্লো যে এটা আজীবন থাকবে তাই বলা যায়।
ইশশ….. রাতের আকাশের তারা গুলোও একসময় আর থাকবে না।

কিভাবে Android ফোন ব্যবহার করে Youtube-র ইন্ট্রো ভিডিও বানাবেন

এই আর্টিকেলে আমি আপনাদেরকে দেখাবো কি করে আপনার Andorid ফোন ব্যবহার করে Youtube ইন্ট্রো ভিডিও তৈরী করবেন। তাহলে কথা না বাড়িয়ে টিউটোরিয়ালে চলে যাওয়া যাক।

ভিডিও টিউটোরিয়ালঃ

ভিডিওতে সবকিছু বিস্তারিত দেখানো আছে। আপনার যদি ভিডিও দেখতে অসুবিধা হয় তাহলে নিচে বিস্তারিত পড়তে পারেন।

যে জিনিস গুলো youtube ইন্ট্রো বানাতে প্রয়োজন

  • ভালো একটি এন্ড্রয়েড ফোন
  • Legend এপ্লিকেশন
  • Videoshop এপ্লিকেশন
  • ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক

এই জিনিস গুলো অবশ্যই আপনার কাছে থাকতে হবে। এই অ্যাপ্লিকেশন গুলো কোথায় পাবেন? চিন্তার কোন কারণ নেই, কারন আমি আপনাদের তা দেবো।

ডাউনলোড লিংক

নিচের লিংক হতে অ্যাপ্লিকেশনগুলো ডাউনলোড করে নিনঃ

Legend এপ্লিকেশন কেন প্রয়োজন

কারণ আপনাকে youtube ইন্ট্রো বানাতে হলে অবশ্যই এই অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে এবং এই অ্যাপ্লিকেশন হতেই আমরা আমাদের মূল ইন্ট্রো ভিডিও টি বানাবো। এছাড়া এই অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে আপনার ইন্ট্রোর  GIF ফাইল ডাউনলোড করতে পারবেন।

Videoshop এপ্লিকেশন টি কেন প্রয়োজন

আমরা প্রথম অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করে ইন্ট্রো ভিডিও বানাতে সফল হলেও এতে কোন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যুক্ত করতে পারবোনা। মিউজিক যুক্ত করতে হলে অবশ্যই আপনাকে অ্যাপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করতে হবে। এখন আপনি যদি মনে করেন আপনার ইন্ট্রোতে আপনি কোন সাউন্ড ব্যবহার করবেন না, তাহলে আপনার এই এপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করার প্রয়োজন নেই।

ইন্ট্রো বানানোর নিয়ম

প্রথম ধাপঃ

প্রথম এপ্লিকেশনটি ইন্সটল করা হয়ে গেলে সেটি ওপেন করুন।

এপ্লিকেশনটি ওপেন করলে চিত্রের ন্যায় দেখাবে

youtube ইন্ট্রো

আপনার নিজের লেখাটি লিখে টিক চিহ্নতে ক্লিক করুন

টিক চিহ্নতে ক্লিক করার পরে চিত্রের ন্যায় প্লে বাটনে ক্লিক করুন

legend
click on play button

এরপর আপনার পছন্দ মত ইফেক্ট সিলেক্ট করুন এবং ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করুন। আপনার প্রাথমিক ইন্ট্রো ভিডিওটি প্রস্তুত।

২য় ধাপঃ

এবারের কাজটি খুব সহজ আপনাকে এপ্লিকেশন টি চালু করে আপনার ইন্ট্রো ভিডিও টি সিলেক্ট করতে হবে। এরপর সেখান থেকে সাউন্ড বাটনে ক্লিক করতে হবে এবং আপনার পছন্দ মত ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক সিলেক্ট করলেই প্রস্তুত হয়ে যাবে আপনার ইউটিউব ইন্ট্রো ভিডিও।

শেষ বাক্য

এই আর্টিকেলে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি আপনাদের দেখাতে কিভাবে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করে ইউটিউব ইন্ট্রো ভিডিও তৈরী করবেন। আপনাদের যদি কোথাও সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আমাদের ভিডিও টিউটোরিয়ালটি দেখতে পারেন। এর পরেও যদি কোন কিছু জানতে চান তাহলে মন্তব্য করুন।

WordPress টিউটোরিয়ালঃ কিভাবে লগিন এবং সাইন আপ পেইজের লোগো পরিবর্তন করবেন

লগিন এবং এডমিন সাইন আপ পেইজে WordPress তার নিজস্ব লোগো ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু এটি পরিবর্তন করা ফরয হয়ে পড়ে যখন আপনি সাইটের ব্রান্ডিং নিয়ে কাজ করেন। হ্যাঁ আপনি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই লোগো পরিবর্তন করে ফেলতে পারেন। এই টিউটোরিয়ালে আমি দেখাবো কিভাবে লগিন এবং সাইন আপ পেইজের লোগো পরিবর্তন করবেন কোডিং/প্লাগিনের মাধ্যমে।

লগিন পেইজ ঠিক নিচের মত দেখতে হয়ঃ

লগিন এবং সাইন আপ
Login page

যা নির্দেশ করে WordPress কে। হ্যাঁ, আপনি নিজের লোগো দিয়ে তা পরিবর্তন করতে পারেন।

লগিন এবং সাইন আপ পেইজের লোগো পরিবর্তন

PHP FUNCTION:

নিচের php function টি ব্যবহার করে খুব সহজেই লগিন এবং সাইন আপ লোগো পরিবর্তন করা যাবে। নিচের কোডটি কপি করুন এবং আপনার থিমের functions.php ফাইলে পেস্ট করুন। এক সেকেন্ড ✋ url টি পরিবর্তন করে আপনার লোগোর সঠিক পথ বাতলে দিন। (বুঝতে অসুবিধা হলে মন্তব্য করুন)

কোন রকন এডিটের আগে অবশ্যই ফাইলটির একটি Backup রাখবেন। সঠিকভাবে সবকিছু করতে পারলে আপনার লগিন এবং সাইন আপ পেইজের লোগো পরিবর্তন হয়ে যাবে ।

WordPress প্লাগিনের মাধ্যমে লগিন এবং সাইন আপ পেইজের লোগো পরিবর্তন

Uber login logo প্লাগিনের মাধ্যমে আপনি কাজটি করতে পারেন। ধাপ গুলো লক্ষ্য করুন।

প্লাগিনের এপিঠ ওপিঠ জানুন

  1. প্লাগিন ইন্সটল এবং একটিভ করুন।
  2. Dashboard >> Settings >> Uber Login Logo তে গেলে নিচের মত ছবি দেখতে পাবেন। আপলোড ইমেইজ বাটনে ক্লিক করুন এবং ব্যাস কাজ শেষ।

 

wordpress
uber login logo

দেখে নিন কিভাবে প্লাগিন ইন্সটল করবেন

শেষমেষ

আশা করি এই আর্টিকেল আপনাদের উপকারে আসবে। আপনি জেনে গেলেন কিভাবে wordpress লগিন এবং সাইন আপ পেইজের লোগো পরিবর্তন করতে হয়।

আপনার যেকোনরকম সাজেশন আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

২০২১ সালে ব্লগিং শুরু করার জন্য ১০ টি অপরিহার্য WordPress প্লাগিন

আপনি যদি নতুন নতুন ব্লগিং শুরু করেন তাহলে আপনার মনে অবশ্যই যে প্রশ্নটি তৈরি হবে তা হলো WordPress প্লাগিন কি? আপনার এই প্রশ্নের উত্তর পাবেন এখানে

WordPress এ প্রায় ৩৭৪০০ মত ফ্রি প্লাগিন রয়েছে যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। এছাড়া CodeCanyon এ রয়েছে আরো প্রচুর প্রিমিয়াম প্লাগিন।

WordPress এ ব্লগিং করার সময় আপনি অনেকরকমের সম্মুখীন হতে পারেন কিন্তু প্রতিটি সমস্যায় আপনাকে ব্যাকাপ দিবে WordPress প্লাগিন। যাইহোক আজকে সেই সমস্যা নিয়ে কথা বলবো না, আজ বলবো যে প্লাগিনগুলো আবশ্যকীয় এবং যেগুলো না থাকলেই নয়।

প্লাগিন ছাড়া সমস্যার সমাধান সম্ভব?

নাহ, WordPress প্লাগিন হলো একেকটি স্তম্ভ। এই স্তম্ভগুলোর মধ্যেই WordPress দাঁড়িয়ে থাকে অতএব প্লাগিন ছাড়া সমস্যার সমাধান এবং ত্রুটিহীন WordPress অসম্পূর্ণ। এছাড়া প্লাগিন WordPress কে করে তুলে আকর্ষণীয়।

শুরু করা যাক

আপনি যদি আপনার মনকে ঠিক করে ফেলেন যে আপনি ব্লগিং শুরু করে ফেলবেন তাহলে আপনি ব্লগিং শুরু করার গাইডটি দেখে নিন

ব্লগের অপরিহার্য WordPress প্লাগিনসমূহ

আবারো বলে নেওয়া ভালো যে, অতিরিক্ত প্লাগিন ব্যবহারের ফলে আপনার ওয়েবসাইট স্লো হয়ে যেতে পারে । তাই একমাত্র অপরিহার্য প্লাগিন ছাড়া অনান্য প্লাগিন ডিলেট করে দিন।

WordPress SEO by Yoast

এই প্লাগিনটি খুবই জনপ্রিয় এবং অধিকাংশ মানুষ এটি ব্যবহার করে। SEO সম্পর্কিত সকল বিশেষ টুলগুলো একসাথে পাবেন আপনি এই প্লাগিনে। আমি নিজে SEO এর জন্য এই প্লাগিন ব্যবহার করি। আপনার পোষ্ট SEO এর জন্য কেমন প্রভাব ফেলবে তা আপনি এই প্লাগিন ব্যবহার করে জানতে পারবেন।

Yost-seo



W3 Total Cache

W3 totla Cache হলো কেইচিং প্লাগিনদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। আমি আমার সকল ওয়েবসাইটে এই প্লাগিম ব্যবহার করি। হ্যা এবং এটি একটি ফলপ্রসূ প্লাগিন। সঠিকভাবে কনফিগার করা হলে এটি আপনার সাইটে কি অপ্টিমাইজ করবে এবং আপনি তা বুঝতে পারবেন।

Jetpack

Jetpack হলো অনেকগুলো বিশেষ ফাংশনের সমন্বিত প্লাগিন। Jetpack এ আপনি অনেকগুলো ফাংশন পাবেন আপনি বিস্তারইত ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন।

[mks_button size=”small” title=”ডাউনলোড” style=”squared” url=”https://wordpress.org/plugins/jetpack/” target=”_blank” bg_color=”#F44336″ txt_color=”#FFFFFF” icon=””]

Monarch

স্যোসাল শেয়ার মাধ্যমের জন্য সবচেয়ে ভালো এবং নান্দনিক প্লাগিন। এটি সবচেয়ে আধুনিক শেয়ার মাধ্যম। পাশাপাশি কতবার আপনার আর্টিকেল টি শেয়ার করা হয়েছে তা গণনা করবে।

[mks_button size=”small” title=”ডাউনলোড” style=”squared” url=”https://www.elegantthemes.com/plugins/monarch/” target=”_blank” bg_color=”#F44336″ txt_color=”#FFFFFF” icon=””]

Google XML Sitemaps

সাইটম্যাপ এঞ্জিন ক্রলারদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

[mks_button size=”small” title=”ডাউনলোড” style=”squared” url=”https://wordpress.org/plugins/google-sitemap-generator/” target=”_blank” bg_color=”#F44336″ txt_color=”#FFFFFF” icon=””]

iThemes Security

একটি ওয়েব সাইটের সিকিউরিটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না। সিকিউরিটির ব্যাপারে উদাসীন হওয়া মানেই বিপদ। এই প্লাগিনটি ৩০ টি উপায়ে আপনার ওয়েবসাইট কে রাখে নিরাপদ।

[mks_button size=”small” title=”ডাউনলোড” style=”squared” url=”https://wordpress.org/plugins/better-wp-security/” target=”_blank” bg_color=”#F44336″ txt_color=”#FFFFFF” icon=””]

WP-Optimize

একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাগিন। ডাটাবেজকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং অপ্টিমাইজ করার জন্য এই প্লাগিনটি খুবই কার্যকরী। অপ্রয়োজনীয় টেবিলগুলো ধুয়ে মুছে রাখার কাজ করে এই প্লাগিনটি। এই প্লাগিন এর ব্যবহার খুব সহজ।

[mks_button size=”small” title=”ডাউনলোড” style=”squared” url=”https://wordpress.org/plugins/wp-optimize/” target=”_blank” bg_color=”#F44336″ txt_color=”#FFFFFF” icon=””]

Contact Form 7

যোগাযোগের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। যোগাযোগ বিষয়টি WordPress এর জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্লাগুনের ব্যবহার খুবই সহজ এবং এতে অনেকরকম ফিচার র‍য়েছে।

Contact From


[mks_button size=”small” title=”ডাউনলোড” style=”squared” url=”https://wordpress.org/plugins/contact-form-7/” target=”_blank” bg_color=”#F44336″ txt_color=”#FFFFFF” icon=””]

WP Smush.it

ইমেইজ ফাইল গুলোকে অপটুমাইজ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় কেননা সাইটের লোড তাড়াতাড়ি হওয়া বাঞ্ছনীয় সেহেতু ইমেইজ অপ্টিমাইজের জন্য এই প্লাগিন খুবই উপকারী


[mks_button size=”small” title=”ডাউনলোড” style=”squared” url=”https://wordpress.org/plugins/wp-smushit/” target=”_blank” bg_color=”#F44336″ txt_color=”#FFFFFF” icon=””]

Broken Link Checker

ব্রোকেন লিংক SEO এর ক্ষেত্রে খুবই খারাপ প্রভাব ফেলে। কোন লিংক ব্রোকেন কিনা তা চেক করার জন্য একমাত্র সেরা প্লাগিন। শুধু চেক করাই নআ সেগুলো সারানোর জন্যও এই প্লাগিন কার্যকারী।

[mks_button size=”small” title=”ডাউনলোড” style=”squared” url=”https://wordpress.org/plugins/broken-link-checker/” target=”_blank” bg_color=”#F44336″ txt_color=”#FFFFFF” icon=””]

অবশেষে

এগুলো ছাড়াও আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্লাগিন রয়েছে যা এখানে উল্লেখ্য করা হয়নি। উপরের প্লাগিন গুলো হলো আবশ্যকীয়।  এগুলো অবশ্যই থাকা জরুরী। এবং আপনার ওয়েবসাইট চালনার জন্য খুবই কার্যকারী।  যদি কোন আবশ্যকীয় প্লাগিন বাদ পড়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের জানাবেন।

ফাস্ট চার্জিং কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

আজকাল বেশিরভাগ ভালো এবং বড় ফোন রিলিজের সাথে সাথে উন্নত এবং ফাস্ট চার্জিং স্পিডের বিষয়গুলোও তারা মাথায় রাখে। ফাস্ট চার্জারগুলি কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে তারা আরও ফাস্টেস্ট হচ্ছে তা আমরা আজ আলোচনা করবো।

ফাস্ট চার্জিংয়ের উত্থান

বাজারে সাম্প্রতি প্রতিটি ফ্ল্যাগশিপ ফোনে এক ধরণের ফাস্ট চার্জ হওয়ার ফিচার দিয়ে থাকে। উৎপাদক রা প্রায়সই তাদের নতুন ডিভাইসগুলির মার্কেটিং করতে গিয়ে “৩০ মিনিটে ৮০%” বা “এক ঘন্টার মধ্যে সম্পূর্ণ চার্জ” এমন ধাচের প্রচারনা করে থাকে।

ফাস্ট চার্জিংয়ের বিষয়টি মানুষকে ফোন আরো বেশি ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে এবং এতে করে অনেক লোককে প্রতিদিন একাধিকবার ফোন রিচার্জ করতে হচ্ছে। এটিও একটি প্রয়োজনীয়তাও বটে। প্রতিবছর ফোনের আকারগুলি বড় হওয়ার সাথে সাথে অতিরিক্ত বিদ্যুতের খরচ ব্যবহারের জন্য তাদের আরও বড় ব্যাটারি প্রয়োজন হচ্ছে। আর এখানে দ্রুত চার্জের ব্যবস্থা না থাকলে একটা ফোন চার্জ হওয়ার জন্য অনেকটা সময় ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

প্রাথমিক স্তরে, ফাস্ট চার্জিং কেবল কোনও ফোনের ব্যাটারিতে সরবরাহ করা ওয়াটের সংখ্যা (W) বৃদ্ধি করে দেয়। একটি ব্যাসিক ইউএসবি পোর্ট, সংযুক্ত ডিভাইসে ২.৫W পাঠায় এবং হয়কি ফাস্ট চার্জারগুলি এই পরিমাণটি আরো বাড়িয়ে তোলে। বর্তমান-প্রজন্মের ডিভাইসগুলিতে বাক্সের ঠিক বাইরে ১৫W পাওয়ারের লেবেল বসিয়ে দিয়ে থাকে। কিছু নির্মাতাতো ৫০W, ৮০W এবং ১০০W চার্জারের অফার করে থাকে।

ব্যবহারকারীর দিকে থেকে, এটি তাদের ফোনের জন্য নরমাল চার্জার ব্যবহার করার মতোই সহজ। তবে নির্মাতাদের পক্ষে এটি উচ্চ-ওয়াটের পাওয়ারের সাথে মিলানো এতটা সোজা না।

ফাস্ট চার্জিং প্রক্রিয়া

আমরা আরও গভীরে যাওয়ার আগে আপনার একটি সাধারণ সূত্র জেনে রাখা উচিত।  “Wattage, or power, is computed as a result of current (A, or amperes) multiplied by voltage (V, or volts). Current is the amount of electric current being transported, while voltage is the force that drives this current forward. Therefore, 3A/5V charging will deliver 15W of power.” 

আরো পড়ুনঃ অ্যান্ড্রয়েডে কীভাবে গেস্ট মোড সেট আপ করবেন

একটা বিষয় আপনি লক্ষ্য করবেন যে নির্মাতারা ফাস্ট চার্জিং-এ ৫০%-৮০% চার্জের কথা বলে, মানে আপনার ফোনে আংশিক চার্জের বিষয়টি নিয়ে তারা মার্কেটিং করে। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি কাজই এমন যে এটি চার্জ সঞ্চয় করে রাখে। কিন্তু আপনি কি খেয়াল করেছেন যে ফোন ফুল চার্জ হতে কিন্তু ফোন সময় অনেক বেশি নেয়? সময় গড়াতে গড়াতে এই ফাস্ট চার্জার ফুল চার্জ করতে প্রচুর সময় লাগাবে।

চার্জিং প্রক্রিয়াটি তিন ভাগে ভাগ করা যায়। আরও প্রযুক্তিগত তথ্যের জন্য ব্যাটারি বিশ্ববিদ্যালয়ের লিথিয়াম-আয়ন চার্জ পর্যায়ে চার্টটি একবার দেখুন। সংক্ষেপে, এখানে দেখানো হলঃ

  • Stage 1 – Constant Current: Voltage increases towards its peak, while current stays constant at a high level. This is the phase where a lot of power is quickly delivered to the device.
  • Stage 2 – Saturation: This is the phase where the voltage has reached its peak and current drops down.
  • Stage 3 – Trickle/Topping: The battery is fully charged. In this phase, the power will either slowly trickle in, or will periodically charge a low “topping” amount as the phone consumes battery.

প্রতিটি প্রক্রিয়া শক্তি এবং দৈর্ঘ্যে ফাস্ট চার্জিং স্ট্যান্ডার্ডের উপর নির্ভর করে। স্ট্যান্ডার্ড হ’ল একটি প্রতিষ্ঠিত চার্জিং প্রক্রিয়া যা কোনও নির্দিষ্ট ডিভাইস, চার্জার এবং পাওয়ার আউটপুটের সাথে সম্পর্কিত। নির্মাতারা বিভিন্ন চার্জিং স্ট্যান্ডার্ড ডেভেলপ করে যা আউটপুট এবং চার্জের সময়গুলি পৃথক করতে সক্ষম হয়।

ফাস্ট-চার্জিং স্ট্যান্ডার্ড

Qualcomm

এখানে মোবাইল ফোনে প্রয়োগ করা বিভিন্ন ফাস্ট-চার্জিং স্ট্যান্ডার্ড তুলে ধরলামঃ

ইউএসবি পাওয়ার ডেলিভারিঃ প্রতিটি মোবাইল ফোনে চার্জিং তার থাকে যা ইউএসবি ব্যবহার করে, এমনকি অ্যাপলের আইফোনগুলির জন্য বিদ্যুতের কেবলগুলি অন্য প্রান্তে একটি ইউএসবি সংযোগ ব্যবহার করে। ইউএসবি ২.০ একটি সাধারণ স্ট্যান্ডার্ড, তার সর্বাধিক পাওয়ার আউটপুট ২.৫W । যেহেতু ইউএসবি পোর্টগুলির আরও বেশি পাওয়ার সরবরাহ করার প্রয়োজন তাই ইউএসবি-পিডি নামে একটি স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করা হয়েছিল। ইউএসবি-পিডির সর্বাধিক আউটপুট ১০০W এবং বেশিরভাগ ফ্ল্যাগশিপ মোবাইল ফোন সহ বিভিন্ন ডিভাইসগুলির জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। সামনে সমস্ত ইউএসবি ৪ ডিভাইসে ইউএসবি-পিডি প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা আশা করি স্ট্যান্ডার্ড হয় যাবে।
কোয়ালকম কুইক চার্জঃ কোয়ালকম হ’ল ফ্ল্যাগশিপ অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য সর্বাধিক ব্যবহৃত চিপসেট এবং তাদের সর্বশেষ প্রসেসরগুলি তাদের স্বত্বাধিকারী কুইক চার্জ স্ট্যান্ডার্ডের সাথে অন্তর্নির্মিত সামঞ্জস্যপূর্ণ। নতুন কুইক চার্জ ৪+ এর সর্বোচ্চ পাওয়ার ১০০ আউটপুট।
স্যামসং অভিযোজিত ফাস্ট চার্জিংঃ এই স্ট্যান্ডার্ডটি স্যামসাং ডিভাইসগুলি ব্যবহার করে; বিশেষত তাদের গ্যালাক্সি লাইনের ডিভাইসে। এই স্ট্যান্ডার্ডটির সর্বাধিক পাওয়ার আউটপুট ১৮W এবং ব্যাটারির লাস্টিং করার জন্য তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জিং সেটিং পরিবর্তন করে।
ওয়ানপ্লাস ওয়ার্প চার্জিংঃ ওয়ানপ্লাস ওয়ার্প চার্জিং স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহার করে, যা তাদের ডিভাইসগুলিকে ৩০W পর্যন্ত চার্জ করে। অন্যান্য স্ট্যান্ডার্ডের মতো ভোল্টেজ বৃদ্ধির পরিবর্তে, এই তালিকার অন্যান্য বিকল্পগুলির মতো, পূর্ণ গতির ৩০W চার্জিংও প্রদান করে।
ওপ্পো সুপার ভিওওসি চার্জিংঃ ওপ্পো একটি স্বত্বাধিকারী স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহার করে যা তাদের ডিভাইসগুলিকে ৫০W পর্যন্ত চার্জ করে।

আরো পড়ুনঃ অ্যান্ড্রয়েড ওয়ান নিয়ে আপনার যা জানা প্রয়োজন

বেশিরভাগ সংস্থা যাদের নিজস্ব চার্জিং প্রযুক্তি নেই তারা ইউএসবি-পিডি বা কোয়ালকম কুইক চার্জ ব্যবহার করে বা তাদের নির্দিষ্ট ডিভাইসের সাথে এটিকে খাপ খাইয়ে নেয়। অ্যাপল, এলজি, স্যামসাং এবং গুগলের মতো সংস্থাগুলি তাদের ফ্ল্যাগশিপ ফোনের জন্য এই স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহার করে।

এই সমাধানগুলির বেশিরভাগই তাদের অ্যাডাপ্টারের ভোল্টেজ বাড়িয়ে চার্জিংয়ের গতি বাড়ায়। আউটলেটরটি হল ওপ্পো এবং ওয়ানপ্লাসের সমাধান, যা ভোল্টেজের পরিবর্তে কারেন্টকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করে। এই ডিভাইসগুলির সাথে দ্রুত চার্জ করার জন্য তাদের নিজস্ব কেবল ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে।

চার্জিংয়ের ভবিষ্যত

চার্জিং প্রযুক্তি ক্রমাগত আরও ভাল এবং উন্নত হচ্ছে, কারণ নির্মাতারা চার্জিংয়ের গতি বাড়িয়ে চলেছে। আগামী কয়েক বছরে, আরও সংস্থাগুলি চার্জিং প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা করবে এবং শিল্পে নতুন মান উদ্ভূত হবে। তবে সম্ভবত (সম্ভবত) স্ট্যান্ডার্ডগুলোর ক্ষেত্রে বেশিরভাগ নির্মাতারাই তাদের ব্যাকবোন হিসাবে ইউএসবি-পিডি ব্যবহার করবে।

উৎসঃ ১) হাউওটুগিক ২) পিসিম্যাগ ৩) এন্ড্রয়েড অথোরিটি

WordPress টিউটোরিয়ালঃ কিভাবে লেখকের মন্তব্যকে হাইলাইট করবেন

কিছু ওয়েবসাইটের মন্তব্য পড়তে গেলে লেখকের মন্তব্য খুঁজে পেতে বিরম্বনাতে পড়তে হয় । দেখে বুঝার উপায় থাকে না কোনটি লেখকের মন্তব্য কোনটি সাবস্ক্রাইবারের মন্তব্য। ঠিক এই কারনেই কিছু কিছু ওয়েবসাইটে লেখকের মন্তব্যগুলোকে হাইলাইট করা হয়ে থাকে। আপনি যদি জানতে চান কিভাবে তা হাইলাইট করা হয় তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। এই আর্টিকেলে আমি দেখাবো কি করে তা করতে হয়।

ভিডিও টিউটোরিয়ালঃ

https://youtu.be/47kyeBH45Vg
ভিডিও টিউটোরিয়ালে বিস্তারিত বলা আছে, আপনার যদি ভিডিও ভালো না লাগে তাহলে নিচের পন্থা অনুসরণ করুন।

ডিফল্ট WordPress এ অনেক গুলো রেডি করা CSS থাকে যা ডিজাইনার দের স্টাইল পরিবর্তন সহজ করে দিয়েছে। অনেকগুলো CSS স্টাইল ফাইলের মধ্যে কিছু রয়েছে শুধুমাত্র কমেন্ট ভিত্তিক। যাকে বলা হয় . bypostauthor যা আপনি খুঁজে পাবেন . commentlist এলিমেন্টে। আপনার কাজ হলো শুধুমাত্র আপনার CSS স্টাইলটি সেখানে যুক্ত করা। Note: this code will be found in your style.css file located in your theme’s folder.

এই ফাইলকে এত জটিল করার দরকার নেই।

আপনি চাইলে Chris এর মত করে হাইলাইট করতে পারেন

এজন্য আপনাকে নিচের মত কোড বসাতে হবে।

অবশ্যই আপনাদের ওয়েবসাইটের সাথে মিলিয়ে রঙ ব্যবহার করবেন।

আরো কিছু উদাহরণ চান?

Matt এর ডিজাইন কেমন লাগে? Matt এর মত করতে নিচের মত কোড ব্যবহার করুন।

আবারো বলছি রংটি আপনার মত মিলিয়ে নিন।

আশা করি এই পোষ্ট আপনার উত্তর দিয়ে দিয়েছে যে কিভাবে মন্তব্য হাইলাইট করবেন। আপনি চাইলে আমার স্টাইলিং স্কিল ব্যবহার করে আরো সুন্দর বানাতে পারবেন । যাইহোক প্রশ্নরা আমন্ত্রিত।

ব্ল্যাকরক থেকে অ্যান্ড্রয়েডকে রক্ষা করুন, নতুন পাসওয়ার্ড-চুরির ম্যালওয়ার

আপনার ব্যক্তিগত তথ্যগুলো আবারও হুমকির মুখে রয়েছে, কারণ নতুন অ্যান্ড্রয়েড-কেন্দ্রিক ম্যালওয়্যার সম্প্রতী ধরা পড়েছে।

কি ধরনের ভাইরাস? ব্ল্যাকরক নামে পরিচিত, এটি অন্যান্য ট্রোজান এবং ভাইরাসগুলির মতো কাজ করে তবে এটি ব্যাংকিং, নেভিগেশন, সোশ্যাল মিডিয়া, ডেটিং এবং মিউজিক অ্যাপস, ভিডিও প্লেয়ার এবং আরও অনেক কিছু সহ অন্যন্য অ্যাপকে লক্ষ্য করে থাকে। ম্যালওয়্যারটি সম্পূর্ণ কার্যকর হলে, এটি ডেবিট কার্ডের সিভিভি সংখ্যার মতো বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের জন্য আপনার ব্যবহারকারীর নাম এবং পাসওয়ার্ড চুরি করতে পারে।

ব্ল্যাকরক
ThreatFabric

ব্ল্যাকরক কিভাবে কাজ করে?

মোবাইল সুরক্ষা সংস্থা থ্রেটফ্যাব্রিকের ব্যাখ্যা অনুসারে, ম্যালওয়্যারটি একবার আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে প্রবেশ করার পরে এটি তার অ্যাপ্লিকেশন আইকনটি ব্যবহারকারীর কাছ থেকে আড়াল করে রাখবে, তারপরে গুগল আপডেট হিসাবে মুখোমুখি হওয়ার সময় অ্যাক্সেসিবিলিটি চাইবে। এটির পারমিশন পেয়ে যাওয়ার পরে এটি আপনার ডিভাইসে নিজেকে আরও শক্তিশালী করে তোলে, এবং তান্ডব শুরু করে। 

আপনার পূর্বে লগইন করা প্রতিটি ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে, আপনি ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন এমন অ্যাপ্লিকেশনটির উপরে ওভারলে স্থাপন করে, তারপরে এটির প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছু হয়ে গেলে তা তাদের অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের প্রেরণ করে। এর বাইরে, ব্ল্যাকরক এসএমএস বার্তা প্রেরণ এবং চুরি করতে, নোটিফিকেশন আড়াল করতে, অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ্লিকেশন আটকাতে, কীলগার হিসাবে কাজ করতে এবং আরও অনেক কিছু করতে পারে। 

এটি কিভাবে ডিভাইসে আসে?

বর্তমানে, ব্ল্যাকরক তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইটগুলিতে একটি নকল গুগল আপডেট হিসাবে দেখা যায়। গুগল প্লে স্টোরে এটি দেখা যায় নি তবে  জেডডিনেট নোট করে যে পূর্ববর্তী ম্যালওয়্যার গুগলের অ্যাপ পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডিভাইসে এসেছে, সুতরাং, যে কোনও নতুন অ্যাপ্লিকেশন থেকে সাবধান থাকুন।

ব্ল্যাকরক থেকে মুক্তির উপায় কি?

সাবধান থাকতে হবে। গুগুল প্লেস্টোরে থাকা সব এপ্লিকেশন যদিও অনেকবার পর্যালোচনা করা হয়ে থাকে তারপরেও এপ্লিকেশনগুলোর পারমিশনগুলোর দিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন। অবশ্যই আপনার ফোনের গুরুত্বপূর্ন তথ্যগুলোর আগে থেকেই ব্যাকাপ নিয়ে রাখবেন।  

এন্ড্রয়েড ফোন হয়ে যাবে ওয়েবক্যাম

শুরু করার আগে

১) আপনার এন্ড্রয়েড ফোনকে নেটওয়ার্কে আইপি ক্যামেরা হিসেবে সেট করার পর আপনার কম্পিউটার থেকে ওয়েবক্যাম হিসেবে কনফিগার করতে হবে।

২) এটার জন্য কম্পিউটারে এবং ফোনে স্পেশাল সফটওয়্যারের দরকার পড়বে।

৩) পুরো কাজটির জন্য ১৫ মিনিটের মত সময় লাগবে।

এই আর্টিকেল কীভাবে একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে ওয়েবক্যাম বানাবে সেটি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখা করবে। চলুন শুরু করা যাক।

আরো পড়ুনঃ ফোন আপডেট করতে গেলে যে সমস্যাগুলো হয়ে থাকে


কিভাবে এন্ড্রয়েড ফোন হয়ে যাবে ওয়েবক্যাম?

সময় লাগবেঃ 15 minutes.

সঠিক সফটওয়্যার ইনস্টল এবং কনফিগার করতে নীচের পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করুন এবং তারপরে স্কাইপের মতো ভিডিও কলিং সফটওয়্যারে আপনার ফোনটিকে ওয়েবক্যাম হিসাবে ব্যবহার করুন।

  1. ফোনে আইপি ওয়েবক্যাম অ্যাপ ইনস্টল

    গুগল প্লে স্টোর থেকে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আপনার পছন্দের আইপি ওয়েবক্যাম অ্যাপটি ইনস্টল করুন। এই উদাহরণে, আমরা ড্রয়েডক্যাম অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করছি।


    বিঃদ্রঃ নিবন্ধে ব্যবহৃত সফ্টওয়্যার ড্রয়েডক্যামের সর্বশেষতম সংস্করণটির জন্য সর্বনিম্ন অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ প্রয়োজন। তবে আপনার যদি প্রয়োজন হয় তবে আপনি ড্রয়েডক্যাম এর পুরানো সংস্করণগুলির জন্য APKs ডাউনলোড করতে পারেন।

  2. কম্পিউটারে ড্রয়েডক্যাম অ্যাপ ইনস্টল

    আপনার উইন্ডোজ ১০ পিসিতে, ড্রডক্যাম ডাউনলোড পেইজ দেখুন এবং উইন্ডোজ ক্লায়েন্ট সফ্টওয়্যারটি ডাউনলোড করুন। আপনি যদি লিনাক্স মেশিন ব্যবহার করেন তবে একটি লিনাক্স ক্লায়েন্টও রয়েছে। ইনস্টলেশন ফাইলটি চালু করে ইন্সটল করে ফেলুন।
    বিঃদ্রঃ আপনার অ্যান্ড্রয়েডের জন্য আপনি যে আইপি ওয়েবক্যাম অ্যাপটি বেছে নিয়েছেন তা যদি উইন্ডোজ ক্লায়েন্ট সফ্টওয়্যার না থাকে তবে আইপি ক্যামেরা অ্যাডাপ্টার ইনস্টল করুন। এটি সর্বজনীন আইপি ক্যামেরা ড্রাইভার যা আপনার অ্যান্ড্রয়েডের আইপি ওয়েবক্যাম অ্যাপের সাথে সংযুক্ত হবে এবং এটি স্কাইপ বা জুমের মতো সফ্টওয়্যারটিতে একটি সিস্টেম ওয়েবক্যাম হিসাবে কাজ করবে।

  3. সিলেট ড্রয়েডক্যাম

    ইনস্টলটি শেষ হয়ে গেলে, স্টার্ট মেনুতে ড্রয়েডক্যাম টাইপ করুন এবং ড্রয়েডক্যাম ক্লায়েন্টটি নির্বাচন করুন। স্ক্রিনটি দেখুন।

  4. এন্ডয়েডে ড্রয়েডক্যাম চালু করুন

    এখন, আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ফিরে, ড্রয়েডক্যাম অ্যাপ্লিকেশনটি চালু করুন। প্রথম স্ক্রিনে, নেক্সেটে ক্লিক করে গট ইট ক্লিক করুন। আপনার ক্যামেরাটি ব্যবহারের অনুমতি সহ ড্রয়েডক্যাম সরবরাহ করার এক্সেস দিন।

  5. ড্রয়েডক্যাম মেইন স্ক্রিন

    শেষে, আপনি ড্রয়েডক্যামের মূল স্ক্রিন দেখতে পাবেন যাতে আপনার ফোনের আইপি ঠিকানা এবং ড্রয়েডক্যাম সফ্টওয়্যারটি ব্যবহার করছে এমন পোর্ট নম্বর দেখা যাবে। এই মানগুলির একটি নোট করে ফেলুন।ওয়েবক্যাম এপ

  6. ডিভাইস আইপি সেট

    আপনার উইন্ডোজ ১০ পিসিতে, ডিভাইস আইপি ফিল্ডে আপনার অ্যান্ড্রয়েডের আইপি এড্রেস এবং ড্রয়েডক্যাম পোর্ট বক্সে পোর্ট নম্বর টাইপ করতে হবে। আপনি যদি ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের জন্য আপনার ফোনের মাইক্রোফোন ব্যবহার করতে চান তবে অডিও চেকবক্সটিও সিলেক্ট করুন। স্টার্ট বাটনে ক্লিক করে শুরু করুন। ওয়েবক্যাম সেটাপ স্টেপ ৬

  7. এরপর

    কানেকশনটি চালু হয়ে গেলে, আপনি আপনার পিসির ড্রয়েডক্যাম ক্লায়েন্ট সফ্টওয়্যারটির মধ্যে আপনার ফোনের ক্যামেরা থেকে ভিডিও দেখতে পাবেন।ওয়েবক্যাম সেটাপ ধাপ ৭

  8. ভিডিও কনফারেন্সিং কিভাবে?

    স্কাইপের মতো ভিডিও কনফারেন্সিং সফ্টওয়্যারটিতে আপনার ফোনটি ওয়েবক্যাম হিসাবে ব্যবহার করতে, আপনার পছন্দের সফ্টওয়্যারটি চালু করুন। আপনার ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ্লিকেশনে ভিডিও সেটিংসে যান এবং ক্যামেরা অপশনে ড্রয়েডক্যাম সোর্স থেকে যেকোন একটি সোর্স সিলেক্ট করুন।ওয়েবক্যাম সেটাপ ধাপ ৮

  9. ড্রয়েডক্যাম ভার্চুয়াল অডিও

    আপনি যদি নিজের ফোনের মাইক্রোফোনটিকে আপনার ভিডিও কনফারেন্সিং মিক হিসাবে ব্যবহার করতে চান তবে অডিও সেটিংয়ে স্ক্রোল করুন এবং কমিউনিকেশন ডিভাইসের তালিকা থেকে ড্রয়েডক্যাম ভার্চুয়াল অডিও সিলেক্ট করুন।ধাপ ৯

  10. শেষে যা করতে হবে

    এখন আপনি ভার্চুয়াল কনফারেন্সিং শুরু করতে পারেন এবং আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি আপনার কনফারেন্সিং-র ভিডিও এবং অডিও দুটোর কাজই করবে।

ভিপিএন কেন প্রয়োজন?

আপনার ফোনটি কেন ওয়েবক্যাম হিসাবে ব্যবহার করবেন?

আপনার ভিডিও কনফারেন্সিং-র জন্য ওয়েবক্যাম হিসাবে ফোন ব্যবহার করা খুব সুবিধাজনক। আপনি কোনও মিটিং করার সময়ও এটি আপনাকে আপনার ডেস্কটপ থেকে দূরে থাকার সুবিধা দেয়। আপনি যদি আপনার অ্যান্ড্রয়েডে মাইক্রোফোনটি চালু করে থাকেন তবে আপনি যেখানেই থাকুন না কেন মিটিং-এ অংশগ্রহণকারীদের দেখতে এবং চ্যাট করতে পারবেন।

অ্যাপল এখন দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কোম্পানি হিসেবে দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁয়েছে অ্যাপল।  শেয়ারের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অ্যাপলের মার্কেট ক্যাপিটাল এখন ১ দশমিক ৫২ ট্রিলিয়ন ডলার।

শেয়ারের দাম ২ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় অ্যাপলের একটি শেয়ারের মূল্য এখন ৩৫২ ডলার (২৯ হাজার ৫৬৮ টাকা)।

২০১৮ সালে এক ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে অ্যাপল। আগামী ৪ বছরের মধ্যে দুই ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক জায়ান্ট অ্যালফাবেট, সফট জায়ান্ট মাইক্রোসফট ও ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন এর আগে এক ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানির তালিকায় নাম লেখায়। তাদের সবাইকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এলো অ্যাপল।

টেক জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর মধ্যে শুধু ফেইসবুক ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হওয়ার দৌঁড়ে পিছিয়ে আছে।